ঐতিহ্যের তীর্থভূমি নারায়ণগঞ্জ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঐতিহ্যের তীর্থভূমি নারায়ণগঞ্জ

রুপসী বাংলা ডেস্ক ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২০

print
ঐতিহ্যের তীর্থভূমি নারায়ণগঞ্জ

ইতিহাস ঐতিহ্যের তীর্থভূমি নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ জেলা অতি প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা। বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্য মসলিন কাপড়ের সুনাম নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই নারায়ণগঞ্জ জেলা। সোনালী আঁশ পাটের জন্যও বিখ্যাত। নারায়ণগঞ্জ জেলার দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনারগাঁ, লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, পানাম নগর, জিন্দা পার্ক, মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি, বালিয়াপাড়া জমিদার বাড়ী, গোয়ালদী মসজিদ বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলাকে নিয়ে আজকের প্রতিবেদন

তাজমহল, সোনারগাঁও

বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্রার তাজমহলের আদলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত হয়েছে অনুপমশৈলীর স্থাপত্যে বিশ্বের ২য় বাংলার তাজমহল। বাংলার তাজমহল (ইধহমষধৎ ঞধলসধযধষ) আগ্রার তাজমহলের মডেলেই গড়া হয়েছে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। তাজমহলের মূল ভবন স্বচ্ছ ও দামি পাথরে মোড়ানো। এর অভ্যন্তরে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লা মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। ইচ্ছা করলে যে কোনো দর্শনার্থী এখানে ছবি তুলতে পারবে।
তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী। তাজমহলের কাছাকাছি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে পিরামিড। করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর। এখানে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও পাশেই রয়েছে, শুটিং স্পট সেখানে যে কোনো নাটক, সিনেমার সব ধরনের শুটিং করা সম্ভব। আরও রয়েছে, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল ও সেমিনার কক্ষ। সুইমিংয়ের কাজ চলছে, তার সঙ্গে পরিকল্পনা রয়েছে আইফেল টাওয়ার করার। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভীড় করছেন তাজমহল দর্শনের জন্য। তাজমহল এর অবস্থান সহজে চেনার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে নির্দেশনার সাইনবোর্ড।

সোনারগাঁও যাদুঘর

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনটি সোনারগাঁও যাদুঘর হিসেবেই পরিচিত। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে। রুপগঞ্জ ও সোনারগাঁও এক সময় মসলিনের জন্য জগত বিখ্যাত ছিল। মসলিনের বিকল্প জামদানি শাড়ি তাঁতিদের সরাসরি তৈরি করতে দেখা যাবে কারুপল্লীর রুপসী কাজীপাড়ার বিসিক পল্লীতে। এখানে দেখার মতো রয়েছে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যাদুঘর এবং ফাউন্ডেশন চত্বর। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন সোনারগাঁ। এখানে ১৯৭৫ সালে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পানাম নগরের সর্দার বাড়িতে স্থানান্তরের মাধ্যমে সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর হিসেবে এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু গ্যালারি, রয়েছে কারুপল্লী, লোকজমঞ্চ, লাইব্রেরি ও ডকুমেনটেশন সেন্টার। ফাউন্ডেশন চত্বরে রয়েছে জয়নুলের সংগ্রাম ভাস্কর্য, শিল্পাচার্যের আবক্ষ ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে আবক্ষ ভাস্কর্য, টিকেট কেটে মাছ ধরার সুবিধাসহ আরও রয়েছে ফুলগাছ লতাপাতায় সবুজের সমারোহের মাঝে খালের মধ্যে ময়ূরপঙ্খি নৌকায় ওঠার চমৎকার সুযোগ।

 

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার অতি পরিচিত একটি স্থান মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। এটি ঢাকা থেকে ২৫ কি.মি. দূরে নরসিংদী রোডে অবস্থিত। জমিদার রামরতন ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালে ৪০ হেক্টর জমির উপর নির্মাণ শুরু করেন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িটির। তিনি নাটোর স্টেট এর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এবং তার সততার কারণে একটি উচ্চ পদে উন্নীত হন। কিন্তু প্রচলিত আছে, রামরতন ব্যানার্জী শুধু এই বাড়িটির ভিত্তি ও কাঠামো তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার পুত্র প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালেই তার পুরনো বাড়ি ছেড়ে পেছনে আরো একটি প্রাসাদ তৈরি করেন। বিশাল এই জমিদার বাড়িতে প্রায় একশত’র উপরে কক্ষ রয়েছে, যার প্রায় সবগুলোতেই পাবেন কারুকার্যের ছোঁয়া। এই জমিদার বাড়ীতে রয়েছে কাছারিঘর, অতিথিশালা, নাচঘর, পুজা মণ্ডপ, বৈঠকখানা, ভাঁড়ার সহ বিভিন্নভাগে ভাগ করা অংশ।

কাইকারটেক হাট

সপ্তাহে প্রতি রবিবার এই হাটটি বসে বিধায় এই হাটকে রবিবারের হাটও বলা হয়ে থাকে। প্রায় ১০০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধারন করে আসছে এই কাইকারটেক হাট। এই হাটের দেখা মিলবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক এলাকায়। ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেষে মনোরম পরিবেশ আর প্রাচীন নির্দশন নিয়ে গড়ে উঠেছে কাইকারটেকের হাট। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা সহ আশপাশের জেলার মানুষের কাছে এটি কাইকারটেক হাট নামেই পরিচিত।