প্রাকৃতিক নিদর্শন রাজবাড়ী

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

প্রাকৃতিক নিদর্শন রাজবাড়ী

রুপসী বাংলা ডেস্ক ৪:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

print
প্রাকৃতিক নিদর্শন রাজবাড়ী

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তীর্থভূমি রাজবাড়ী পদ্মা ও যমুনা নদীর অববাহিকায় বর্তমান রাজবাড়ী জেলার অবস্থান। রাজবাড়ী জেলাকে নদীর জেলা বললেও ভুল হবে না। কারণ রাজবাড়ীকে ঘিরে পদ্মা, চন্দনা, গড়াই নদী ও হড়াই নদী বহমান। জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন, শাহ পাহলোয়ানের মাজার, দাদ্শী মাজার, জোড় বাংলা মন্দির, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র, গোয়ালন্দ ঘাট, কল্যাণ দীঘি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলাকে নিয়ে আজকের প্রতিবেদন-

রাজবাড়ীর মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ঐ ভাষণে তিনি পরিষ্কার ভাষায় নির্দেশ দিলেন ‘এরপর যদি একটা গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো।’
এই ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকেই সারা দেশে স্বাধীনতার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। রাজবাড়ীতে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। যুদ্ধের ট্রেনিং শুরু হয় রাজবাড়ী রেলওয়ে মাঠে।
১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল ভোর ৫টার সময় পাকবাহিনী গান বোট এর মাধ্যমে পদ্মা নদী পার হয়ে, গোয়ালন্দ ঘাট অতিক্রম করে নারার টেগ ও মমিন খাঁ এর ঘাট দিয়ে রাজবাড়ী শহরে প্রবেশ করে। এই খবর নিমিষে রাজবাড়ী শহর ও গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ তখন শহর থেকে গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিতে থাকে। আর বিহারিরা অস্ত্র নিয়ে শহরে নেমে পড়ে। পাকবাহিনী রাজবাড়ী শহরে ঢোকার সময় রাসত্মার আশেপাশের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালে সে সময়কার এম.এন.এ কাজী হেদায়েত হোসেন এর বাড়িও পাকবাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এসময় পাকবাহিনী বাজারের মধ্যে বড় বড় দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন রাজবাড়ী শুধু আগুন আর আগুন এর শহর। সে সময় পাকবাহিনী ও বিহারিরা অজস্র নর-নারীকে রাজবাড়ীতে হত্যা করে। রাজবাড়ী হতে অনেকে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ভারতে উচ্চতর ট্রেনিং শেষ করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১১জনের একটি গ্রুপ ভারতের বর্ডার পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।


