দক্ষিণের দ্বার মাদারীপুর

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দক্ষিণের দ্বার মাদারীপুর

রুপসী বাংলা ডেস্ক ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

print
দক্ষিণের দ্বার মাদারীপুর

ইতিহাস ঐতিহ্যের তীর্থভূমি মাদারীপুর। নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণের দ্বার হিসেবে পরিচিত এবং পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদী বিধৌত মাদারীপুর। জেলার দর্শনীয় ও স্থানগুলোর মধ্যে মাদারীপুর শকুনি দীঘি, আউলিয়াপুর নীলকুঠি, সেনাপতির দীঘি, হাজরাপুর দরবার শরীফ, প্রাণবানন্দের মন্দির, মঠের বাজার মঠ, রাজারাম মন্দির, ঝাউদিগিড়ি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি, শাহ মাদার (র.) দরগাহ শরীফ ও কুলপদ্দি জমিদারবাড়ি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন

মাদারীপুরের মুক্তিযুদ্ধ

একাত্তরে সাতই মার্চের অনেক আগেই মাদারীপুরে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্তে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ নাজিমউদ্দিন কলেজ মাঠে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়। স্বাধীনতার প্রস্তুতির জন্য ৪ মার্চ মৌলভী আচমত আলী খানকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি। ১০ মার্চ শহরে শুরু হয় যুদ্ধের মহড়া। ২৬ মার্চ নাজিমউদ্দিন কলেজ মাঠে ছাত্র-যুবকদের নিয়ে যুদ্ধ কৌশল শেখার মহড়া ও প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। ২৪ মার্চ পাকবাহিনী এক রকম বিনা বাধায় মাদারীপুরে প্রবেশ করে। এ সময় কলেজ মাঠে প্রশিক্ষণরত ছাত্র-যুবকরা আত্মগোপনে চলে যায়।

পাকবাহিনী মাদারীপুরে প্রবেশ করেই জ্বালাও-পোড়াও, গণহত্যা ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজে মেতে ওঠে। ১৭ এপ্রিল স্টুয়ার্ড মুজিবের নেতৃত্বে ১৬৫ জন ছাত্র-যুবককে একত্রিত করে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠানো হয়। ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে জুন মাসের শেষের দিকে ২১ জনের একদল মুক্তিযোদ্ধা প্রথম মাদারীপুরে প্রবেশ করে। এইভাবে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে পর্যায়ক্রমে ফিরে এসে মাদারীপুরে কলাগাছিয়া-বাহাদুরপুর ক্যাম্প স্থাপন করে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে। পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ও সম্মুখযুদ্ধের মধ্যে উকিলবাড়ি যুদ্ধ, পাখুল্লার যুদ্ধ, কালকিনির যুদ্ধ, কমলাপুর, বাহাদুরপুর, কলাগাছিয়া, চৌহদ্দী, রাজৈর বোলগ্রাম, পাথুরিয়ারপাড়, নবগ্রাম, কলাবাড়ি, শিবচরের বাহাদুরপুর ও সমাদ্দার যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য।

১৯৭১ সালে ১৭ মে (বাংলা ১৩৭৮ সালের ২ জ্যৈষ্ঠ) শিবচর (গুয়াতলা) বরহামগঞ্জ গণহত্যার ঘটনা ঘটে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বেশ কয়েকটি গ্রাম ছিল হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এর মধ্যে গুয়াতলা ছিল ধনী হিন্দুদের বসবাস। এলাকার স্বাধীনতা বিরোধীরা বিষয়টি জানত। তারা হিন্দুদের হত্যা করে তাদের সহায় সম্পদ দখল করার জন্য আগেই নীলনকশা তৈরি করে রেখেছিল। সে সময় মাদারীপুর সদরসহ অন্য স্থান থেকে শিবচরের যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্গম। নৌপথ ছাড়া যাতায়াতের কোনো বিকল্প ছিল না। এ সুযোগটাই কাজে লাগায় হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসররা। ঘটনার দিন স্বাধীনতাবিরোধীরা মাদারীপুর সেনা হেড কোয়ার্টার (এ আর হাওলাদার জুট মিল) থেকে লঞ্চ বোঝাই করে সৈন্য নিয়ে যায়। আড়িয়ালখাঁ নদী হয়ে শিবচর উৎরাইল বন্দরের উত্তর-পূর্ব পাড় চরশ্যামাইল (শিবরায়ের কান্দি) ঘাটে নামে। ঘাটে নেমেই হানাদার বাহিনী রাজাকারদের ইশারায় চরশ্যামাইল ও তার আশপাশের এলাকায় ধ্বংসলীলা শুরু করে।

