কবি জসীম উদ্দীনের স্মৃতি বিজড়িত ফরিদপুর

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কবি জসীম উদ্দীনের স্মৃতি বিজড়িত ফরিদপুর

রুপসী বাংলা ডেস্ক ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০

print
কবি জসীম উদ্দীনের স্মৃতি বিজড়িত ফরিদপুর

ইতিহাস ঐতিহ্যের তীর্থভূমি ফরিদপুর। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতি বিজরিত পদ্মা, মধুমতি ও কুমার নদীর অববাহিকায় অবস্থিত দেশের প্রাচীন জনপদ ফরিদপুর জেলা। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর বাসভবন, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজেন্দ্র কলেজ, কাচারি বাড়ী, সাতৈর মসজিদ, পদ্মার চরে সূর্যাস্ত, মথুরাপুর দেউল, মধুমতি নদী, নারায়ণ ও শিব মন্দির পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন

 

কবির জন্ম ১৯০৩ সালে সদর উপজেলার নানার বাড়ি তাম্বুলখানা গ্রামে। ঔপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও তিনি বাংলার পল্লী প্রকৃতির রূপমাধুর্য, সহজ সরল মানুষের জীবন তাঁর কাব্য সাহিত্যের উপজীব্য হিসেবে নেন। বাংলার পল্লী অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী, কৃষি যাদের প্রধান উপজীবিকা, তাদের মধ্যেই পল্লীকবির আবির্ভাব


পাতরাইল মসজিদ

পাতরাইল মসজিদ (Patrail Masjid) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। দুর্লভ ও নান্দনিক কারুকার্যময় প্রাচীন মসজিদটি মজলিশ আউলিয়া মসজিদ নামেও সুপরিচিত। আয়তাকার ও ১০ গম্বুজ বিশিষ্ট পাতরাইল মসজিদের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘা মসজিদের স্থাপত্য শৈলীর মিল পাওয়া যায়। মসজিদের পূর্বদিকে রয়েছে ৫টি খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ। দক্ষিণ এবং উত্তর দিকে মসজিদে প্রবেশের জন্য আরো দুটি দরজা রয়েছে। প্রায় দুই মিটার পুরু দেয়ালে গড়া মসজিদের ভেতরের দিকে দৈর্ঘ্য ২১.৭৯ মিটার ও প্রস্থ ৮.৬০ মিটার। পাতরাইল দীঘির পার আউলিয়া মসজিদের কাছে বিখ্যাত সুফি সাধক মজলিশ আবদুল্লাহ খান আউলিয়ার মাজার, মাদ্রাসা এবং দুইটি সুবিশাল দীঘি রয়েছে।

অপূর্ব পাতরাইল মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনামলে বিখ্যাত সুফি দরবেশ মজলিশ আবদুল্লাহ খান আউলিয়া এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে এসে মসজিদটি নির্মাণ করেন। আর তাঁর নামানুসারেই এটি মজলিশ আউলিয়া মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে পাতরাইল মসজিদ বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

কানাইপুর জমিদার বাড়ি

ফরিদপুর জেলা শাসনকারী জমিদারদের আছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। কানাইপুরের শিকদার বংশ তেমনি ফরিদপুরের বিখ্যাত জমিদারদের মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৪০০ বছর আগে শিকদার বংশের জমিদার কুমার নদীর পাড়ে বসবাসের জন্য জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন, যা কানাইপুর জমিদার বাড়ি (Patrail Masjid) হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে। তবে ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা একে শিকদার বাড়ি (Shikdar Bari) হিসেবেই চেনেন।

শিকাদার বংশের সিকদার ভবতারিনী জমিদার হিসেবে বেশ সুনাম ও সম্পদ অর্জন করেন। কিন্তু ভবতারিনীর একমাত্র পুত্র সতীশ চন্দ্র শিকদার মোটেও তাঁর মায়ের মত সুশাসক ছিলেন না। পরবর্তীকালে সতীশ চন্দ্র শিকদারের দুই পুত্র সুরেন্দ্র নাথ শিকদার এবং নিরদবরন শিকদারের মধ্যে জমিদারি ভাগ করে দেওয়া হয়। বড় সন্তান হিসেবে সুরেন্দ্র নাথ জমিদারিীর সিংহভাগ অংশের অধিকার লাভ করেন। সুরেন্দ্র নাথের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্রদের কলকাতায় স্থানান্তর এবং অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সরকার তাদের জমিদারি বাজেয়াপ্ত করে।

উল্লেখ্য, ১৮১৮ সালে এই জমিদারদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে হাজী শরিয়তুল্লাহর নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে হাজী শরিয়তুল্লাহর পুত্র দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।


মধুমতি নদী

মধুমতি নদী (Madhumati River) বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরা, ফরিদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর একটি শাখা। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নে প্রবাহমান গড়াই নদী হতে সৃষ্টি হয়ে মাগুরা-ফরিদপুর জেলার সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নামে নড়াইল ও খুলনা জেলার আঠারবেকিতে বাগেরহাট জেলায় প্রবেশ করে বরিশালের হয়ে হরিণঘাটা মোহনার কাছে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