জেলার পটভূমি

রাজবাড়ী যে কোনো রাজার বাড়ির নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। তবে কখন থেকে ও কোন রাজার নামানুসারে রাজবাড়ী নামটি এসেছে তার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলার রেল ভ্রমণ পুস্তকের (এল.এন.মিশ্র প্রকাশিত ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ক্যালকাটা ১৯৩৫) একশ নয় পৃষ্ঠায় রাজবাড়ী সম্বন্ধে যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব শায়েস্তা খান ঢাকায় সুবেদার নিযুক্ত হয়ে আসেন। এই সময় এই অঞ্চলে পর্তুগিজ জলদস্যুদের দমনের জন্যে তিনি সংগ্রাম শাহ্কে নাওয়ারা প্রধান করে পাঠান। তিনি বানিবহতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং লালগোলা নামক স্থানে দুর্গ নির্মাণ করেন। এই লালগোলা দুর্গই রাজবাড়ীর কয়েক কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান লালগোলা গ্রাম। সংগ্রাম শাহ্ ও তার পরিবার পরবর্তীতে বানিবহের নাওয়ারা চৌধুরী হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এল.এন.মিশ্র উক্ত পুস্তকে উল্লেখ করেন রাজা সংগ্রাম শাহের রাজ কারবার বা রাজকাচারি ও প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী অফিস বর্তমান রাজবাড়ী এলাকাকে কাগজে কলমে রাজবাড়ী লিখতেন (লোকমুখে প্রচলিত)। ঐ পুস্তকের শেষের পাতায় রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে রাজবাড়ী নামটি লিখিত পাওয়া যায়। উল্লেখ্য রাজবাড়ী রেলস্টেশন ১৮৯০ সালে স্থাপিত। ঐতিহাসিক আনন্দনাথ রায় ফরিদপুরের ইতিহাস পুস্তকে বানিবহের বর্ণনায় লিখেছেন নাওয়ারা চৌধুরীগণ পাঁচথুপি থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে বানিবহ এসে বসবাস শুরু করেন। বানিবহ তখন জনাকীর্ণ স্থান। বিদ্যাবাগিশ পাড়া, আচার্য পাড়া, ভট্টাচার্য পাড়া, শেনহাটিপাড়া, বসুপাড়া, বেনেপাড়া, নুনেপাড়া নিয়ে ছিল বানিবহ এলাকা। নাওয়ারা চৌধুরীগণের বাড়ি স্বদেশিগণের নিকট রাজবাড়ী নামে অভিহিত ছিল।
মতান্তরে রাজা সূর্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর নামকরণ হয়। রাজা সূর্য কুমারের পিতামহ প্রভুরাম নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মচারী থাকাকালীন কোনো কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষীকোল এসে আত্মগোপন করেন। পরে তার পুত্র দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ এ অঞ্চলে জমিদারি গড়ে তোলেন। তারই পুত্র রাজা সুর্য কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের জন্য রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন। রাজবাড়ী রেলস্টেশন এর নামকরণ করা হয় ১৮৯০ সালে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায় রাজবাড়ী রেলস্টেশন এর নামকরণ রাজা সূর্য কুমারের নামানুসারে করার দাবি তোলা হলে বানিবহের জমিদারগণ প্রবল আপত্তি তোলেন। উল্লেখ্য বর্তমানে যে স্থানটিতে রাজবাড়ী রেলস্টেশন অবস্থিত উক্ত জমির মালিকানা ছিল বানিবহের জমিদারদের। তাদের প্রতিবাদের কারণেই স্টেশনের নাম রাজবাড়ীই থেকে যায়।


