গৌরবের গোপালগঞ্জ

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গৌরবের গোপালগঞ্জ

রুপসী বাংলা ডেস্ক ১২:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২০

print
গৌরবের গোপালগঞ্জ

ইতিহাস ঐতিহ্যের তীর্থভূমি গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জ-বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ যেন একই সুতোয় কয়েকটি ফুল নিয়ে গাঁথা একটি মালা। ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিল-ঝিল আর প্রাকৃতিক শোভায় সুশোভিত এই গোপালগঞ্জ জেলায় যে সকল দর্শনীয় স্থান রয়েছে তার মধ্যে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি, ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি, জমিদার গিরীশ চন্দ্র সেনের বাড়ি, অন্যন্যা চন্দ্র ঘাট, বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, বিলরুট ক্যানেল, উলপুর জমিদার বাড়ি, মধুমতি বাঁওড় ও সখীচরণ রায়ের বাড়ি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন

বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ
গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাদপুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধটি (Mausoleum of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman) অবস্থিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামময় বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করে। ১৯৯৯ সালের ১৭ মার্চ সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ এই সমাধি সৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সমাধি সৌধের উদ্বোধন করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাইগার নদীর পাড়ে প্রায় ৩৯ একর জমির ওপর প্রতœতত্ত্ব বিভাগ বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ নির্মাণ করে।

গ্রিক স্থাপত্য শিল্পরীতির ছোঁয়ায় লাল সিরামিকের ইট এবং সাদা-কালো টাইলস যেন হয়ে উঠেছে বেদনার প্রতীক। কমপ্লেক্সের সামনের উদ্যান পেরিয়ে গেলেই বঙ্গবন্ধুর কবর চোখে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর কবরের পাশেই রয়েছে তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের কবর। আর এই তিন কবরকে ঘিরেই মূল টম্ব নির্মাণ করা হয়েছে। সমাধি সৌধের ওপরে সাদা পাথরের তৈরি গোলাকার একটি গম্বুজ রয়েছে।

জমিদার গিরীশ চন্দ্রের বাড়ি
গোপালগঞ্জ জেলার ভাটিয়াপাড়ায় মধুমতি নদীর তীরে ঐতিহাসিক গিরিশ চন্দ্র সেনের জমিদার বাড়ি (Zamindar Girish Chandra Sens House) অবস্থিত। জমিদার গিরীশ চন্দ্র সেন কত সালে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। ইংরেজি ট বর্ণের প্যাটার্ণে তৈরি দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ির মাঝের অংশটিতে একটি দ্বিতল ভবন এবং দুইপাশে একতলা ভবন রয়েছে। দোতলার অংশে রয়েছে দুইটি কক্ষ ও দুইটি বারান্দা। তিন দিকে প্রাচীর বেষ্টিত জমিদার বাড়ির বামপাশে একটি মন্দির ও ডান পাশে ছনের তৈরি একটি কাছারি ঘর ছিল। মূল ভবনের পেছনের দিকে থাকা তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনটি রন্ধনশালা হিসেবে ব্যবহৃত হত। প্রচুর বৃক্ষরাজিতে ঘেরা জমিদার বাড়িতে আছে একটি পুকুর, যা জমিদার গিরীশ চন্দ্র সেন স্থানীয় জনগণের জন্য খনন করেছিলেন।

শেখ রাসেল শিশুপার্ক
শেখ রাসেল শিশু পার্ক (ঝযবরশয জধংবষ ঝযরংযঁ চধৎশ) গোপালগঞ্জ জেলায় টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। মধুমতী নদীর তীরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে গড়ে ওঠা এই পার্কটি সব বয়সী মানুষকে সমানভাবে আকৃষ্ট করে। তাই প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণায় শেখ রাসেল শিশু পার্ক মুখর হয়ে উঠে। প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত শেখ রাসেল শিশু পার্কে ১৪টিরও বেশি বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে। এদের মধ্যে মেরীগো রাউন্ড, ওয়ান্ডার হুইল, মাল্টি সøাইড, প্যাডেল বোর্ট, স্প্রীং কার, দোলনা ও ফ্লাইবার অন্যতম। শেখ রাসেল শিশু পার্ক প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

লাল শাপলার বিল
গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য বিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মূলত বিলগুলোর বেশিরভাগই হচ্ছে এক ফসলি জমি। এই জমিতে শুধুমাত্র বোরো মৌসুমেই ধান চাষ করা হয়।

বর্ষাকালে এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন এসব বিলে প্রাকৃতিকভাবে শোভা ছড়ায় অসংখ্য লাল শাপলা। আর এই বিলগুলোকেই লাল শাপলার বিল (Lal Shapla Bill) বলা হয়।

বর্ষায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার প্রায় ২৫টি বিল হাজারো লাল শাপলার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। তবে ১৯৮৮ সালের আগে এসব বিলে শুধুমাত্র সাদা-সবুজ শাপলা দেখা যেত কিন্তু ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে এই বিলগুলো লাল শাপলায় ভরে ওঠে।

