রাজনৈতিক কিংবদন্তি

ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রাজনৈতিক কিংবদন্তি

আলতাফ হোসেন ৩:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

print
রাজনৈতিক কিংবদন্তি

রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, সাবেক ডাকসু ভিপি, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সদস্য এবং গণমানুষের নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, ভোলা-১ আসনের সদস্য ও রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদ। মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য, সাবেক ডাকসু ভিপি, দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং গণমানুষের নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

তোফায়েল আহমেদকে রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক সংগ্রাম ও বিস্তর বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেকবার কারা নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশ্নে কখনো মাথা নত করেননি। আজও তিনি সততা, মেধা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও বাগ্মিতার ফলে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন।

তোফায়েল আহমেদ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকাকালে নিজের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সময় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাকে অমরত্ব দানে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ফাতেমা খানম কমপ্লেক্স’। এই কমপ্লেক্সের অধীনে রয়েছে ফাতেমা গার্লস হাইস্কুল, ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ, ১০ শয্যাবিশিষ্ট ফাতেমা খানম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, এতিম শিশুদের জন্য ফাতেমা খানম মা ও শিশু পরিবার, ফাতেমা খানম জামে মসজিদ, ফাতেমা খানম বৃদ্ধাশ্রম, স্বাধীনতা জাদুঘর (ডিজিটাল)-সহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। নতুন করে নির্মাণ হচ্ছে আজহার-ফাতেমা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

শিক্ষার অনগ্রসর ও অনুন্নয়নে অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাবাজারকে সার্বিক উন্নায়নের ছোঁয়ায় আধুনিক উপশহরে রূপায়িত করেছেন তোফায়েল আহমেদ। মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১৯৯৭ সালে বাংলাবাজার ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজের অবকাঠামো পরিবেশ, আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, সৃজনশীলতা, ফলাফল ও সহপাঠ সব মিলিয়ে দেশের সেরা কলেজগুলোর সঙ্গে সমান্তরালে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রমাণ রাখছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের একটি করে ল্যাপটপসহ নানা পুরস্কার দেওয়া হয়। দরিদ্র্য পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ শিক্ষা বৃত্তি।

এছাড়া গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তিপ্রদান, দরিদ্র-অসহায় ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আগাগোড়াই আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। এসব জনকল্যাণমূলক কাজ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগে যোগদান
ব্রজমোহন কলেজে ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর তিনি ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে ব্রজমোহন কলেজের ক্রীড়া সম্পাদক, পরে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ক্রীড়া সম্পাদক, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ভিপি, হলের ভিপি, ডাকসু’র ভিপি, ছাত্রলীগের সভাপতি, তারপর ’৭০-এর ৩ জুন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ভোলা-দৌলতখাঁ-তজুমুদ্দীন-মনপুরা আসনে মনোনয়ন দেন এবং মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন

স্বাধীনতা যুদ্ধপূর্ব ছাত্র ও গণআন্দোলনে সফল নেতৃত্ব প্রদান করায় তিনি দেশবাসীর অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেন। আবাসিক হল ও ডাকসুর ভিপি থাকাকালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সাহচর্যে আসেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা অতুলনীয়।

১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১০ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগরে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ’ ও ১৭ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রতিষ্ঠার তিনি অন্যতম সংগঠক এবং ’৭২-এ বাংলাদেশ গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত ও বলবৎকৃত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ’

৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের লক্ষ্যে ১২ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তোফায়েল আহমেদকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন। ১৯৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।

১৯৭৩-এ নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ’৭৫-এ দেশে রাষ্ট্রপতি-শাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ‘রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী’ নিযুক্ত হন। ’৭৫-এ দেশের সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ সংক্ষেপে ‘বাকশাল’ গঠিত হয়। বাকশালের যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবলীগ’-এর সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরপরই তাকে প্রথমে গৃহবন্দি ও পরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং রেডিও অফিসে নিয়ে অবর্ণনীয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেন। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাকে ফাঁসির আসামির কনডেম সেলে রাখা হয়। পরে কুষ্টিয়া কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ’৭৮-এ কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৪ বছর তিনি সফলভাবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০-এ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ, ’৭৩, ’৮৬, ’৯১, ’৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সর্বমোট আটবার তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬-এর নির্বাচনে ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে ’৯১-এর জাতীয় সংসদে ‘সংসদীয় গণতন্ত্র’ পুনঃপ্রবর্তনে বলিষ্ঠ ভ‚মিকা পালন করেন। ’৯২-এ তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ ১৮ বছর এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