জামাই পাগলের মাজার

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডভুক্ত আলাদিপুর গ্রামে জামাই পাগলের মাজার (Murshid Jamai Pagol Mazar Sharif) অবস্থিত। ধারণা করা হয় ১৯৬০ সালের দিকে নেংটি পরিহিত এক ব্যক্তি বর্তমান মাজার প্রাঙ্গণের শেওরা গাছের নিচে অবস্থান নেন। তাঁর নামে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে।
কথিত আছে, পাবনা জেলায় এক ধনী ব্যক্তি তাঁর বোবা মেয়েকে গ্রামের এক পাগলের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের রাত শেষ হতেই বোবা মেয়ে কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু সেই পাগল জামাইকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে তারা রাজবাড়ী জেলার আলাদিপুরে তাঁর সন্ধান পেলেও তিনি আর সংসারে ফিরে যায়নি। এই ঘটনার পর থেকে জামাই পাগল নাম সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, জামাই পাগল যখন আলাদিপুরে আসেন তখন এখানে অনেক মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছিল তখন তিনি সকলকে সারিয়ে তোলেন। ধীরে ধীরে মানুষজন বিভিন্ন বিপদমুক্তির আর্জি নিয়ে তাঁর কাছে আসতে থাকেন। তাকে কেউ কিছু বললে তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করতেন এবং তাঁর উছিলায় মানুষের সমস্যার সমাধান হতো। জামাই পাগলের মৃত্যুর পর এক আগন্তুক সৎকারের সমস্ত ব্যবস্থা করেন এবং এখানে একটি মাজার গড়ে তোলা হয়। এরপর নুর বাকের শাহ নামের এক ভক্ত এখানে অবস্থান নেন। নুর বাকের শাহের মৃত্যুর পর গৌরী পাগলী মাজারটি দেখাশুনা করতেন। মাজার প্রাঙ্গণে একটি সুবিশাল মসজিদ রয়েছে।
মাজারের ভেতরে মুর্শিদ জামাই পাগল, নুর বাকের শাহ এবং গৌরী পাগলীর পৃথক পৃথক কবর রয়েছে। প্রতিবছর ১৫ই ফাল্গুন ও ৩১ ফাল্গুন দুইটি বড় ঔরস সহ এই মাজারে সর্বমোট ৫টি ঔরস অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবনের বয়স প্রায় দেড়শত বছর। প্রাচীন ঐতিহাসিক এই লাল ভবনটি রাজবাড়ী জেলার একটি অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। গোয়ালন্দ মহকুমার বাণীবহ এস্টেটের বাণীবহের জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ভবনটিকে কাচারি ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার এই লাল ভবনে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আর রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে (Rajbari Government High School) বলা যায় শতাধিক বছরের পুরাতন গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুলের বর্তমান রূপ।
জানা যায়, ১৮৭১ সালে মাইনর স্কুলের মাধ্যমে চালু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮৯২ সালে পূর্ণ রূপ লাভ করে। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ও অভয় শংকর মজুমদার দি গোয়ালন্দ ইংলিশ হাই স্কুল নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল রাখা হয়, যা বর্তমানে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (Rajbari Government High School) নামে সুপরিচিত। দেড়শত বছরের পরিক্রমায় রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ঐতিহাসিক এই লাল ভবনকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জোড় বাংলা মন্দির

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়া গ্রামে পাশাপাশি দুইটি মন্দির অবস্থিত। আর এই মন্দিরকেই জোড় বাংলা মন্দির (Jor Bangla Mandir) নামে ডাকা হয়। একটি মন্দিরের চূড়া থাকলেও অন্য মন্দিরের চূড়া অবশিষ্ট নেই। ১৬৫৫ সালে উড়িষ্যার গৌরীয় রীতিতে রাজা সীতারাম রায় এ জোড় বাংলা মন্দির ও বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে শ্রী কৃষ্ণরাম চক্রবর্তী রাজা সীতারাম রায়ের অনুরোধে নলিয়া গ্রামে এসে দেব মন্দির এবং বিগ্রহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


শাহ পাহলোয়ানের মাজার

ষোড়শ শতকের ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর বাগদাদ থেকে জবরদস্ত পীর শাহ পাহলোয়ান আগমন করেন। ১৪৮০ হতে ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শাহ পাহলোয়ান বোগদাদ শরীফ পরিত্যাগ করে ফরিদপুর অঞ্চলে এসে চন্দনা নদীর তীরে বাসস্থান নির্মাণ করে উপাসনা করছিলেন। এ তাপস প্রবরের প্রভাবে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার বৃদ্ধি পায়। তিনি পীর খানজাহান আলীর উত্তরসূরি ছিলেন। সেকাড়া গ্রামে তার রওজা বিদ্যমান। কথিত আছে, পীরের সম্মানে শাহ পাহলোয়ান তাঁর কবর পূর্ব-পশ্চিম লম্বালম্বি দিতে বলেছিলেন। কারণ তাঁর পীর সেকাড়া থেকে দক্ষিণে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু তার শিষ্যরা প্রচলিত বিধান মতে যথানিয়মে তাকে কবরস্থ করলে পরদিন সকালে দেখা গেল তাঁর কবর ঘুরে পূর্ব-পশ্চিম লম্বালম্বি হয়ে গেছে।


