করোনা অল ফর ওয়ানের নানা উদ্যোগ

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

সবার উপরে মানুষ সত্য

করোনা অল ফর ওয়ানের নানা উদ্যোগ

মাহবুব নাহিদ ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২০

print
করোনা অল ফর ওয়ানের নানা উদ্যোগ

অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন একটি বাংলাদেশভিত্তিক দাতা প্রতিষ্ঠান। যেটি মূলত স্বাস্থ্য এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। কর্মক্ষেত্রের পরিধি আরও বড়। কভিড-১৯ পৃথিবীব্যাপী সংকট এবং এ মুহূর্তে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের সুবিধাবঞ্চিতদের সহযোগিতার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। জানাচ্ছেন তিনটি পদক্ষেপের কথা-

৪০০০ মানুষের জন্য মাসিক আহারের ব্যবস্থা আমরা ইতোমধ্যে ৪০০০ মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করেছেন যারা এ দুর্যোগে শিকার। এদের মধ্যে রয়েছে ৩৬৭ জন যৌনকর্মী, ১০০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্নবিত্ত মানুষ, ৪০২ জন প্রতিবন্ধী, ৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গ, ৫০ জন চা বাগানের কর্মী, চিনির কারখানায় নিয়োজিত ১২০টি পরিবার, ২২০ জন আদিবাসী এবং বাকি সবাই দিনমজুর এবং হতদরিদ্র মানুষ। 

ঘরোয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা ঘরোয়া সহিংসতা এ লকডাউনে একেবারে শীর্ষে পৌঁছে গেছে। ঘরোয়া সহিংসতাকে শারীরিক, মানসিক এবং আক্ষরিক অবমাননা- এ তিনভাবে অর্থনিরূপণ করা হচ্ছে। যেখানে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাসে স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে, সেখানে আবার অনেক পরিবারের চিত্রটিই আশাব্যঞ্জক নয়।

পৃথিবীব্যাপী এ মহামারীর সময় বাসায় অবস্থান করার ফলে প্রচণ্ড মানসিক চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। চিন্তা করুন, যাদের আপনি প্রচ- ভয় পান তাদের সঙ্গে আপনি এই মুহূর্তে বাসায় বন্দি আছেন! পত্রিকার পাতা ওল্টালে কিংবা টেলিভিশন এর চ্যানেল পাল্টালে এমন ঘরোয়া নির্যাতনের অসংখ্য অমানুষিক ঘটনা চোখে পরে। আমরা এ পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বুঝি। সে জন্য তারা আইনগত এবং মানসিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাগুলো শুনে সহায়তা এবং সান্ত¡না প্রদান করছেন। দানগ্রহীতা এবং অন্যান্য নারীর কাছ থেকে অসংখ্য সাহায্য বার্তা পেয়েছেন।

তারা জানতে পেরেছেন অনেক নারীকে তার শ্বশুরের বাসায় বসবাসের ফলে নানান প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। যেখানে তাদের বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করা সত্ত্বেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তারা গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করবে। গৃহকর্মীর অবর্তমানে শ্বশুরবাড়ির অন্য কোনো সদস্য এরূপ অবস্থায় এগিয়ে আসছে না। যার ফলে পরিবারের বউটিকে কাজের ঘানি একাই টানতে হচ্ছে।

নিজের বাবার বাড়ি থেকে দূরে থেকে শ্বশুরবাড়ির সব কাজের দায়িত্ব একাই বাধ্যতামূলকভাবে ঘাড়ে নিয়ে, যখন তখন তাদের বদমেজাজের ঘোর সংযোজিত অধিবৃত্তি হিসেবে পেয়ে এবং মানসিক চাপে বাসায় বসে অফিস করার অসুস্থ পরিবেশ অনেককেই দুর্দশার দ্বারে নিয়ে গেছে। দুঃখজনকভাবে এটিই অপেক্ষাকৃত কম ঝাঁজালো ঘটনা। স্বল্পবয়স্ক তরুণীরা যারা যৌথ পরিবারে বাস করে, তারা তাদের মামা চাচা অথবা অন্য কোনো আত্মীয়ের দ্বারা যৌন নিপীড়নের ঘটনা আমাদের বলেছে এবং তারা জানিয়েছে এ বিষয়ে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। কারণ তাদের ধারণা অন্য কেউ এ ঘটনা বিশ্বাস করবে না।

শুধু তাই না, একটি মেয়ে তাদের এটাও জানিয়েছে যে তার এক আত্মীয়ের দ্বারা জোরপূর্বক যৌনাঙ্গে স্পর্শের ঘটনা তার মাকে জানানোর পর তাকে তার মা এই ব্যাপারে নীরব থাকতে বলেছে। তাদের কাছে, সাত বছরের একটি শিশুকে তার কর্মহীন বাবার নিষ্ঠুর অত্যাচার থেকে বাঁচানোর জন্য এক অসহায় মা আবেদন করেছেন। কতিপয় নারী তাদের স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের দ্বারা মৌখিক এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয়, কতিপয় মানুষ এ ভয়াবহ আর্থিক অবস্থায় তাদের বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। শিক্ষিত স্বামীরা কী কারণে তাদের স্ত্রীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করছে তা অনেকেই অনুধাবন করতে পারছে না। এ ধরনের আরও লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা তাদের ব্যথিত করেছে। এসব প্রেরিত বার্তা আমাদের সহযোগিতার দুয়ার খুলতে চালিত করেছে। হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে সুস্থভাবে বাঁচার তাগিদে, তারা এই নিপীড়িত নারীদের ঘটনা শুনতে এবং তাদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে সার্বিকভাবে প্রস্তুত।

তাদের লক্ষ্য, বিভিন্ন কৌশলে কীভাবে অবস্থার উন্নতি করতে পারে তা নিয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন ন্যাশনাল হেল্পলাইন সম্পর্কে তাদের অবগত করা। তাছাড়া যদি তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন মনে হয়, তারা আইনজীবীদের দ্বারা তাদের বিনামূল্যে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। নারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন তাদের বিষয়ে কথা বলার জন্য। একইভাবে যদি অন্যান্য নারী এবং পুরুষ তাদের পরিবার, নিকটাত্মীয় অথবা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘটে যাওয়া পারিবারিক নির্যাতনের অবস্থা তুলে ধরে, তাহলে তা নিপীড়িত নারীদের অবস্থা পরিবর্তনে সহায়তা করবে।

আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ক্ষমতায়ন যেসব নারী এবং তরুণদের পরিবার কভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত, তারা প্রতিনিয়ত তাদের কর্মের ব্যবস্থা করে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তুলছেন। তারা ওই মানুষদের জন্য জন্য সেলাই মেশিন, ছোট দোকান, চাষাবাদের জন্য জমি এবং ছোট ব্যবসায়ের ব্যবস্থা করছেন যেন তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। তাছাড়াও তারা আরও নানান কাজে জড়িত। পরবর্তীকালে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশা রাখেন।