সহযোগিতার হাত

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

সবার উপরে মানুষ সত্য

সহযোগিতার হাত

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২০

print
সহযোগিতার হাত

করোনার দুঃসময়ে খেটেখাওয়া মানুষের কষ্টের শেষ নেই। পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে হৃদয়বান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। খাদ্যপণ্য, নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে। অসহায়, দুস্থদের পাশে ব্যক্তি, সংগঠনের কর্মতৎপরতার এমন চিত্র আশাব্যঞ্জক।

মানুষের পাশে ‘সৌল-ব্রাদার্স’-এর তরুণরা : বয়সে তারা সবাই তরুণ। টগবগে তারুণ্য চোখেমুখে। তারা ভাবলেন, এ দুঃসময়ে কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। অসহায়দের সাহায্য করা যায়। সম্পদের ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। ঢাকার আগারগাঁওয়ের এই তরুণরা গত রমজান মাসে ইফতার বিতরণ করেছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে। নিজের জমানো টাকা খরচ করেছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে। 

পাড়ার রাস্তা, বাড়িঘরের দরজা-দেয়ালে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন তারা। তাদের আরেকটি কর্মসূচি হলো- শিশুখাদ্য বিতরণ। দরিদ্র পরিবারগুলোর যাদের বাড়িতে দুগ্ধপোষ্য শিশু রয়েছে, তাদের কাছে শিশুখাদ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। খুঁজে খুঁজে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে শনাক্ত করছে তারা। ফেসবুকে Soul Brothers of Bangladeshয নামে একটি পেজ আছে। কউ চাইলে ০১৬৭৬৫১৮৫৩১ বিকাশের এই অ্যাকাউন্টে সাহায্য পাঠাতে পারবেন। ঈদের আগে চারটি বস্তির পাঁচ হাজার পরিবারকে সেমাই, চিনি আর দুধ পৌঁছানের উদ্যোগ নিয়েছিল ‘সৌল-ব্রাদার্স’।

অভাবিদের পাশে হুমায়ুন : কখনো হেঁটে, কখনো রিকশায় ছুটে চলেন তিনি। পাড়া, মহল্লা, অলিগলি চষে বেড়ান। কার কী সমস্যা জানতে চান। নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। গেল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ কাজ করছেন। মানবিক মানুষটির নাম হুমায়ুন সরকার। থাকেন গাজীপুরে। ব্যবসা করেন। তিনি বাড়ি ভাড়া পর্যন্ত নেওয়া স্থগিত করেছেন। যেন ভাড়াটিয়াদের কষ্ট না হয়।

হুমায়ুন সরকার জানান, এ পর্যন্ত ৯৩ জন কর্মহীন মানুষকে নগদ দুই হাজার করে টাকা এবং ৪০০ পরিবারে ১৬ কেজি পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। মাওনার উত্তর ও মাওনা মধ্যপাড়া এলাকায় বসবাসকারী কর্মহীনদের হুমায়ুন এ খাদ্য ও টাকা বিতরণ করেন।

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটা, পেঁয়াজ, রসুন এবং একটি করে মুরগি। এ ছাড়া রোজার শুরু থেকেই ইফতারসামগ্রী দিয়েছেন তিনি। ২০০-রও বেশি পরিবারে ৫ কেজি করে মুড়ি, ২ কেজি বুট, ১ কেজি খেজুর দিয়েছেন।

হুমায়ুনের ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা পাওয়া পোশাক শ্রমিক পারভীন আক্তার জানান, কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখেছে মালিক পক্ষ। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও পঙ্গু স্বামীকে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় কারও মাধ্যমে হুমায়ুন সরকার এ খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট দিয়ে যান। সঙ্গে একটি মুরগিও।

গরিবের বন্ধু বানারীপাড়ার রফিকুল আলম : তিনি যখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আবার যখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেই উভয় অবস্থায় গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকছেন। তাদের যে কোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসছেন। মহৎপ্রাণ মানুষটির নাম রফিকুল আলম। বরিশালের বানারীাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুবার নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এলাকার দরিদ্্র, কর্মহীন, ভাসমান জেলেদের মাঝে নিত্যপণ্য খাদ্যদ্্রব্য বিতরণ করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের এসব পৌঁছে দেন। তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, মানুষের জন্যই সারা জীবন কাজ করে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব তাদের পাশে থাকব। তাতে জনপ্রতিনিধি থাকি আর না থাকি। জানা যায়, ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় তিনি নিজস্ব উদ্যোগে অসহায়, দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার উন্নয়ন কর্মকা-সহ বিভিন্ন খাতে প্রচুর দান খয়রাত করেন।