নীলকুঠি

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর নীলকরদের অত্যাচার আরো বৃদ্ধি পায় এবং প্রজা সাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। শুরু হয় নীলবিদ্রোহ। রাজবাড়ীতে নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বালিয়াকান্দি থানার সোনাপুরের হাশেম আলীর নেতৃত্বে শত শত চাষি নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহে অংশ নেয়। বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমণ করে ও কাচারি জ্বালিয়ে দেয়। এ অঞ্চলের বসন্তপুর, বহরপুর, সোনাপুর, বালিয়াকান্দি, নাড়–য়া, মৃগী, মদাপুর, সংগ্রামপুর, পাংশার নীলচাষিরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন বসায় এবং নীলচাষ স্বেচ্ছাধীন ঘোষণা করে। ধীরে ধীরে কৃত্রিম নীল উদ্ভাবিত হয় এবং প্রাকৃতিক নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।


প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

মীর মশাররফ হোসেন
বাংলা সাহিত্যে বঙ্কিম যুগে বাংলার মানুষ ভিন্ন মানসের সন্ধান লাভ করে মীর মশাররফ হোসেন এর সাহিত্য কর্মে। তিনি প্রথম মুসলমান লেখক যিনি প্রবন্ধ রচনা করেন। তাঁর দাদা মীর ইব্রাহিমের পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদি গ্রামে। তিনি কুষ্টিয়ার সাঁগুতায় ১৮৪৭ সালে তাঁর নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃপুরুষের ভিটামাটি পদমদির সঙ্গে এবং পিতা ও পিতামহের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ ছিল। তিনি উপন্যাস, নাটক, জীবনী, ইতিহাস ধর্মতত্ত্ব, কাব্য সংগীত ইত্যাদি বিষয়ে ৩৫টি গ্রন্থ রচনা করেন।

ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন
ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, প-িতজ্ঞ, পরিসংখ্যানবিদ এবং দাবারু। তাঁর পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে। তাঁর জন্ম ১৮৯৭ সালে। ১৯২১ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করার পর একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৪-১৯৬৬ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং এ কর্মরত ছিলেন।

মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী
সাহিত্য সাধনা, রাজনৈতিক সচেতনতা ও শিক্ষা সংস্কার দ্বারা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী পশ্চাৎপদ মুসলমানদের অগ্রগামী করেন। তিনি ১৮৮৮ সালে পাংশা উপজেলার মাগুরাডাঙ্গী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাংশা হাইস্কুল হতে এম.এ পাশ করে রাজবাড়ী সূর্য কুমার ইনস্টিটিউশন হতে এনট্রান্স পাস করেন এবং শিক্ষকতা শুরু করেন। ইসলামী দর্শন এবং সংস্কৃতি তাঁর রচনার মূল উপজীব্য।

কাজী আব্দুল ওদুদ
কাজী আব্দুল ওদুদ পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে ১৮৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯১৩ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন। পরবর্তীতে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ হতে ১৯১৫ সালে আই.এ এবং ১৯১৭ সালে বি.এ পাশ করেন। তিনি ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতিতে এম.এ পাশ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থে ইসলাম ও হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পায়।

মনসুর উল করিম
শিল্পী মনসুর উল করিম যার শিল্পকর্ম বাংলাদেশের শিল্প জগতে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। বাংলাদেশের সমসাময়িক বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে তিনি একজন। নবম এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী ১৯৯৯ এ দেশের ১৫ জন প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে যে প্রদর্শনী শিল্পাঙ্গন গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের মধ্যে মনসুর উল করিম একজন। বাংলাদেশের প্রকৃতি আর মানুষের নান্দনিক অভিব্যক্তিই তাঁর শিল্পের বৈশিষ্ট্য। পাহাড়, সমতল, নদী, মাটি, ধানক্ষেত, খাল, বৃক্ষ, আকাশ, মেঘ, বৃষ্টি, মানুষ একাকারে বিমূর্ত অবয়বে তার ক্যানভাস পরিপূর্ণ। মনসুর উল করিম রাজবাড়ীর মানুষ।