সর্পিলাকৃতি মধুমতি নদীর দৈর্ঘ্য ১৩৭ কিলোমিটার, প্রস্থ ৫০০ মিটার ও গভীরতা ১০.৫ মিটার। নদীটির প্রবাহপথে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, নড়াইল জেলার লোহাগড়া ও কালিয়া, গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী ও টুঙ্গিপাড়া এবং বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট, চিতরশারি ও কচুয়া উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মধুমতি নদীর ওপর মধুমতি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আর নদীর অববাহিকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবগঙ্গা-মধুমতি সেচ প্রকল্প চালু রয়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে সবুজ বর্ণের মধুমতি নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলেও বর্ষাকালে পানি নদীর দু’কূল ছাপিয়ে যায়। একসময় সুন্দরবন অঞ্চল থেকে বাওয়ালীরা এই নদী দিয়ে মধু সংগ্রহ করে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করত। আর তাই স্থানীয় অনেকের মতে- নদীর সুমিষ্ট জল বা মধু বহনকারী এই নদীর নাম দেওয়া হয়েছে মধুমতি। নদীর তীরে কয়েকশ’ বছরের প্রাচীন হাটবাজার, দালানকোঠা, মন্দির, মসজিদ ও জেলে পল্লীসহ অনেক জনপদ গড়ে উঠেছে। এছাড়াও মধুমতি নদীতে ইলিশ, বাচা, বাঘাইড়, চিতল, চিংড়ি, বেলে, আইড়, রুই ও কাতলসহ অনেক ধরনের সুস্বাদু মাছ পাওয়া যায়। আর নদীর তীরবর্তী অঞ্চল খুব উর্বর হওয়ায় ধান পাটসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদনের জন্য খুবই সহায়ক।


মথুরাপুর দেউল

ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত মথুরাপুর দেউল (Mathurapur Deul) একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা। মঠটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে চন্দনা নদীর তীরে অবস্থিত। টেরাকোটার দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক কারুকার্যম-িত বারো কোণ বিশিষ্ঠ মথুরাপুর দেউল বা মঠের উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট। দেউলটিতে প্রবেশের দুইটি দরজা রয়েছে। সমগ্র মঠ জুড়ে শিলা খ-ের ছাপচিত্রের পাশাপাশি মাটির ফলকের তৈরি অসংখ্য ছোট ছোট মূর্তির ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এসব মূর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নৃত্যরত নর-নারী, মস্তকবিহীন মানুষের প্রতিকৃতি, তীর ধনুক হাতে হনুমান, পেঁচা, ঘোড়া ইত্যাদি।

জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে সংগ্রাম সিং নামের এক সেনাপতি মথুরাপুর দেউল নির্মাণ করেন? ১৬৩৬ সালে ভূষণার জমিদার সত্রাজিতের মৃত্যুর পর সংগ্রাম সিং অত্র এলাকার রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ভিন্ন সূত্রমতে, সম্রাট আকবরের বিখ্যাত সেনাপতি মানসিং রাজা প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের স্মারক হিসেবে মথুরাপুর দেউলটি নির্মাণ করা হয়? অর্থাৎ মথুরাপুর দেউল একটি বিজয় স্তম্ভ, যদিও এসকল তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি? ২০১৪ সালে মথুরাপুর দেউলটি বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর কর্তৃক জাতীয় পুরাকীর্তি স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়?


সাতৈর মসজিদ

ফরিদপুর জেলা সদর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামে সুলতানী আমলের নয় গম্বুজ বিশিষ্ট সাতৈর মসজিদ (Satoir Mosque) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, প্রায় ৭০০ বছর আগে শের শাহের আমলে সাতৈর গ্রামের আউলিয়া হযরত শাহ সুফি শায়েফ ছতুরি (রাঃ) পীরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ষোল শতকের দিকে আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় মসজিদের চারপাশ জঙ্গলে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মসজিদটি সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হয়।

বর্গাকার সাতৈর মসজিদের বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ১৭.৮ মিটার ও ভেতরের দিকে ১৩.৮ মিটার এবং ভূমি থেকে উচ্চতা ০.৬ মিটার। পেন্ডেন্টিভ পদ্ধতিতে নির্মিত এই মসজিদে মোট ৯টি কন্দাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। এছাড়াও মসজিদের ভেতরে পাথরের তৈরি ৪টি স্তম্ভ, দেয়াল সংলগ্ন ১২টি পিলার ও পশ্চিম দিকে বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলানযুক্ত ৩টি মেহরাব লক্ষ করা যায়।

তবে নির্মাণের শুরুতে পশ্চিম দিক ছাড়া মসজিদের তিন দিকে প্রবেশ পথ থাকলেও বর্তমানে মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথগুলোকে জানালায় রূপান্তর করা হয়েছে। সাতৈর শাহী মসজিদের পাশে আরও আছে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড, ১২ আউলিয়ার মাজার এবং একটি গভীর কূপ। মসজিদটি নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে মসজিদটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লোককথা প্রচলিত ছিল। আর তাই ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিভিন্ন মানত নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এই মসজিদ দর্শনে আসেন।

 বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব
পল্লীকবি জসীম উদ্দীন

পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ১৯০৪ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাটিকুলেশন পাস করেন , ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই এ এবং বি এ, কলিকাতা থেকে ১৯৩১ সালে এম.এ পাস করেন। তিনি সর্বমোট ৪৫টি গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী হচ্ছে- রাখালী, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, রঙিলা নায়ের মাঝি, হাসু, এক পয়সার বাঁশি, পদ্মাপার, মাটির কান্না, বেদের মেয়ে ইত্যাদি। এই মহান কবি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

হাজী শরীয়তুল্লাহ
হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংস্কারক। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। হাজী শরীয়তুল্লাহর পুত্র মহসীন উদ্দিন আহমেদ ইতিহাসে পীর দুদু মিয়া নামেই সমাধিক প্রসিদ্ধ। হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৮৪০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
আম্বিকাচরণ মজুমদার

আম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১ সালের ৬ জানুয়ারি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৫৭ সালে জেনালের এসেম্বলিজ ইনস্টিটিউট থেকে ইংরেজী সাহিত্যে এম.এ. পাস করেন। আম্বিকাচরণ মজুমদারই হচ্ছেন রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি কংগ্রেসের ৩১তম সভাপতি ছিলেন। ১৯২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর কংগ্রেসের এই প্রখ্যাত নেতা মৃত্যুবরণ করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের জন্ম ১৯৪৩ সালের মে মাসে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার কামারখালী ইউনিয়নের ছালামতপুর গ্রামে। পিতার নাম মুন্সী মেহেদী হাসান। মধুমতির তীরে অবস্থিত ছালামতপুর গ্রামের এই ছেলেটি ১৯৬৩ সালে ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলসে সৈনিক পদে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল তিনি সম্মুখযুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের বাড়ী
ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি। কুমার নদীর পাশে কবির বাড়িতে রয়েছে পুরাতন ৪টি টিনের ঘর। বসত বাড়ির বিভিন্ন রুমে রয়েছে তার ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র। কবির বিভিন্ন লেখা বাড়ির চত্বরে প্রদর্শন করা আছে।

নদীর সামনে বিশাল জায়গায় রয়েছে আগত দর্শনার্থীদের জন্যে বসার স্থ্না। বাড়ির উত্তরে রাস্তার পাশে কবির কবরস্থান। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ থেকে ডালিম গাছের তলে চিরশায়িত রয়েছেন। কবির চারপাশে শায়িত রয়েছেন তার বাবা, মা, কবির পতœী, বড় ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রীসহ তার ভাই, বোন, ভাগিনা ও নাতনিরা।

কবির জন্ম ১৯০৩ সালে সদর উপজেলার নানার বাড়ি তাম্বুলখানা গ্রামে। ঔপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও তিনি বাংলার পল্লী প্রকৃতির রূপমাধুর্য, সহজ সরল মানুষের জীবন তাঁর কাব্য সাহিত্যের উপজীব্য হিসেবে নেন। বাংলার পল্লী অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী, কৃষি যাদের প্রধান উপজীবিকা, তাদের মধ্যেই পল্লীকবির আবির্ভাব।

জসীমউদ্দীনের বাল্যকাল, কৈশোর ও যৌবনের অনেকটাই কেটেছে এ পল্লীতে, সেখানকার মাঠে-ঘাটে, নদীতীরে, চরে সাধারণ মানুষের মধ্যে। জন্মসূত্রে পল্লীর সঙ্গে তাঁর এই নিবিড় সম্পর্কের কারণে তার কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে পল্লী প্রকৃতি ও জীবন।


একনজরে

জেলা আয়তন : ২০৭২.৭২ বর্গ কিলোমিটার।
ভৌগোলিক অবস্থান : ফরিদপুর জেলা ৮৯.২৯০ পূর্ব হতে ৯০.১১০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২৩.১৭০ উত্তর হতে ২৩.৪০০ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
সীমানা : উত্তরে রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে মাগুরা ও নড়াইল জেলা এবং পূর্বে মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত।
লোকসংখ্যা: ১৯,১২,৯৬৯ জন (২০১১ সনের আদমশুমারী অনুযায়ী);
পুরুষ- ৯,৬৩,৫২৯ জন, মহিলা- ৯,৪৯,৪৪০ জন।
জনসংখ্যার ঘনত্ব : ৯২০ জন প্রতি বর্গ কিঃ মিঃ
উপজেলার সংখ্যা ও নাম : ৯টি (সদর, মধুখালী, বোয়ালমার আলফাডাঙ্গা, সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন)
পৌরসভার সংখ্যা ও নাম : ৫টি (ফরিদপুর, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, মধুখালী)
ইউনিয়নের সংখ্যা : ৮১টি
গ্রামের সংখ্যা : ১,৮৮৭টি
শিক্ষার হার : ৪৩.৯৫%
সংসদীয় আসন : ৪টি
ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা)
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা)
ফরিদপুর-৩ (সদর)
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন)