স্মরণকালে সেরা ভূমিকায় পুলিশ

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

স্মরণকালে সেরা ভূমিকায় পুলিশ

আলতাফ হোসেন ২:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

print
স্মরণকালে সেরা ভূমিকায় পুলিশ

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একের পর এক সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মানুষ যখন করোনা আতঙ্কে ঘরে, পুলিশ তখন সব ভয় উপেক্ষা করে বাইরে সামলেছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা, আস্থা, বিশ্বাসে ভর করে মানবিক কাজ করে চলেছেন প্রতিটি সদস্য। আর এ কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, জীবনও দিয়েছেন পুলিশের অনেক সদস্য। সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একের পর এক সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মানুষ যখন করোনা আতঙ্কে ঘরে, পুলিশ তখন সব ভয় উপেক্ষা করে বাইরে সামলেছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা, আস্থা, বিশ্বাসে ভর করে মানবিক কাজ করেছে। এ কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন পুলিশের অনেক সদস্য। 

বৈশ্বিক মহামারী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ১৫ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. বেনজীর আহমেদ। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি একজন মানুষ হিসেবেও নানামাত্রিক মানবিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। ড. বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের মানবিক ভূমিকা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। শুধু পুলিশ সদস্যদের নয়, দেশের জনগণকেও এই মহামারীর কবল থেকে রক্ষায় তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ড. বেনজীর আহমেদ কোয়ারান্টিনে ও আইসোলেশনে থাকা পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর রেখেছেন। তাদের জন্য পাঠিয়েছেন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিকারক ভিটামিন, ওষুধপত্র, ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার। সময়োপযোগী এসব ব্যবস্থাপনা, পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করতে বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাঝেও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রেখেছেন পুলিশপ্রধান। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিক, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তসহ দুস্থদের নীরবে নিভৃতে সাহায্য করেছেন তিনি।

পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা করোনায় শুধু কোয়ারেন্টিন বা লকডাউনই বাস্তবায়ন করেছেন তা নয়, অসহায় মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সেবা- শুশ্রুষা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজনরা এগিয়ে না এলেও পুলিশ সদস্যরা তাদের জানাজা, দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছেন। পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বের পাশাপাশি এসব করেছেন নিজেদের মানবিক মূল্যবোধের তাগিদ থেকে। এসব করতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে পুনরায় কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন মানুষের পাশে থাকার নিরন্তর প্রেরণায়। অন্যদিকে করোনায় প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ৭২ সদস্য।

পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে পুলিশ সদস্যদের জন্য সুরক্ষাসামগ্রী কিংবা কোনো প্রস্তুতি ছিল না। ফলে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পুলিশের অনেক সদস্য আক্রান্ত হন। পরবর্তী সময়ে আইজিপির নির্দেশনায় সারা দেশে দ্রুততম সময়ে ২ লাখ পুলিশ সদস্যের জন্য মাস্ক, গ্লাভস, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পুলিশ সদস্যদের মনোবল ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক তদারকিও করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ফলে আক্রান্ত ও মৃত্যু হার অনেকটাই কমে আসে। সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের।

করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল। সীমিত সম্পদ ও অপ্রতুল লোকবল। এত সব অপূর্ণতার মাঝেও হাসপাতালটি এগিয়ে চলছে। হাসপাতালটিতে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন রক্ষা করে কোভিড-১৯-এর চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়। চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। শুরু থেকেই হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উচ্চমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। করোনা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দেওয়া হয় মৌসুমি রসালো ফল ও পুষ্টিকর খাবার। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনোবল চাঙ্গা রাখতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালটির অনেক স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধজয়ের প্রত্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। সেবাদানের পাশাপাশি সুস্থ হওয়া মানুষের প্লাজমা সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল।

পুলিশ হাসপাতালে আন্তরিক সেবা
করোনা শুরুর পর থেকেই হাজারো অভিযোগ বিভিন্ন হাসপাতালের বিরুদ্ধে। তবে এসবের বাইরে ব্যতিক্রম কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল। শুধু ব্যবস্থাপনার গুণেই মডেলে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি। বিশাল এই বাহিনীর হাজারো সদস্যের সেবা দিতে পুরো হাসপাতালই তৎপর। প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ে থাকা কর্মকর্তাদের এমন আন্তরিক পদচারণাতেই হাসপাতালের পুরো চিত্র পাল্টে গেছে বলে মনে করেন রোগীরা। করোনা শুরুর কিছুদিন পর থেকেই প্রতিদিন নিয়ম করে ফুলেল বিদায় জানানো হয় রোগীদের। এ সময়ের অবহেলিত পুলিশ হাসপাতাল তাই করোনাকালে পরিণত হয়েছে রোল মডেলে।

