আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

ক্রীড়া ডেস্ক ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

print
আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

নিজ ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলেন আফগানিস্তান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদ। অভিযোগ করে তিনি বলেন, খেলার জন্য যথেষ্ট ফিট থাকা সত্ত্বেও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) ষড়যন্ত্র করে তাকে চলমান বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছেন।

মেগা এই ইভেন্টের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচে হাঁটুতে আঘাত পান শেহজাদ। তবে টুর্নামেন্টে দলের প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১ ও ৪ জুন অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন। ৮ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আয়োজকরা জানায় ‘হাঁটুর ইনজুরির’ কারণে টুর্নামেন্টের বাকি সময় থেকে শেহজাদ নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) কাবুল থেকে টেলিফোনে ৩২ বছর বয়সী শেহজাদ বলেন, ‘আমি এখনো জানি না খেলার জন্য যথেষ্ট ফিট থাকা সত্ত্বেও কেন আমাকে প্রত্যাহার করা হলো। বোর্ডের অভ্যন্তরের কিছু লোক আমার বিরদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। কেবল টিম ম্যানেজার, ডাক্তার এবং অধিনায়কই জানতেন যে আমার বদলি হিসেবে কাউকে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোচ ফিল সিমন্সও অনেক পরে বিষয়টা জানতে পেরেছেন। এটা ছিল অত্যন্ত বেদনার।’

আক্রমণাত্মক এই ওপেনার বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমি মাত্র অনুশীলন শেষ করে আমার ফোন হাতে নিয়ে ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের সংবাদটি পেয়েছি। টিম বাসের কেউই এ বিষয়ে জানত না এবং আমার মতো তারাও এই সংবাদে কষ্ট পেয়েছে।’

রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীসহ আফগানিস্তানের তারকা খেলোয়াড়দের একজন শেহজাদ। সবাই প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজিত হওয়ার আগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে আফগানিস্তান। শেহজাদের নাম প্রত্যাহারকে একটা বড় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন অধিনায়ক গুলবদিন নাইব। তবে গত দুই-তিন সপ্তাহ যাবৎ হাঁটুর সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তারা একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলা টিনেজার ইকরাম আলী খিলকে তার বদলি হিসেবে ডাকতে বাধ্য হয়েছেন।

শেহজাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এসিবি প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান কার্যত ফিট ছিলেন না, তাছাড়া মাঠে নিজের সেরাটা দিতে পারছিলেন না।’

তিনি পিটিআইকে বলেন, ‘সে যা বলছে তা সম্পূর্ণ ভুল। যথার্থ ডাক্তারি রিপোর্ট আইসিসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং কেবল তারপরই তার বদলি হিসেবে একজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দল একজন আনফিট খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামতে পারে না। আমি বুঝতে পারছি বিশ্বকাপ দলে আর থাকতে না পেরে সে হতাশ হয়ে পড়েছে। তবে দল কারও ফিটনেসের সঙ্গে আপস করতে পারে না।’

পাকিস্তান ম্যাচের পর তার হাঁটুর অবস্থা খারাপ ছিল বলে স্বীকার করেন শেহজাদ। তবে দুই তিন দিন বিশ্রামের পর তিনি ভালো বোধ করছিলেন। শেহজাদ বলেন, ‘আমার হাঁটুতে কিছু সমস্যা ছিল, এখনো আছে। তবে একটু বরফ ঘষলে ভালো হয়ে যায়। পাকিস্তান ম্যাচের পর আমি যথোপযুক্ত বিশ্রাম নিয়েছি এবং পুনরায় খেলার জন্য ফিট ছিলাম। ম্যানেজারের কাছ থেকে এ দুঃখজনক খবর শোনার আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার অপেক্ষায় ছিলাম।’