সৌন্দর্যের লীলাভূমি মুন্সিগঞ্জ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

সৌন্দর্যের লীলাভূমি মুন্সিগঞ্জ

রুপসী বাংলা ডেস্ক ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০২০

print
সৌন্দর্যের লীলাভূমি মুন্সিগঞ্জ

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তীর্থভূমি মুন্সিগঞ্জ। প্রাচীনকাল তথা খ্রিস্টীয় দশ শতকের শুরু থেকে তেরো শতকের প্রথম পর্যন্ত চন্দ্র, বর্মন ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলা। সেই সুবাদে এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান, অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান, রাজা শ্রীনাথের বাড়ী, রামপালে বাবা আদমের মসজিদ, হাসারার দরগা, সোনারং জোড়া মন্দির, পদ্মার চর, ইদ্রাকপুর কেল্লা, রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি, শ্যামসিদ্ধির মঠ, শুলপুরের গির্জা, মেঘনা ভিলেজ পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলাকে নিয়ে আজকের প্রতিবেদন

মাওয়া রিসোর্ট

ঢাকার খুব কাছেই বেড়ানোর জায়গা কিংবা অবকাশ কেন্দ্র যারা খুঁজছেন তাদের জন্য পদ্মার পাড়ের মাওয়া রিসোর্ট (Mawa Resort) হতে পারে প্রথম পছন্দ। রিসোর্ট দেখলেই মনে হবে যেন নিজের ছিমছাম ঘর, অথচ একটু সামনেই প্রমত্তা নদী পদ্মা। ঢাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার দক্ষিণে বিক্রমপুরের লৌহজং উপজেলার মাওয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট থেকে একটু দক্ষিণে মাওয়া-ভাগ্যকুল রাস্তার কান্দিপাড়া গ্রামে নির্মিত এ রিসোর্টি যেন প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত একটি অন্য রকম পর্যটন কেন্দ্র। ইচ্ছেমতো নদীতে সাঁতার কাটা, ভেসে বেড়ানো, নৌকায় চড়া এসব আয়োজনই আছে রিসোর্টের আওতায়। নির্জন পরিবেশ আর সবুজে ঘেরা চতুর্দিক যেন পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। পর্যটন কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে ঢুকতেই নজরে পরে বিশাল এক দীঘি (পুকুর)। দীঘির চারদিকে সারি সারি নারিকেল আর সুপারি গাছ পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে তার সৌন্দর্য দেখতে। দীঘিতে রয়েছে দু’টি বাঁধানো পাকা ঘাট। দীঘিতে শিশুদের নিয়ে নিরাপদে জলকেলির সুযোগ রয়েছে, ঘুরে বেড়াতে পারবেন বোটে করেও। দীঘির পাড়েই ক্যাফেটেরিয়া। সেখানে সার্বক্ষণিক খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে মোট কটেজ সংখ্যা ১৮টি। ৫টি সিঙ্গেল, ৪টি ডাবল এবং একটি সুইট রয়েছে। তবে কটেজে যাওয়ার সময় সাদা আর সবুজ রঙয়ের কাঠের পুলটি পর্যটন কেন্দ্রটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। পিকনিক ও ছবির শুটিং করার জন্যও এটি হতে পারে একটি অনন্য স্থান। রিসোর্টের কটেজগুলো ইটের দেয়ালে তৈরি করা হলেও এতে ছাদ না দিয়ে গ্রামের স্বাদ দিতে গোল পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চাল। বাঁশের চটা দিয়ে নানান আলপনা দিয়ে তৈরি করা সিলিং পর্যটকদের মন কেড়ে নেবে। ভেতরে আধুনিক আসবাবপত্র, বাথরুম আর টাইলসের মেঝে দেখে মনে হয় এ যেন কোন ফাইভ স্টার হোটেল। পুরো পরিবেশটাই নান্দনিক। শহরের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তবে সঙ্গে বজায় আছে গ্রামের আদিমতাও। রাতে ঘরের জানালায় জোনাক পোকার খেলা সেই বার্তাই দেয় যেন।


বাবা আদমের
মসজিদ

মুন্সিগঞ্জ জেলার রামপালের অন্তর্গত রেকাবি বাজার ইউনিয়নের কাজী কসবা গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটি বহু গম্বুজবিশিষ্ট এবং ভূমি পরিকল্পনায় আয়তাকৃতির। মসজিদটির দেয়াল ২ মিটার পুরু। মসজিদটিতে তিনটি ‘বে’ ও দুটি ‘আইল’ আছে। পশ্চিম দেয়ালের পশ্চাদভাগ বাইরের দিকে তিন স্তরে বর্ধিত। পেছনের বর্ধিতাংশটি অতীব সুন্দর টেরাকোটা অলংকরণে নকশাকৃত, যার সঙ্গে মোয়াজ্জমপুর মসজিদের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। মিহরাবের মাঝখানে এবং পূর্ব ফাসাদে ঝুলন্ত শিকল ঘণ্টা ও ঝুলন্ত তক্তীর নকশা রয়েছে। তাছাড়া কুলুঙ্গির মাঝখানে বহু খাঁজবিশিষ্ট খিলান, জ্যামিতিক নকশা ও খিলান শীর্ষে ‘রোজেট’ নকশা লক্ষণীয়; এরূপ নকশাসমৃদ্ধ ‘ফাসাদ’ দেখতে পাওয়া যায় সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত শাহজাদপুর মসজিদে।

ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি

ভাগ্যকুলের এই জমিদার বাড়িটি (Bhaggyakul Zamidar Bari) বানিয়েছিলেন জমিদার যদুনাথ সাহা। দ্বিতল বাড়ির সামনে রয়েছে আটটি বিশাল থাম, দেখতে অনেকটা মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ির মত। ভবনটির চারিদিকেই এমন থাম বিশিষ্ট এই স্থাপত্যটি গ্রিক স্থাপত্যের ঘরনায় নির্মিত। ভবনের ভেতরে সাপ, ময়ূর, ফুল, পাখিসহ নানান নকশা রয়েছে। পুরো জমিদার বাড়ির আঙিনা জুড়ে ভবন, মাঝে উঠোন। এই জমিদার বাড়ির দরজা এবং জানালা একই মাপের, মানে উচ্চতার। ফলে কপাট বদ্ধ অবস্থায়, কোনটি দরজা, কোনটি জানালা বোঝা দায়। একতলা থেকে দোতলায় যাওয়ার সিঁড়িটি কাঠের তৈরি। এই জমিদার বাড়িটি বান্দুরায় অবস্থিত।


আড়িয়াল বিল

ঢেউহীন এক পানির রাজ্যে আড়িয়াল বিল (Arial Bill)। টলটলে জল-জঙ্গলে মাথাচাড়া দিয়েছে শাপলা ফুল। আকাশজুড়ে সাদা মেঘের সঙ্গে সমান্তরালে উড়ছে অসংখ্য সাদা বক। অল্প এগোতেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্য। সবুজে সমারোহে বুদ হয়ে পড়ছে জোড়া চোখ। নীলচে পানিতে স্পষ্ট হওয়া সাদা মেঘের প্রতিবিম্ব দেখে যে কেউ মায়াবী জগতের ভাবনায় ডুবে যেতে পারবে। বাঁক নিতেই শাপলা ফুলের অরণ্য। হিজল গাছের আঁকাবাঁকা প্রতিবিম্বর সঙ্গে মনে গ্রাস করবে ভুবনচিলের পাখা গুটিয়ে বসে থাকা। এলোমেলো জলপথ পাড়ি দিতেই সামনে পড়বে টলটলে পানি। এই সবই দেখতে পাবেন ঢাকার দক্ষিণে পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের অবভূমি আড়িয়াল বিলে।


