ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টাঙ্গাইল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টাঙ্গাইল

রুপসী বাংলা ডেস্ক ৭:১৪ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

print
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টাঙ্গাইল

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তীর্থভূমি টাঙ্গাইল। বাংলাদেশের ভ্রমণ মানচিত্রে যেসব জেলা প্রদীপের মতো উদ্ভাসিত তার মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা অন্যতম। হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সবুজের সমারোহে আচ্ছাদিত গহিন অরণ্য, বাংলার জমিদারদের ইতিহাস সংবলিত বিভিন্ন জমিদার বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে মাজার, মসজিদ ও নদীনালা টাঙ্গাইল জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ। জেলার দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক ভ্রমণ স্থানের মধ্যে করটিয়া জমিদার বাড়ি, মহেরা জমিদার বাড়ি, ধনবাড়ি মসজিদ, ধনবাড়ি নবাব প্যালেস, গুপ্ত বৃন্দাবন, যমুনা রিসোর্ট, বিন্দুবাসিনী বিদ্যালয়, ২০১ গম্বুজ মসজিদ, আতিয়া মসজিদ, আনারসের হাট, জলছত্র, পীরগাছা রাবার বাগান, নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি, সাগরদীঘি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন

ধনবাড়ি নবাব প্যালেস
ধনবাড়ি নবাব প্যালেসটি অবস্থিত টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে। খান বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ছিলেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার প্রথম প্রস্তাবক এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রথম মুসলিম মন্ত্রী। তারই অমর কৃর্তী ধনবাড়ি জমিদার বাড়ি বা নওয়াব প্যালেস (Dhanbari Nawab Palace) বংশাই ও বৈরান নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এই প্রাচীন জমিদার বাড়িটি অপূর্ব স্থপত্যশৈলী এবং কারুকার্যে সত্যিই মনোরম এবং মনোমুগ্ধকর। তবে রিসোর্ট তৈরির পর নবাব প্যালেসে বেড়েছে চাকচিক্য এবং আধুনিকতা। চার গম্বুজবিশিষ্ট অপূর্ব মোগল স্থপত্যরীতিতে তৈরি এই শতাব্দী প্রাচীন নবাব প্যালেস। পুরো নবাব মঞ্জিল বা নবাব প্যালেসটি প্রাচীরে ঘেরা। প্রাসাদটি দক্ষিণমুখী এবং দীর্ঘ বারান্দাসংবলিত। ভবনের পূর্বদিকে বড় একটি তোরণ রয়েছে। তোরণের দুই পাশে প্রহরীদের জন্য রয়েছে দুটি কক্ষ। তোরণটি জমিদার নওয়াব আলী চৌধুরী ব্রিটিশ গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নির্মাণ করেন। প্রাচীরঘেরা চত্বর অংশে আবাসিক ভবন দুটি ছাড়া আরও আছে ফুলের বাগান, চিড়িয়াখানা, বৈঠকখানা, নায়েবঘর, কাচারিঘর, পাইকপেয়াদা বসতি এবং দাস-দাসি চত্বর; যা এখনো আপনি দেখতে পাবেন।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রাসাদের ভেতরের বেশ কয়েকটি কামরা ঘুরে দেখার সুযোগ আছে।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ভারতীয় উপমহাদেশের বুভুক্ষু মানুষের মজলুম নেতা। যেখানে অন্যায়-অবিচার সেখানেই একটি প্রতিবাদী কণ্ঠ, একটি ভূকম্পিত হুঙ্কারের নাম মওলানা ভাসানী। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর পূর্ববঙ্গের প্রবেশপথ খ্যাত সিরাজগঞ্জ জেলার সয়াধানগড়া গ্রামে এক বনেদি মুসলিম পরিবারে মওলানা ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুরবণ করেন।
শাহজামান
শাহজামানের জন্ম আনুমানিক ষোলো শতক। মৃত্যু ১৬৬৩ সালে। তিনি ঐতিহাসিক কাগমারী পরগণার সুশাসক ও আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা বিশিষ্ট আলেম হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় টাঙ্গাইল পিতল, কাঁসা, তাঁতবস্ত্র, দই, মিষ্টি ইত্যাদিতে সুখ্যাতি অর্জন করে।
মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দিন
মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন ১৮৩২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মৌলভী মোহাম্মদ রুকন উদ্দিন। নইমউদ্দিন উপমহাদেশের মুশির্দাবাদ, এলাহাবাদ, জৈনপুর, বিহার, আগ্রা, দিল্লি প্রভৃতি স্থনের দেশবরেণ্য বিখ্যাত আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের কাছে থেকে ইলমে শরীয়ত ও ইলমে মারেফাত আয়ত্ত করেন।
হেমচন্দ্র
হেমচন্দ্র ইতিহাসের পাতায় গোপালপুর উপজেলার হেমনগর রাজবাড়ি উল্লেখযোগ্য। হেমনগর রাজবাড়ির রাজা ছিলেন রাজা হেমচন্দ্র। বিখ্যাত আম্বাবীয়ার জমিদার বংশের কালীচন্দ্র চৌধুরীর পুত্র হেমচন্দ্র চৌধুরী। জন্ম ১৮৩৩ সালে।
নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অন্যতম হলেন ধনবাড়ির নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ১৮৬৩ সালে ২৯ ডিসেম্বর ধনবাড়ি জমিদার পরিবারে তার জন্ম।

