একুশে পদকে ভূষিত যারা

ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

একুশে পদকে ভূষিত যারা

আলতাফ হোসেন ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

print
একুশে পদকে ভূষিত যারা

একুশে পদক দেশের জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। বরেণ্য সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রণী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে একুশে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

একুশের মহান চেতনাকে তাৎপর্যপূর্ণ করার পাশাপাশি সৃজনশীল ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনের জন্য একুশে পদক প্রবর্তন করা হয়েছিল। জাতির কৃতী সন্তানরা তাদের মেধা আর কর্মের মাধ্যমে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নসহ ভাষা আন্দোলন আর ২১ ফেব্রুয়ারির মহান চেতনা উজ্জীবিত করে রাখছেন।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয়ের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক আবুল ফজলের পরামর্শে বাংলাদেশে একুশে পদক প্রবর্তন করা হয়। প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একুশে পদক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৬ সালে সাহিত্য, শিক্ষা ও সাংবাদিকতা এই তিনটি বিভাগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি জসীমউদ্দীন, বেগম সুফিয়া কামাল, ড. মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদাসহ মোট ৯জনকে একুশে পদক দেওয়া হয়। একুশে পদক বিজয়ী প্রত্যেককে একটি পদক, একটি সম্মাননা সনদ, একটি রেপ্লিকা এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রদান করা হয়। একুশে পদকে ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে তৈরি ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি পদক প্রদান করা হয় যার নকশা করেছেন নিতুন কুণ্ডু। প্রাথমিকভাবে পুরস্কারের অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বিভিন্ন সময়ে তা বেড়ে দুই লাখ টাকা হয়েছে।


আমিনুল ইসলাম বাদশা
আমিনুল ইসলাম বাদশা ভাষা আন্দোলনের কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে (মরণোত্তর) একুশে পদকে মনোনীত করেছেন। তিনি ১৯২৯ সালের ১৪ এপ্রিল পাবনার কৃষ্ণপুর মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নুরুজ্জামান শেখ ও মাতা খবিরন নেছা। ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাবনার হরতালে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পাবনা শহরে ছাত্র-জনতার মিছিলে নেতৃত্বে দেন তিনি। ১৯৫০ সালের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের রাজবন্দিদের উপর জেল পুলিশের গুলিবর্ষণে ৭ বিপ্লবী নিহত ও ৩০ জনেরও অধিক গুরুতর আহত হন। আমিনুল আহতদের একজন ছিলেন।

ফরিদা জামান
ফরিদা জামান, চিত্রশিল্পী। চারুকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছেন।
ফরিদা জামান ১৯৫৩ সালে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে চারুকলায় স্নাতক এবং ১৯৭৮ সালে ভারতের বরোদাতে অবস্থিত মহারাজা সাজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাবির চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের অধ্যাপক।

অধ্যাপক ড. শামসুল আলম
অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক-২০২০ পাচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক অধ্যাপক বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. শামসুল আলম। তিনি পঁয়ত্রিশ বছর অধ্যাপনা শেষে ২০০৯ সাল থেকে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় ’সদস্য’ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন এবং বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

সুফি মিজানুর রহমান
সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান একজন বাংলাদেশি শিল্পপতি এবং সমাজসেবক। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের কাঞ্চন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সুফি মুহাম্মদ দায়েম উদ্দিন এবং মাতা রাহাতুন নেসা। মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে তাহামিনা রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ৭ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।

ডালিয়া নওশিন
ডালিয়া নওশিন নজরুল সংগীতশিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে। ডালিয়া নওশিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৪ বছরের কিশোরী ছিলেন। সে সময় তিনি ছায়ানটের শিক্ষার্থী ছিলেন। এপ্রিল মাসে পরিবারের সাথে তিনি কলকাতে চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে গঠিত ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থায় যোগদান করে কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেন। নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে সঙ্গীত পরিবেশন করার পর তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগদান করেন।

মেসবাহুল হক
আ. আ. ম. মেসবাহুল হক ওরফে বাচ্চু বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষাসৈনিক। তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে প্রথম হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষরকারীদের একজন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে। মেসবাহুল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে ১৯৩০ সালের ৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি চিকিৎসক। ব্যক্তিগত জীবনে ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক।

আক্তার সরদার
আক্তার সরদার (মৃত্যু ২৬ এপ্রিল ২০১৬) মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকার শেষ জীবিত সরদার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে মরণোত্তর একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে। আক্তার সরদার ঢাকার মগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ওসমান গনি সরদার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিবাহিনী তাদের গোপন আশ্রয়ের জন্য তার মগবাজারের সরদার বাড়িটি ব্যবহার করতো। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন।

মিতা হক
মিতা হক, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী। তিনি ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। তিনি ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। অভিনেতা-পরিচালক খালেদ খান-কে বিয়ে করেন। ফারহিন খান জয়িতা নামে তার একজন কন্যা সন্তান আছে। মিতা হক সুরতীর্থ নামে তিনি একটি গানের স্কুল পরিচালনা করেন। তিনি ‘ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনে’র রবীন্দ্র সংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের সহসভাপতি।

নাজমুন নেসা পিয়ারি
নাজমুন নেসা পিয়ারি একজন বাংলাদেশি লেখক, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। ২০১৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পিয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে সিদ্ধেশ্বরী কলেজে শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। পরে ইডেন মহিলা কলেজে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। ১৯৮০ সাল থেকে পত্রিকাতে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন।