জানা গেছে, শুরু থেকেই হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য উচ্চমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। করোনা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দেওয়া হয় মৌসুমি রসালো ফল ও পুষ্টিকর খাবার। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনোবল চাঙ্গা রাখতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালটির অনেক স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধজয়ের প্রত্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। সেবাদানের পাশাপাশি সুস্থ হওয়া মানুষের প্লাজমা সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল।

অসহায়ের ভরসা ডিআইজি হাবিবুর রহমান
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান নানা গুণে গুণান্বিত। চাকরিজীবনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করারও অনেক উদাহরণ রয়েছে তার। করোনাকালে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যখন স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে মফস্বল-গ্রামমুখো হয়েছে মানুষ। তিনি চৌকস টিম নিয়ে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া-আসার পথে তৈরি করেন শক্ত ব্যারিকেড। নিজেই রাস্তায় মানুষকে চমৎকারভাবে বুঝিয়ে সফলভাবে ফেরান যার যার অবস্থানে। পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি হাবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’ করোনা দুর্যোগের শুরু থেকেই সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অতি আপনজন হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। নি¤œ আয়ের মানুষ, গ্রাম পুলিশ, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়, যৌন পল্লীর সবাইকে সাহায্যের আওতায় এনেছেন ডিআইজি হাবিব।

চাঁদপুরে মৃত নারীর কবর খোঁড়েন এএসপি
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাজীগঞ্জের দক্ষিণ রাজারগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ফাতেমা (৪০) মৃত্যুবরণ করেন।

জানা যায়, ফাতেমা জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদর হাসপাতালে আসেন। তার অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করেন। ভর্তির দেড় ঘণ্টার মাথায় তিনি মারা যান।

রাতেই তাকে কবর দেওয়ার জন্য মৃতদেহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁওয়ে আনা হয়। এ সময় লাশ পড়ে থাকলেও কবর খোঁড়া হয়নি। করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেনি কেউ। এমনকি কবরস্থানে জায়গা দিতেও অনীহা ছিল বাড়ির লোকজনের। অবশেষে ফাতেমার কবর খোঁড়ার জন্য চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফজাল হোসেন নিজেই কোদাল হাতে তুলে নেন এবং কবর খুঁড়তে শুরু করেন। কবর খোঁড়া শেষে রাত ৩টায় জানাজার পর ফাতেমার মৃতদেহ দাফন করা হয়।

ভ্যান চালিয়ে লাশ থানায় নেন রুবেল
গাজীপুর মহানগরের সাইনবোর্ড এলাকায় এক পথচারীর মৃত্যুর পর করোনাভাইরাস সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রুবেল মিয়া এগিয়ে আসেন। তিনি নিজে ভ্যান চালিয়ে বৃদ্ধের মরদেহ থানায় নিয়ে যান। মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) রুবেল মিয়াকে পুরস্কৃত করেন।

রুবেল মিয়া জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন তিনি করছিলেন। এ সময় একজন বয়স্ক লোককে (৬২) রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে দেখতে পান লোকটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আশপাশে কিছু মানুষ চলাচল করলেও ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সন্দেহে’ কেউ লাশের পাশে আসেননি। পরে মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়ি খুঁজতে থাকেন।

রাত বেশি হওয়ায় কোনো গাড়ি না পেয়ে একজন ভ্যানচালককে লাশটি থানায় নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ভ্যানচালক তার ভ্যানে লাশ না তোলার জন্য অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে রুবেল বৃদ্ধের লাশ একাই ভ্যানে তোলেন। কিন্তু ভ্যানচালক লাশ বহনে অস্বীকৃতি জানান। এরপর রুবেল নিজেই ভ্যানটি চালিয়ে থানায় নিয়ে যান।