এ এক অপূর্ব দৃশ্য! যা চোখে না দেখলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। লাল শাপলার বিল একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে অন্যদিকে বর্ষাকালে কর্মহীন দরিদ্র মানুষের আয়ের উৎস হয়ে ওঠে এই লাল শাপলা।

বিল রুট ক্যানেল
বিল রুট ক্যানেল (Bill Root Canal) মাদারীপুর-গোপালগঞ্জ মহাসড়ক ও আড়পাড়া মুন্সীবাড়ির পাশ দিয়ে সরল পথে প্রবাহিত একটি ঐতিহবাহী খাল। বিল রুট ক্যানেলের মাধ্যমে টেকেরহাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ ও মধুমতি নদী একত্রে মিলিত হয়েছে। এছাড়া মাদারীপুর জেলার বেশিরভাগ ছোট বড় খাল ও জলাভূমি বিল রুট ক্যানেলের মাধ্যমে একীভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা এই খালকে মাদারীপুর বিল রুট বলে থাকেন। স্যার আরথার কটন ১৮৫৮ সালে বিল রুট ক্যানেল খননের প্রস্তাব উপস্থাপন করলেও ১৮৯৯ সালে এই খালের খনন শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে এটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক বাড়ি
‘ছাড়পত্র’ খ্যাত সুকান্ত ভট্টাচার্য রবীন্দ্র-নজরুলোত্তর যুগের তরুণ কবি। যিনি বিপ্লবী কবি এবং গণজাগরণের কবি। যিনি সমাজতন্ত্রের আদর্শের কবি। যিনি চে গুয়েভারার মতো বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন। সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতেন।

যিনি নজরুলের মতোই তার কাব্যে উচ্চারণ করে গেছেন অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সংগ্রামের শব্দমালা। যিনি বিপ্লব ও গণমানুষের মুক্তির পক্ষের সংগ্রামে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বারবার। লড়াকু সৈনিকের মতো কাজ করেছেন প্রলেতারিয়েত জনগোষ্ঠীর ও কৃষক-শ্রমিকের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে।

এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাওয়ার প্রত্যয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা কবি। বন্দিত্ব মোচনের লক্ষ্যে তিনি ছিলেন অগ্নিরথের সারথি, উদ্দীপ্ত যৌবনের অগ্রপথিক।

সুকান্তের পৈতৃক নিবাস (Sukanta Bhattacharyas House) গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনাশিয়া গ্রামে। তার জন্ম ১৯২৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিট মাতুলালয়ে। জন্মের সময়ে তার পিতা চাকরি করতেন মাদারীপুরে ডাক বিভাগে। আর তখন কোটালীপাড়া ছিল বাকেরগঞ্জ জেলার (বর্তমান বরিশাল) মাদারীপুর মহকুমার একটি থানা। পরে মাদারীপুর মহকুমা ফরিদপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত হয়। আর কোটালীপাড়া থানা অন্তর্ভুক্ত হয় গোপালগঞ্জ মহকুমার সঙ্গে। বর্তমানে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর পৃথক পৃথক পূর্ণাঙ্গ জেলায় পরিণত হয়েছে।

আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি
গোপালগঞ্জ জেলার আড়পাড়া গ্রামে বিল রুট ক্যানেল খালের কাছে আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি (Arpara Munsi Bari) অবস্থিত। প্রায় ৫০ বছর থেকে ৬০ বছর পুরাতন দোতলা এই বাড়িটি স্থানীয়ভাবে মর্যাদাসম্পন্ন ও প্রভাবশালী মুন্সী পরিবার তৈরি করেন। আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং বাড়ির মালিক অন্যত্র বসবাস করছেন। আড়পাড়া মুন্সীবাড়ির ভগ্নদশাও তৎকালীন সময়ের আভিজাত্যকে মনে করিয়ে দেয়। অবহেলায় দরজা জানালাহীন বাড়ির বিভিন্ন অংশে গজিয়ে উঠেছে ছোট বড় গাছপালা। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত বাড়িটি নানা প্রজাতি পাখি ও হাজার হাজার বাদুড়ের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

মধুমতি বাঁওড়
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে মধুমতি বাওড় (Modhumoti Baor) অবস্থিত। কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা, ধানকোড়া, রাতইল, চাপ্তা, ঘোনাপাড়া, পরানপুর, সুচাইল, তারাইল, পাংখার চর ও চরভাটপাড়া মৌজা জুড়ে মধুমতি বাঁওড়ের অবস্থান।