আনারসের হাট, জলছত্র
পুরো মধুপুরজুড়েই আনারসের প্রচুর চাষ হয়। মধুপুরের অরুণখোলা, ষোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে আনারসের সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। এসব এলাকায় চাষ হওয়া আনারসের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় আনারস হল জলডুগি। এছাড়া বর্তমান সময়ে জায়ান্টকিউ আনারস চাষেও ঝুঁকেছেন এ এলাকার চাষিরা। আনারসের বাগান দেখার আগে দেখতে হবে আনারসের হাট। এ এলাকার সবচেয়ে বড় হাটের নাম জলছত্র। ভরা মৌসুমে এ হাট ২৫ মাইলের মোড় থেকে অন্যদিকে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।
সাত সকালেই সরগরম হয়ে যায় মধুপুরের আনারসের হাট যা জলছত্র হাট নামে পরিচিত। প্রত্যুষে হাঁটুরের দল হাজির হয়ে যায় জলছত্র বাজারে। কেউ বাইসাইকেলে ঝুলিয়ে, কেউ ঘোড়ার গাড়িতে, কেউ পিকআপ ভ্যানে করে ঠেলে-ঠুলে নিয়ে আসছে আনারস। ২৫ মাইল থেকে সাইকেলে করে বের হয়ে আসছে ভ্যানবোঝাই আনারস, অরুণখোলার দিক থেকে ঘোড়ার গাড়ি করে আসছে আনারস। ষোলাকুঁড়ি থেকে সাইকেলের দুই পাশে আনারস ঝুলিয়ে সাইকেল হাতে টেনে নিয়ে আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে জড়ো হওয়া পাইকাররা দুই পা চালিয়ে রাস্তার মুখে ঘিরে ধরছে বিক্রেতাদের। যদি কম দামে সবার আগেই কিনে ফেলা যায়, সে আশায়। শালবনঘেঁষে দূর-দূরান্তের গ্রামের বাগান থেকে হাঁটুরের দল ঘোড়ার গাড়ি ও রিকশা-ভ্যানে ‘রসে টইটম্বুর গাছপাকা’ আনারস নিয়ে ঝড়ো হয় জলছত্রের হাটে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা আসে আনারস কিনতে। সকাল ৮টা নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ হাট। এখানে-ওখানে স্তূপ করে রাখা আনারস।

পীরগাছা রাবার বাগান
১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের পীরগাছায় অপরূপ প্রকৃতির মেলবন্ধনে গড়ে তোলা হয়েছে পীরগাছা রাবার বাগান (Pirgachha Rubber Garden)। এখানে তিন হাজার একর জায়গাজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার রাবার গাছ রয়েছে। অল্প সময়ের অবসরে যে কেউ ঢাকার কাছে পীরগাছা রাবার বাগান ঘুরে দেখে যেতে পারেন।
রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে মধুপুর রাবার বাগানে সুউচ্চ গাছের সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে সোনালি রোদ উঁকি দিয়ে অকৃত্রিম সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলে চারপাশ। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন সাজে সজ্জিত এই রাবার বাগানে আছে অসংখ্য ফল ও ফুলের গাছ। আর বাগানের মধ্য দিয়ে চলে গিছে বাগানের অফিসে যাওয়ার সুবিশাল রাস্তা।

করটিয়া জমিদার বাড়ি
করটিয়া জমিদার বাড়ি (Karatia Jomidar Bari) টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে পুটিয়ার নদীর তীরে অবস্থিত। জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী মোগল ও চৈনিক স্থপত্য কৌশলে বাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ০.৫ কিলোমিটার প্রস্থের করটিয়া জমিদারবাড়ি চারপাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। জমিদার বাড়িতে রয়েছে লোহার ঘর, রানীর পুকুরঘাট, রোকেয়া মহল, ছোট তরফ দাউদ মহল এবং মোগল স্থপত্যে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মসজিদটিতে মোট আটটি গম্বুজ ও ১৫ ফুট উঁচু একটি মিনার রয়েছে। করটিয়া জমিদারবাড়ি করটিয়া রাজবাড়ি (Karatia Rajbari) নামেও পরিচিত।