শকুনি লেক

শকুনি লেক মাদারীপুর জেলার একটি পরিচয় বহনকারী ঐতিহাসিক নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর শকুনি লেকের পরিবেশ সহজেই মনকে প্রশান্ত করে তোলে।
কাগজপত্রে ‘শকুনি লেক’ নামে পরিচিত হলেও স্থানীয়দের কাছে এই লেক ‘মাদারীপুর লেক’ হিসেবে সুপরিচিত। কয়েকশ বছর পূর্বে জনৈক রাজা প্রজাদের পানির সংকট নিরসনের জন্য শকুনি লেক খনন করেন। যা বর্তমানে মাদারীপুরবাসীর কাছে বিনোদন কেন্দ্রের চাহিদা পূরণ করে চলেছে। এখানে আছে ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম ঝর্ণা, কফি শপ, রেস্টুরেন্ট এবং বিশ্রামের জন্য ছাউনি।

বেলা গড়িয়ে যতই বিকাল হতে থাকে প্রায় ২০ একর আয়তনের এই লেকে ততই জনসমাগম বাড়তে থাকে। শহরের মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে অবসর সময় কাটাতে ছুটে আসেন এই শকুনি লেকে। আর লেকের কাছের দোকানগুলোতে সুস্বাদু মিষ্টি পাওয়া যায়, যার সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে সারা বাংলাদেশে। এছাড়াও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (যেমন- ডিসি অফিস, পুলিশ স্টেশন ইত্যাদি) গড়ে তোলা হয়েছে শকুনি লেকের কাছে।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ (২১ ভাদ্র, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ) ২৩ অক্টোবর ২০১২) বিংশ শতকের শেষার্ধে আবিভূর্ত একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। ২০১২ খিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা-ব্যক্তিত্ব হিসেবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বাঙলাভাষী এই ভারতীয় সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজগ্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তার কবিতার বহু পঙক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘নীললোহিত’, ‘সনাতন পাঠক’ ও ‘নীল উপাধ্যায়’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

মিঠাপুর জমিদারবাড়ি
মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের নাম মিঠাপুর জমিদার বাড়ি।
শিলালিপি কিংবা কোন নথিপত্র না থাকায় এই জমিদার বাড়ির নির্মাণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায়নি। জমিদার গোলাম ছাত্তার চৌধুরী, জমিদার গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং প্রফেসর জি. ডাব্লুর চৌধুরীকে এই জমিদার বংশের উত্তরসূরি হিসেবে মান্য করা হয়। মিঠাপুর জমিদারবাড়ির নির্মাণশৈলী, সূক্ষ্ম টেরাকোটার কারুকাজ এবং প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যান্য নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী মিঠাপুর আসেন। জমিদারবাড়ির পেছনের দিকে একটি শান বাঁধানো ঘাটসহ ছোট পুকুর রয়েছে।

সেনাপতির দীঘি

মাদারীপুর জেলার আমড়াতলা ও খাতিয়াল গ্রামের মধ্যবর্তী কালকিনি উপজেলায় অবস্থিত সেনাপতির দীঘি ঐতিহাসিক এক নিদর্শন। ১৬৬৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর শায়েস্তা খাঁর বড় ছেলে বুজুর্গ উমেদ খাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি ইসলাম খাঁ প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে ৬০,৭০৩ বর্গমিটার আয়তনের এই দীঘিটি খনন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সুবাদার শায়েস্তা খাঁর নেতৃত্বে উমেদ খাঁ চট্টগ্রাম থেকে মগ জলদস্যদের বিতাড়িত করে ঢাকায় আসার পথে কিছুদিন কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবর্তী আমড়াতলা ও খাতিয়াল এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। সেই সময় এলাকার জনগণদের পানির অভাব দূর করার জন্য সেনাপতি ইসলাম খাঁর সেনাবাহিনী এই দীঘিটি খনন করেন। এই কারণে দীঘিটির নামকরণ করা হয় সেনাপতির দীঘি। ছুটির দিনে প্রায় সাড়ে তিনশ’ বছরের পুরনো মোঘল আমলের এই দীঘির পাড়ে অনেক দর্শনার্থী ঘুরতে ও পিকনিক করতে আসেন।

সেনাপতি দীঘির দৈর্ঘ ২৮৮ মিটার ও প্রস্থ ১৫৭ মিটার এবং প্রতি পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার। ঐতিহাসিক সেনাপতির দীঘি নিয়ে নানা লোককথা প্রচলিত আছে। বাঁশ ঝাড়ে ঘেরা এই দীঘির পানি নাকি কখনোই শুকায় না। কথিত আছে, দীঘি খননের পর পানি না উঠায় এই স্থানে ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করা হয়।