উলপুর জমিদারবাড়ি
গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে উলপুর গ্রামে প্রাচীন বাংলার জমিদারদের শৌর্যবীর্য এবং আভিজাত্যের সাক্ষী উলপুর জমিদার বাড়ি (Ulpur Zamindar Bari) অবস্থিত। জানা যায়, উলপুরের জমিদাররা একশত ঘর শরীক ছিলেন। ১৯০০ শতকে জমিদার প্রীতীশচন্দ্র রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ একর জায়গা জুড়ে উলপুর জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। কালের আবর্তে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও তৎকালীন জমিদার কর্তৃক নির্মিত ভবনগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে স্বগর্বে টিকে আছে। উলপুর গ্রামে জমিদারির কাজে ব্যবহৃত ৮টি দোতলা দালান সহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে। এসব ভবনগুলো বর্তমানে উলপুর তহশীল অফিস, সাব পোষ্ট অফিস, পুরনো ইউনিয়ন বোর্ড অফিস, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পুরনো সরকারি শিশু সদন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫)
জন্ম ১৭ মার্চ, ১৯২০। জন্মস্থান- টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ। পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান। মাতার নাম শেখ সাহেরা খাতুন। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদারীপুর ইসলামিয়া হাই স্কুল, গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল এবং মথুরানাথ বাবুর মিশন স্কুলে। তিনি ১৯৪২ সালে প্রবেশিকা পাস করেন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ হতে বি,এ পাস করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গ্রেফতার হন। এরপর দেশে খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে কারাগারে থেকেই জোর সমর্থন দেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তিনি প্রাদেশিক সরকারের কৃষি, বন ও সমবায় মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রী সভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম ও দুর্নীতি দফতরের মন্ত্রী হন। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি হলে তিনি গ্রেফতার হন। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে বাঙালির স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন। ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ নামে এক মামলায় পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশের ছাত্র-জনতা। ৬৯-এর গণ-আন্দোলনের চাপে ২২ ফেব্রুয়ারি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন।

শামছুল হক ফরিদপুরী (ছদর সাহেব) (১৮৯৮-১৯৬৯)
তিনি টুঙ্গিপাড়া থানাধীন পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মো: আব্দুল্লাহ সাহেব এবং মাতা মরহুম আমেনা খাতুন। তিনি প্রখ্যাত আলেম, দার্শনিক, গবেষক, সংস্কারক, সত্য ও ন্যায়ের প্রচারক ছিলেন। দারুল উলুম খাদেমুল ইসলাম গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৯ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৫-১৯৪৭)
জন্ম কলকাতায়। পৈতৃক নিবাস কোটালীপাড়ার উনশিয়া গ্রামে। সাম্যবাদী ও মানবতাবাদী কবি। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। রচিত গ্রন্থ ছাড়পত্র (১৩৫৪), ঘুম নেই (১৩৫৭), পূর্বাভাষ (১৩৫৭), অভিযান (১৩৬০), হরতাল (১৩৬৯), গীতিগুচ্ছ (১৩৭২)। এই অগ্নিঝরা কিশোর কবির কবিতা প্রকৃতপক্ষে সংগ্রামী মানুষের চিত্তচেতনার সঙ্গে নিত্য একাত্ম।
মথুরানাথ বোস (১৮৪৩-১৯০১)
খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারক, সেন্ট ও মথুরানাথ গির্জা, মথুরানাথ ইনস্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৫০ সালে তার প্রতিষ্ঠিত মিশন স্কুলের বর্ধিত জায়গায় কায়েদে আযম মেমোরিয়াল কলেজ স্থাপিত করা হয়। ১৯৭৪ সালে কলেজটি সরকারি করার সময় ‘বঙ্গবন্ধু কলেজ’ নামকরণ করা হয়। গোপালগঞ্জ শহরে শিক্ষা বিস্তারে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।
রমেশ চন্দ্র মজুমদার (১৮৮৮ জন্ম)
জন্ম মুকসুদপুরের খান্দারপাড় গ্রামে। ১৯১১ সালে ইতিহাসে এম,এ পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিযুক্ত হন। ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। ইতিহাসের ওপর বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন।

এক নজরে
ভৌগোলিক অবস্থান : প্রায় ২২০৫১ থেকে ২৩০৫০ উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৯০০ থেকে ৯০০১০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
আয়তন : ১৪৮৯.৯২ বর্গ কি.মি.
মোট জনসংখ্যা : ১১,৭২,৪১৫ জন (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে)
পুরুষ: ৫,৭৭,৮৬৮ জন; মহিলা : ৫,৯৪,৫৪৭ জন
জনসংখ্যার ঘনত্ব : ৭৮৭ জন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে)
সংসদীয় আসন সংখ্যাসমূহ : ৩টি, ২১৫ গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর- কাশিয়ানী (সিংগা, হাতিয়াড়া, পুইসুর, বেথুড়ী, নিজামকান্দি, ওড়াকান্দি, ফুকরা ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত), ২১৬ গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর- কাশিয়ানী (সিংগা, হাতিয়াড়া, পুইসুর, বেথুড়ী, নিজামকান্দি, ওড়াকান্দি, ফুকরা ইউনিয়নসমূহ), ২১৭ গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া)