আলী জাফর ওয়াজেদ
আলী ওয়াজেদ জাফর, সাংবাদিক। তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) দায়িত্বাধীন মহাপরিচালক। সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে। জাফর কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে তার নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস একই জেলার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামে। মো. ইছমত আলী ও মোসাম্মৎ রোকেয়া বেগম দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে জাফর ষষ্ঠ। তিনি বাংলা সাহিত্যে ঢাবি থেকে স্নাতক ও ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

জাহাঙ্গীর আলম খান
জাহাঙ্গীর আলম খান গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের (ইউজিভি) দায়িত্বাধীন উপাচার্য। এর পূর্বে তিনি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের সদস্য পরিচালক ছিলেন। গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে। প্রদান করে। জাহাঙ্গীর আলম ১৯৫২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঘাতিয়ারাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সিদ্দিকুর রহমান খান।

ডা. সায়েবা
এবারের একুশে পদক পাচ্ছেন ‘সায়েবাস মেথড’-এর স্রষ্টা দেশের কিংবদন্তি চিকিৎসক ডা. সায়েবা আক্তার। সারা বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন করে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটছে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে। এর ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ। এই চিরাচরিত ভয়ঙ্কর চিত্রটি বদলে দিতে বিস্ময়কর অবদান রাখেন চিকিৎসক ডা. সায়েবা আক্তার। ‘সায়েবাস মেথড’ নামের এই পদ্ধতি আজ অজস্র নারীর জীবন বাঁচানোর এক মোক্ষম উপায় হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া
বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষক। শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। বিকিরণ প্রসাদ ১৯৪৩ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানের আবুরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কৈলাশ চন্দ্র বড়ুয়া ও মাতা মল্লিকা রানী বড়ুয়া। তার দাদা সরৎচন্দ্র বড়ুয়া স্থানীয় মহাজন ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নুরুন নবী
নুরুন নবী, বিজ্ঞানী ও লেখক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন রাজনীতিবীদ এবং নিউ জার্সির প্লেইন্সবোরো শহরের কাউন্সিলর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে নিপুণ সমরকৌশলের জন্য তাকে কাদেরিয়া বাহিনীর দ্য ব্রেইন বলা হয়। ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ
সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ কোরআনের বাংলা ব্যখ্যাগ্রন্থ মাশাহেদুল ঈমান ও বোখারী শরীফের বাংলা ব্যখ্যাগ্রন্থ তাফহিমুল বোখারির প্রণেতা। ইসলামী গবেষণায় অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। নিজামী শাহ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ হিজরী) চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ৬নং ইছাখালী ইউনিয়নের উত্তর ইছাখালী গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ শাহ গোলাম রহমান এছমতী। তিনি মাত্র ৭বছর বয়সে কোরআনে হাফেজ হয়েছিলেন। সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ’র ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে।

সিকদার আমিনুল হক
সিকদার আমিনুল হক (৬ ডিসেম্বর ১৯৪২ - ১৭ মে ২০০৩) একজন বাংলাদেশী কবি ছিলেন। ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। সিকদার আমিনুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ৬ ডিসেম্বর কলকাতার কাঁচড়াপাড়ায়। তার শৈশব কেটেছে কলকাতায়। ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে তিনি ১৯৬৫ সালে বিএ পাশ করেন। দেশী-বিদেশী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সিকদার আমিনুল হক চাকরি করেছেন।
২০০৩ সালের ১৭ মে সিকদার আমিনুল হক মৃত্যুবরণ করেন ঢাকায়।

আব্দুল জব্বার
মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, কুলাউড়ার সাবেক সাংসদ মরহুম আব্দুল জব্বার একুশে পদকের (মরণোত্তর) জন্য মনোনীত হয়েছেন। আব্দুল জব্বারকে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মরণোত্তর একুশে পদকে ভ‚ষিত করা হয়েছে। তিনি ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয়-দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন ও ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রণাঙ্গণের যোদ্ধা এবং -এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালের ২৮ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এস এম মহসীন
এস এম মহসিন, মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা। অভিনয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। মহসিন টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে এবং জাতীয় থিয়েটারের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন। এস এম মহসিনের দুই ছেলে- রেজওয়ান মহসিন ও রাশেক মহসিন।

গোলাম মোস্তফা খান
গোলাম মোস্তফা খান, নৃত্যশিল্পী। নৃত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। গোলাম মোস্তফা ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশের অন্যতম নৃত্যশিল্পী ছিলেন। তার নির্দেশিত নৃত্যনাট্যসমূহের মধ্যে ‘বেণুকার সুর’, ‘তিন সুরে গাঁথা’ এবং ‘রক্তলাল অহংকার’ অন্যতম। ১৯৮০ সালে তিনি ‘বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্র’ নৃত্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে সঙ্গীত, নৃত্যকলা এবং চারুকলা বিষয়ে পাঠদান করা হয়। বর্তমানে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের নৃত্যকলা বিভাগের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শঙ্কর রায়
শঙ্কর রায়, কণ্ঠশিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারে তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মৎস্য ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এর মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১৯৮৬ থেকে কাজ শুরু করে। ময়মনসিংহে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি কিছু মাছের উপরে বিশেষ গবেষণা পরিচালনা করে। তারা চাঁদপুরের রিভারাইন স্টেশন, ময়মনসিংহের ফ্রেশওয়াটার স্টেশন, খুলনায় অবস্থিত ব্র্যাকিশওয়াটার স্টেশন এবং কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র পরিচালনা করে। দুইটি ছোট স্টেশনের মৎস্য জলাধার রাঙ্গামাটি এবং প্লাবনভূমি বাস্তু সান্তাহার। একটি প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রতিটি স্টেশন চার্জের দায়িত্বে থাকেন।