মহেরা জমিদার বাড়ি
মহেড়া জমিদার বাড়ির মতো সুন্দর এবং যতেœ সংরক্ষিত জমিদার বাড়ি বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কঠিন। টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে আট একর জায়গাজুড়ে মহেড়া জমিদার বাড়ি (Mohera Jamindar Bari) বিস্তৃত। মহেড়া জমিদার বাড়ি প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শনস্বরূপ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জমিদার বাড়ির সঙ্গেই ছোট পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও বোট রাইডের ব্যবস্থ রয়েছে। রাজধানী ঢাকার বেশ কাছে হওয়ায় সকালে রওনা দিলে এক দিনেই জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসা যায়।
এই জমিদার বাড়ির প্রবেশ পথেই রয়েছে বিশাল দুটি সুরম্য গেট। বিশাল তিনটি প্রধান ভবনের সঙ্গে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, দীঘি ও আরও তিনটি লজ রয়েছে। প্রবেশ পথের আগেই বিশাখা সাগর নামে একটি দীঘি আছে। মূল ভবনে পেছনের দিকে পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর নামে আরও দুটি পুকুর রয়েছে।

সাগরদীঘি
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্বে ঐতিহাসিক সাগরদীঘি (Bangabandhu Bridge) অবস্থিত। প্রায় ১৩ একর জায়গাজুড়ে পাল আমলের সাগর রাজার নেতৃত্বে এই বিখ্যাত দীঘিটি খনন করা হয় সাগরদীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এলাকার পূর্ব নাম ‘লোহিনি’ হলেও বর্তমানে এটি সাগরদীঘি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে সাগর রাজা প্রজাদের পানির কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে এই জলাশয়টি খনন করেছিলেন। খননের পর জলাশয়ে কোনো পানি উঠেনি, রাজা এক স্বপ্নাদেশে রানীকে দীঘিতে নামানোর নির্দেশনা পান। পরবর্তীতে রানীকে দীঘিতে নামানোর পর পরই দীঘি পানি ভরে উঠলে রানীর জীবন বিপন্ন হয় আবার অনেকের মতে, সাগর নামের ধর্মপরায়ণ এক কুমোরের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই দীঘিতে পানি উঠেছিল, যার ফলস্বরূপ দীঘির নামকরণ করা হয় সাগর কুমোরের দীঘি বা সাগরদীঘি। সাগরদীঘির পশ্চিম পাড়ে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাটের ধ্বংসাবশেষ, যা মূলত রাজার বাসস্থন ছিল বলে ধারণা করা হয় উত্তর ও দক্ষিণ দিকে আছে সাগর দীঘি উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাগরদীঘি দাখিল মাদ্রাসা। এছাড়াও দীঘির দক্ষিণ পাশে সাগর রাজার পুত্র বনরাজ পাল প্রায় ২৫ একর জায়গারউপর আরেকটি দীঘি খনন করেন, যা ‘বইন্যা দীঘি’ নামে পরিচিত।


যমুনা সেতু
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের ভুয়াপুর ও পশ্চিমাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থপনকারী যমুনা বহুমুখী সেতুটি বঙ্গবন্ধু সেতু (Sagardighi) হিসেবেও সুপরিচিত। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে উদ্বোধন হওয়া এই সেতু দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ বৃহৎ এবং বিশ্বের ১১তম দীর্ঘতম সেতু। ১৯৯৪ সালে জাপান সরকারের সহায়তায় যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থপিত হলেও ১৯৯৮ সালে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয় সর্বপ্রথম মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা বাস্তবায়ন করেন। বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের ফলে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। যমুনা নদীর ওপর টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সেতু এশীয় মহাসড়ক ও আন্তঃএশীয় রেলপথের ওপর অবস্থিত। যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৯৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৮.৫ মিটার। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য সেতুটি ৮০-৮৫ মিটার লম্বা ১২১টি ইস্পাতের বিমের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। সেতুটিতে স্প্যানের সংখ্যা ৪৯টি ও পিলার ৫০টি। যমুনা বহুমুখী সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন ও ট্রেন চলাচলের জন্য রয়েছে ৪ লেনের সড়ক ও ২টি রেল ট্র্যাক।