বইয়ের কেজি ৫০ টাকা

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

বইয়ের কেজি ৫০ টাকা

লাবু হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

print
বইয়ের কেজি ৫০ টাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো একটা চাকরির স্বপ্নে ভাসেন। তাই একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকেন তারা। খোঁজেন যুঁতসই বই। ইদানীং বইয়ের দাম বেশ চড়া। ফলে নতুন নতুন বই কিনতে হাঁফিয়ে ওঠেন অনেকেই। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এসব শিক্ষার্থীর জন্য বইয়ের জোগান দিচ্ছে রাজশাহীর ‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরি’। নামের সঙ্গে কাজেও তারা বেশ ব্যতিক্রম। প্রয়োজনীয় সব বই এখানে বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে।

রাজশাহী শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার থেকে একটু পশ্চিমে ঢুকে হাতের বামদিকে দেখা যাবে ‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরি’র ব্যানার। ব্যানারের পাশে গলি ধরে এগুলেই চোখে পড়বে লাইব্রেরিটি। যেখানে করোনার আগে বইয়ের কেজি ছিল মাত্র ৬০ টাকা, আর মাসের শেষ দিনে ছিল ৩০ টাকা কেজি। তবে বর্তমানে বইয়ের কেজি এক’শ টাকা এবং মাসের শেষ দিনে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সেই লাইব্রেরিতে তাদের পছন্দের বই খুঁজতে ব্যস্ত। বই প্রিয় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ধরে তাদের প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করার পর দোকানে রাখা ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে নিচ্ছে।

রাবির চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমি প্রায়ই বই কিনতে আসি এই দোকানে। এখানে এসে পছন্দের বই নিয়ে যাই। অল্প টাকায় বেশ ভালো বই পাওয়া যায়।’ ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ আবেদিন বলেন, ‘আমি একাডেমিক বই কিনতে এসেছিলাম। বেশ কিছু বই পেলাম। অন্যান্য লাইব্রেরিতে যে বইগুলো বেশি দামে কিনতে হয়, তা এখান থেকে অনেক সস্তায় পেয়েছি।’

বই বিক্রেতা মো. মিজানউদ্দিন জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বই কিনতে আসে, সকালের তুলনায় বিকেলে বেশি ভিড় জমে দোকানটিতে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে বইয়ের গ্রাহক কিছুটা কম থাকলেও করোনাকালের পূর্বে অনেক সময় বই কেনার জন্য দোকানের সামনে শিক্ষার্থীদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কী ধরনের বই পাওয়া যায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখানে গল্প, উপন্যাস, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, চাকরি-ভাইবা, ব্যাংক জবসহ ব্যবসা অনুষদের বইগুলো বেশি পাওয়া যায়।’

কথা হয় দোকানের মালিক মো. বদরউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের উদ্দেশে তিনি লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজশাহী শহরসহ বিভিন্ন পুরাতন লাইব্রেরি থেকে তিনি এসব বই সংগ্রহ করেন। পরে বইগুলোর প্রতি কেজি এক’শ টাকা এবং মাসের শেষ দিনে ৫০টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের বই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সময় ও শ্রমের অপচয় কমাতে বর্তমানে লাইব্রেরীর ২টি শাখা আছে। মূল লাইব্রেরি থেকে ভালো মানের বইগুলো বাছাই করে অপর শাখায় রাখা হয়।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। একাডেমিক অথবা চাকরির প্রস্তুতির জন্য অনেক বই প্রয়োজন যা একজন গরিব শিক্ষার্থীর পক্ষে কেনা কষ্টকর। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় এসব বই ব্যতিক্রম লাইব্রেরিতে পাওয়া যাচ্ছে এটা খুবই ভালো একটা বিষয়। এই উদ্যোগটি রাবিতে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।