সংবিধান থেকে কলঙ্কিত ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ অপসারণ, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে তার ভ‚মিকা অগ্রগণ্য। ’৯৬-এ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গণরায়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর মহান জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’-এ তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অর্পিত দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করে দেশ-বিদেশে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।

১৯৯৫-৯৬-এ ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন হয়, তাতে খালেদা জিয়ার আমলে তিনি রাজশাহী কারাগারে বন্দি ছিলেন। এ ছাড়া ২০০২-এ খালেদা-নিজামী জোট সরকারের শাসনামলে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে ক্যান্টনমেন্ট থানায়, পরে কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসির আসামির কনডমে সেলে ১২ দিন আটক রেখে সেখান থেকে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়। রাজনৈতিক জীবনে সর্বমোট সাতবার তিনি দেশের বিভিন্ন কারাগার- ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটে অন্তরীণ ছিলেন। এর মধ্যে সর্বমোট তিনবার তাকে ফাঁসির আসামির কনডেম সেলে রাখা হয়।

২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। ২০১০-এ তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন এবং সাফল্যের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮-এর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

মায়ের প্রতি ভালোবাসা

বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী তোফায়েল আহমেদের মাতৃভক্তি নজিরবিহীন। মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভোলার বাংলাবাজারে মায়ের নামে তিনি স্থাপন করেছেন ‘ফাতেমা খানম কমপ্লেক্স’। সেখানে স্থাপিত হয়েছে ফাতেমা খানম গার্লস হাই স্কুল, ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ, ফাতেমা খানম মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, ফাতেমা খানম শিশু পরিবার, ফাতেমা খানম জামে মসজিদ, ফাতেমা খানম বৃদ্ধাশ্রম, আজহার-ফাতেমা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নবীন প্রজন্মের কাছে সমুন্নত রাখতে এই কমপ্লেক্সে তিনি আরও প্রতিষ্ঠা করেছেন দৃষ্টিনন্দন ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’। জাদুঘরে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ও ফ্রেমে বাঁধানো অবস্থায় দেয়ালগাত্রে সংরক্ষিত আছে দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বের বহুবিধ আলোকচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও দলিলপত্র যাতে প্রতিফলিত হয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বঙ্গভঙ্গ, দেশভাগ, মহান ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন, ’৭১-এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলায় জাতির জনকের নেতৃত্বে বীর বাঙালির ভূমিকা।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, সরকারপ্রধান ও বরেণ্য নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দুর্লভ সব স্থির ও প্রামাণ্যচিত্র। তোফায়েল আহমেদ দলমতের ঊর্ধ্বে উন্নয়নে জলের ভেতর থেকে তুলে এনে সাজিয়েছেন দ্বীপজেলা ভোলাকে।

শিক্ষাজীবন

বিদ্যালয় জীবনের সূচনাতে নিজ বাড়িতে থেকে গ্রামের কোড়ালিয়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। এরপর খায়েরহাট জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করে বোরহানউদ্দিন হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষা শেষে তোফায়েল আহমেদের প্রিয় মান্নান স্যারের পরামর্শে ‘ভোলা সরকারি হাইস্কুলে’ অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভোলা সরকারি স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে সেখান থেকেই ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পারিবারিক জীবন

তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে। পিতা মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। তিন ভাই, চার বোনের মধ্যে তোফায়েল আহমেদের অবস্থান পঞ্চম। তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৪ সালে দনিয়াস্থ আলহাজ মফিজুল হক তালুকদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির একমাত্র মেয়ে ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী।

ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন মুন্নী। জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন স্কয়ার হসপিটালের ডাক্তার, কার্ডিওলজিস্ট। তিনি দিল্লির স্কর্স এবং সিঙ্গাপুর হার্ট সেন্টার থেকে ফেলোশিপ করে ইতোমধ্যে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। মুন্নী-তুহিনের সন্তান ‘প্রিয়’। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তোফায়েল আহমেদের বড় ভাইয়ের ছেলে মইনুল হোসেন বিপ্লব।

তিনি বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে মেধার ভিত্তিতে ম্যাট্রিকে ৫ম এবং ইন্টারমিডিয়েটে ৯ম স্থান অধিকার করেন। এখন অস্ট্রেলিয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে সাবেক বিমানমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল এমপির কন্যা ইশরাত জাহান বিন্তীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন। বিন্তী পেশায় ডাক্তার। ওদের দুই মেয়ে ‘প্রিয়ন্তী’ ও ‘শ্রাবন্তী’।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৮ পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।