লাশ দাফনে জমি দান পুলিশ কর্মকর্তার
করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফনে নিজের জমি দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন পুলিশের সিনিয়র এএসপি (সিআইডি) এনায়েত করিম রাসেল। নিজ এলাকা মানিকগঞ্জে পারিবারিক ও বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য বছরখানেক আগে তিনি জেলা শহরের নওখণ্ডা মৌজায় ১০ শতাংশ জমি কিনেছিলেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি এই জায়গা ব্যবহার করার ঘোষণা দেন। এছাড়াও তিনি দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে ইফতার এবং সেবাতরী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানিকগঞ্জে ভিক্ষুক, কর্মহীন, অসহায়, দুস্থ, পাগল, ভবঘুরে, বৃদ্ধ, গরিব মানুষের জন্য প্রতিদিন ১০০ জনের খাবার বিতরণ করে আসছেন।

এমন উদ্যোগের বিষয়ে এনায়েত করিম রাসেল জানান, বেওয়ারিশ লাশ দাফনের চিন্তা থেকে গত বছর জমিটা কিনেছি।

করোনার আক্রমণের পর দেখতে পাই অনেক জায়গায় লাশ দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা দেখে খুব কষ্ট লাগল। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এখানে চাইলে যে কেউ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে করোনার রোগী বা বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধার চিতায় আগুন দেন পুলিশ কর্মকর্তা
মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তী ওরফে ভানু (৬৫) ফরিদপুর শহরের নিলটুলীর বাসিন্দা। যুবক বয়সে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেশ-মানবতা-নিজ ধর্ম (সনাতন) মন্দিরের সেবা করে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তার নিজের লাশ দাহ করতে এগিয়ে আসেননি তার সম্প্রদায়ের একজন মানুষও। হাসপাতাল থেকে মরদেহ কে ছাড়িয়ে আনবে? কে করবে দাহ? পরিবারের বাকি সদস্যরাও করোনা আক্রান্ত। শেষ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম কয়েক পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই চিতা সাজিয়ে দাহ কাজ সম্পন্ন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাহ কাজে বাধা দেওয়ার খবর শুনে তিনি শ্মশানে পৌঁছান। পরে পুলিশের আরও কয়েক সদস্যের সহায়তায় দাহ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সেখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

রংপুরে নানামুখী কর্মকাণ্ডে পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার
মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানার পর প্রতিরোধে রংপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে নানামুখী কর্মকা- পরিচালনা করেন পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার।

স্বীকৃতিস্বরূপ পঞ্চম বারের মতো রংপুর রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি। করোনা প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে জেলার অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও থেমে থাকেনি করোনা প্রতিরোধে কার্যক্রম।

করোনার ভয়াবহতা ও প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে প্রচারপত্র বিতরণ, বিভিন্ন হাট-বাজারে গ্রামে-গঞ্জে ও শহরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের সদস্য মাইকিং করে মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধের জন্য সামাজিক দূরত্ব মানতে উৎসাহিত করা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মসজিদের মাইক ব্যবহার করা, লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনী জেলা ও প্রশাসকসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন।

এছাড়া হাওর অঞ্চলের ধানকাটতে কৃষি শ্রমিক পাঠাতেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় রংপুর থেকে প্রায় ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো খাদ্য সংকটে পড়লে জেলা পুলিশের উদ্যোগে তাদের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করেছেন।

চট্টগ্রামে পুলিশের ‘ডোর টু ডোর শপ’
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে ঘরে রাখতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ দোকান ‘ডোর টু ডোর শপ’ চালু করা হয়। নগরবাসীকে যাতে ঘর থেকে বের হতে না হয় সেজন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেয় পুলিশ।

জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে মানুষ ঘরে অবস্থান করছিলেন, করোনা সংক্রমণের ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না। অনেকের ঘরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র শেষ হয়ে গেলেও তারা সেগুলো সংগ্রহ করতে পারছিলেন না। ফোন পেয়ে এ ধরনের কয়েকটি বাসায় বাজারও করে দিয়েছে পুলিশ।

এসব বিষয় চিন্তা করে ডোর টু ডোর শপ চালু করে সিএমপি। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, ভ্রাম্যমাণ এই দোকান প্রতিটি এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি করে। যেখানে খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব জিনিস পাওয়া যায়। এ ছাড়া কেউ ফোন দিলে ওই এলাকায় পৌঁছে যায় এই দোকান।