ইদ্রাকপুর দুর্গ

৩৫০ বছরের বেশি পুরনো ইদ্রাকপুর কেল্লা (Idrakpur Durgha) মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত একটি মোঘল স্থাপত্য। বাংলার সুবেদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে তদানীন্তন ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। কালের পরিক্রমায় সেই ইছামতীর গতিপথ পাল্টে গেছে। তবে দুর্গটির এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদী এখনো বহমান। দুর্গটি নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে আয়তনে কিছুটা ছোট। ৮২ মি. ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ সমগ্র এলাকাকে রক্ষা করার জন্য মোঘল আমলে ইছামতী নদীর তীরে নির্মাণ করা হয় ইদ্রাকপুর কেল্লা বা দুর্গ।


সোনারং জোড়া মঠ

সোনারং গ্রামে এক সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। মন্দিরের একটি নামফলক থেকে জানা যায় রূপচন্দ্র নামে এক হিন্দু বণিক জোড়া মঠের নির্মাতা। স্থাপনা দুটি মঠ নামে পরিচিতি পেলেও আসলে এগুলো হিন্দু মন্দির। কথিত আছে শ্রী রূপচন্দ্রের অন্ত্যষ্টিক্রিয়া এখানেই সমাপ্ত হয়েছে। সোনারং জোড়া মঠ (Sonarang Jora Moth) বাংলাদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর এই প্রতœতত্ত্বক নিদর্শন। এটি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত। কথিত ইতিহাসে জোড়া মঠ হিসাবে পরিচিত লাভ করলেও মূলত এটি জোড়া মন্দির। মন্দিরের একটি প্রস্তর লিপি থেকে জানা যায় এলাকার রূপচন্দ্র নামে হিন্দু লোক বড় কালীমন্দিরটি ১৮৪৩ সালে ও ছোট মন্দিরটি ১৮৮৬ সালে নির্মাণ করেন।


ইলিশের টানে মাওয়া ফেরি ঘাটের পানে

ঢাকা থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দূরত্বে পদ্মা, ইলিশ আর মিষ্টির জন্য বিখ্যাত মাওয়া ঘাট (গধধি এযধঃ)। ঢাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইলিশ খেতে যাওয়া ঢাকাবাসীর প্রথম পছন্দ মাওয়া ফেরি ঘাট। প্রাচীনকাল থেকেই ইলিশের চাহিদা সর্বত্র বর্তমানে এর চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গেছে। আর সেই ইলিশ যদি হয় মাওয়া ঘাটের পদ্মার রুপালী ইলিশ তাহলে তো জিভে পানি আসারই কথা ।
আর সে জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ খেতে আসেন ভোজন রসিকরা। এই বিশাল চাহিদা পূরণে মাওয়া ঘাটের পাড়ে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় হোটেল। রয়েছে মৌসুমি ফলসহ অন্যান্য পণ্যের বিশাল সমারোহের দোকান। এছাড়াও রয়েছে খ- খ- মাছের বাজার। এ মাছের বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পদ্মা নদীর তাজা ইলিশসহ ছোট-বড় মাছ। দর্শনার্থী কিংবা ভোজন রসিক যাই বলেন তাদের কাছে নদীর তাজা মাছের চাহিদা ব্যাপক,আর এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়।
ঢাকার খুব কাছে হওয়ার কারণে একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন পদ্মার মাওয়া ঘাট থেকে আর দুপুরে পদ্মা ঘাটে বসে ধোয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে পদ্মার ভাজা ইলিশ দিয়ে ভুড়ি ভোজ করুন।


জেলার পটভূমি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করেন। এই দেওয়ানীকে প্রথম রাজস্ব প্রশাসন হিসেবে অভিহিত করা যায়। সে সময় মুন্সিগঞ্জ ঢাকা জেলার অংশ ছিল। ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে মি. মিডেলটন স্বাধীনভাবে রাজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করতে থাকেন। তিনি সর্বোচ্চ জমিদারি ডাককারীদের অনুকূলে মহাল গুলো লিজ দিয়েছিলেন। এদিকে লিজপ্রাপ্ত জমিদারগণ আবার সাব লিজ দিতে থাকলেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ১৭৭৬ থেকে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রাদেশিক কাউন্সিল কাজ করে। ঢাকা কালেক্টরেটের আওতায় ১৯৪৭ সালে মুন্সিগঞ্জ মহকুমা সৃষ্টি হয়। কে এস এইচ চৌধুরি ইপিসি এস মুন্সিগঞ্জের প্রথম এসডিও ছিলেন। জনাব চৌধুরী ২২-০৮-১৯৪৭ থেকে ১৭-০৭-১৯৪৯ পর্যন্ত এসডিও পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুন্সিগঞ্জ জেলা ঘোষণা করা হয়।


মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ব্রিজের পরে মেঘনা ব্রিজ থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার বালুয়াকান্দিতে অবস্থিত মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট (গবমযহধ ঠরষষধমব ঐড়ষরফধু জবংড়ৎঃ)। রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই এই মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট এর অবস্থান হওয়ায় একদিনের ট্যুরের জন্য উপযুক্ত একটি বিনোদন কেন্দ্র। দারুণভাবেই সাজানো হয়েছে রিসোর্টটি। মেইন গেট দিয়ে ঢুকেই সুসজ্জিত রিসিপশন। প্রথমেই চোখে পরবে সুন্দর করে সাজানো ডাইনোসর, মাছ এবং বাঘের প্রতিকৃতিগুলো। রিসোর্টে ঢুকে ডান দিক দিয়ে হাঁটলে চোখে পরবে একটি মিনি চিড়িয়াখানা।


প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর
অতীশ দীপঙ্কর ৯৮২ সালে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ৩১ বছর বয়সে তিনি শ্রীলঙ্কায় গমন করেন ও পরে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাচার্য পদে আসীন হন। ১০৪১ সালে হিমালয় অতিক্রম করে তিনি তিব্বতে যান। তাঁর অসাধারণ পা-িত্যের কারণে তিব্বতীরা তাঁকে অত্যন্ত সম্মানজনক ‘অতীশ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১০৫৪ সালে তিনি দেহত্যাগ করে।

জগদীশ চন্দ্র বসু
জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ভগবান চন্দ্র বসু। পৈত্রিক নিবাস শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল গ্রামে। জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন যে, মানুষের মতো গাছেরও প্রাণ আছে। ১৯১৫ সালে তিনি ‘নাইট’ বা স্যার উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯১৭ সালে তিনি বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
চিত্তরঞ্জন দাস ১৮৭০ সালে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার তেলীরবাগ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলার যে কজন সুস্থ চিন্তাধারার রাজনীতিবিদ জাতীয় উন্নতি বিধানে ভূমিকা পালন করেন চিত্তরঞ্জন দাস তাদের অন্যতম। ১৯২৫ সালের ১৬ জুন তিনি মারা যান।

সরোজিনী নাইডু
ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী মহিলা নেতা ছিলেন সরোজিনী নাইডু। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কনকসার গ্রামে। ১৮৭৯ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সর্বভারতীয় রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক সরোজিনী নাইডু কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও এক সময়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বাগ্মী ও ইংরেজি ভাষার যশস্বী কবি ছিলেন।

সত্যেন সেন
জন্ম ১৯০৭ সাল, মৃত্যু ১৯৮১ সাল। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রাম তাঁর পৈতৃক ভিটা। সত্যেন সেন ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। এই প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে বহুবার কারাবরণ করেছেন।

জিতেন ঘোষ
লৌহজং থানার কুমার ভোগ গ্রামের অধিবাসী জিতেন ঘোষ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে পুরোধা ছিলেন। চিরকুমার জিতেন ঘোষ সারা জীবন কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছেন। জেল খেটেছেন যুগের পর যুগ। তিনি বহু গ্রন্থের প্রণেতা।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
১৮৮৮ সালের ১৯ মে সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস মুন্সিগঞ্জের মালপদিয়া গ্রামে। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই ঔপন্যাসিক ‘পদ্মানদীর মাঝি’ পুতুল নাচের ইতিকথা’সহ অনেকগুলি উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে অমর হয়ে আছেন।