ঘোড়দৌড়ের এক পর্যায়ে দীঘির দক্ষিণ দিক থেকে পানি উঠতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই দীঘিটি পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। এককালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির জন্য দীঘির কাছে থালা-বাসন চাইলে রাতের বেলা দীঘির পাড়ে থালা-বাসন উঠে আসত, আবার অনুষ্ঠান শেষে দীঘির পাড়ে রেখে আসলে দীঘি সেগুলো ফেরত নিয়ে নিত। কালকিনি উপজেলার স্থানীয় হিন্দুদের অনেকেই মনে করেন, সেনাপতি দীঘির পানিতে রোগ মুক্তির বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।

আউলিয়াপুর নীলকুঠি

ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের সাক্ষী আউলিয়াপুর নীলকুঠি মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষের কাছে ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি নামেও পরিচিত। আউলিয়াপুর নীলকুঠি যেন বর্তমানেও গরিব চাষিদের ওপর ব্রিটিশ নীলকরদের শোষণ এবং তৎকালীন সময়কে বহন করে চলেছে। আউলিয়াপুর নীলকুঠিরটি ছিলারচর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে অবস্থিত। মাদারীপুর জেলা শহর হতে এই নীলকুঠিরের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। পীর-আউলিয়ার পদস্পর্শে ধন্য আউলিয়াপুরের খ্যাতিমান আউলিয়া হযরত শাহ সুফী খাজা ইউসুফ শাহ আহসানের দরগা শরীফের পাশেই রয়েছে নীলকুঠিটি। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট আউলিয়াপুর নীলকুঠিরের মাঝামাঝি রয়েছে চুল্লি এবং প্রায় ৪০ ফুট উঁচু চিমনি। যদিও বর্তমানে প্রায় নিশ্চিহ্ন নীলকুঠিরের জমিও বিভিন্নভাবে বেহাত হয়ে গেছে।

গণেশ পাগল সেবাশ্রম

১২৫৫ বঙ্গাব্দে কোটালী পাড়া উপজেলার পোলসাইর গ্রামে সাধু পুরুষ গনেশ পাগল জন্মগ্রহণ করেন। গণেশ পাগলের পিতা শিরোমনি এবং মাতা নারায়ণী দেবী উভয়েই নারায়ণ দেবের উপাসক ছিলেন। শ্রী শ্রী নারায়ণ ঠাকুরের আশীর্বাদে গণেশ পূজার দিন সন্তানের জন্ম হওয়ায় তার নাম ‘গণেশ’ রাখা হয়। বিন্দু দাস গোসাই-এর অনুচর মহামানব গনেশ পাগল ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে মহাপ্রয়াণ করেন। গণেশ পাগলের অনুসারীদের জন্য ১৩১২ বঙ্গাব্দে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দীঘিরপাড় এলাকায় প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমিতে গণেশ পাগল সেবাশ্রম গড়ে তোলা হয়। ১৩৭ বছর আগে ১৩ জন সাধু মিলিত হয়ে ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ জ্যৈষ্ঠ ভারতের কুম্ভমেলার আদলে সেবাশ্রমে কুম্ভমেলার আয়োজন করেন।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

মৌলভী আচমত আলী খান
মৌলভী আচমত আলী খান ১৯০৬ সালের ১ জানুয়ারি মাদারীপুরের দুধখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মন্বন্তরে/দুর্ভিক্ষে সামাজিক ও মানবসেবায় স্বর্ণপদক পান। তিনি ১৯৯৩ সালের ২১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী আনোয়ার হোসেন
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৪১ সালে ১ জানুয়ারি মাদারীপুর সদরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী। তিনি ২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

হযরত শাহ মাদার (রহ.)
হযরত শাহ মাদার (রহ.) মাদারীপুর সদরে জন্মগ্রহণ করেন। যার নামে মাদারীপুর জেলা নামকরণ করা হয়েছে।

এক নজরে

জেলা সৃষ্টির তারিখ : ১ মার্চ, ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

আয়তন : ১১৪৪.৯৬ বর্গ কি.মি.

অবস্থান : ২৩০০০ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২০০-৩০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯০-৫৬র্ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯০০-২র্১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ

সংসদীয় আসন : ৩টি

মোট ভোটার সংখ্যা (পুরুষ ও মহিলা) ৬,৭৩, ৫৯১ (৩৩৩৪৭৮ ও ৩৪০১১৩)
লোকসংখ্যা : ১২,১২,১৯৮ জন (আদমশুমারি ও গৃহগণনা, ২০১১)

উপজেলা : ০৪টি

থানা : ০৫টি

পৌরসভা : ০৪টি

ইউনিয়ন : ৫৯টি

জনসংখ্যার ঘনত্ব : ১০৩৬ জন (প্রতি বর্গ কিঃমিঃ) (আদমশুমারি ও গৃহগণনা, ২০১১)