কিশোরদের অনুকরণীয় তৎপরতা : তারা এসএসসি ২০২০-এর ব্যাচ। বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনিস্টিটিউটের ছাত্র। মানুষের দুঃখ-কষ্ট এ কিশোরদের স্পর্শ করেছে। গরিবদের মধ্যে তারা উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছে। নিজের জমানো টাকা। তাও মানুষের জন্য খরচ করেছে। এরা কেউই কর্মজীবী নয়। সকলে ছাত্র। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ছিল। সে কারণে ছোট ছোট এসব ছেলে অসংখ্য মানুষকে সহায়তা করতে পেরেছে। ইতোমধ্যে এদের উপহারসামগ্রী বিতরণের কাজ সব মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

Desperately Seeking Doctors - DSDr- উঝউৎ.-এর টেলিমেডিসিন সেবা : চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে প্রমোট করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য স্বচেতন করা ও তাদের নানা স্বাস্থ্য তথ্য দিয়ে চিকিৎসা সম্পর্কিত কষ্ট কমানো এসব ডেসপারেটলি সেকিং ডক্টরস (ডিএসডিআর)-এর উদ্দেশ্যে। গ্রুপটির এডমিন প্যানেলে যুক্ত আছেন শতাধিক চিকিৎসক ও সাংবাদিক। যারা এথিকস মেনে গ্রুপে স্বাস্থ্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। করোনার এ দুঃসময়ে গ্রুপটি টেলিমেডিসিনে সেবা দিচ্ছে। বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে সকাল ১০টা থেকে ৬টার মধ্যে কল করলেই সেবা পাওয়া যাবে। ০১৮৮২৪৪৬২৭৭, ০১৮৩২৪৮১৭০১, ০১৮৩২৪৮১৮০২, ০১৬৩৫৭৪৬৮০৩, ০১৭৬৭০১২১২৭,
০১৯০৮৫২৮৯৫৯, ০১৭০৮৩৩৫৯২৮, ০১৫৩৩০১৯৯৯৫, ০১৫৩৭২৩৬০৪৬। গ্রুপটির এডমিন জীবনী রয় জানান এখানে প্রতিদিন গড়ে ৯৬৫ রোগী বিনামূল্যে সেবা নিচ্ছেন।

সবুজ কথন গ্রুপের উপহার : ঈদের দিনে মানুষের হাসি ফোটাতে কাজ করেছে সবুজ কথন গ্রুপ। এটি মূলত গাছপালা বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ। গ্রুপটি বিভিন্ন রকম জনকল্যাণমূলক কাজও করে। গত মাসে বারদী, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) এলাকার ৩৮টা পরিবারকে ২৮৫ টাকার প্যাকেজ খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। যার মধ্যে ছিল এক কেজি চিনি, এক লিটার তেল, আধা কেজি সেমাই এবং একটি করে কনডেন্স মিল্ক। এছাড়া ২১টি পরিবারকে নগদ পাঁচশ’ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, জয়দেবপুর (গাজীপুর) এলাকায় ৩২টা পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৩৪৫ টাকার প্যাকেজ। যার মধ্যে ছিলো এক প্যাকেট সেমাই, একটি করে কনডেন্স মিল্ক, আধা কেজি চিনি, আধা লিটার তেল, এক কেজি পোলাওর চাল, কিশমিশ ও গরম মসলা, এক টিউব মেহেদি এবং একটা সাবান। উপহার বিতরণ সম্পূর্ণভাবে সবুজ কথন-এর এডমিনদের নিজস্ব উদ্যোগে। গ্রুপের অন্য সদস্য বা গ্রুপের বাইরে কারো থেকে কোনো প্রকার চাঁদা তোলা হয়নি।

শওকত আরার মানবপ্রেম : ঈদের জন্য যা বাজেট ছিল সবই তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্য খরচ করেছেন। তিনি হলেন শওকত আরা খন্দকার। নিজ ঊদ্যোগে ৬০০ টাকা সমমূল্যের খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তৈরি করে গরিব আত্মীয়, মহল্লার অসহায় এবং বন্ধুবান্ধবের বুয়া, দারোয়ানের মাঝে বিতরণ করেছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের গ্রুপ টিফিন-বক্স (৮৫ ব্যাচ)-এর সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত। এ গ্রুপের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। এছাড়া এসএসসি ৯১ ব্যাচ, রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ সিটি (নারায়ণগঞ্জ)-এর ঊদ্যোগে ত্রাণ বিতরণে তিনি নগদ টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।