নিরাপদ সড়কের অগ্রদূত

ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

নিরাপদ সড়কের অগ্রদূত

আলতাফ হোসেন ২:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

print
নিরাপদ সড়কের অগ্রদূত

চলচ্চিত্র ও নাট্যাভিনেতা এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। তার হাত ধরেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে এসেছে সচেতনতা, আন্দোলন পেয়েছে জনপ্রিয়তা। জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের দাবিতে দিনের পর দিন সংগ্রাম করে চালক-যাত্রী-পথচারী সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন এখন দেশবাসীর কাছে সত্যিকারের নায়ক। পর্দায় অভিনয় না করলেও তিনি দর্শক ও সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে উচ্চ আসনে আসীন। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের চক্ষুশূল হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। রাজপথে তার কুশপুত্তলিকা দাহসহ হেনস্থা করার নানা চেষ্টার পাশাপাশি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়েছে স্বার্থান্বেষী মহল। এসব আচরণে কষ্ট পেলেও থেমে যাননি রাজপথের এই নিঃসঙ্গ যোদ্ধা। দেশের মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চনকে সমর্থন দিয়েছেন। 

বিদ্বেষমূলক প্রচারণার নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনসহ জ্ঞানীগুণীজন। এছাড়াও চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই ইলিয়াস কাঞ্চনের পাশে দাঁড়িয়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। স্ত্রীকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন শুরু করেন। সেই থেকে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ সময় ধরে সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। তার মতো ব্যক্তিত্ব সড়ক আইন নিয়ে কথা বলেন বলেই সবার সঙ্গে সরকারও বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, আবার কাউকে পঙ্গু করছে।

একটি দুর্ঘটনা কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের জন্য সারাজীবন দুঃসহ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইলিয়াস কাঞ্চনের দাবি অনুয়ায়ী ২২ অক্টোবর ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এজন্য দেশের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারে জনগণের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি ও সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে নিয়ত।

১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু। তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। কাঞ্চন ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ (১৯৮৯) এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। একাধিকবার তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।

যেভাবে শুরু নিসচা আন্দোলন
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর বান্দরবানে স্বামীর শুটিং সেটে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা এক ট্রাকের ধাক্কায় অকালে প্রাণ হারান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। এর আগে ইলিয়াস কাঞ্চনও ভয়ানক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের হাত থেকে রেহাই পান। নিজের জীবনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা এবং স্ত্রী বিয়োগের বেদনার বাস্তবতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে উদ্বুদ্ধ করে, সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত পঙ্গু মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ১৯৯৩ সালে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। এবছরই ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ শীর্ষক এক পদযাত্রায় সামিল হন তিনি। এ পদযাত্রায় বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণই তাকে এই আন্দোলনে উৎসাহ যোগায়। তিনি পদযাত্রা করেই ক্ষান্ত হননি, দাবি নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

নিসচা প্রতিবছর ২২ অক্টোবরকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের দাবিসহ এই দিনটিকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালন করে।

২০০৩ সালে সরকার জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিসচা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে অন্তভুক্ত করেন। সেই সঙ্গে প্রতিবছর সরকারি উদ্যোগে ২২ অক্টোবর জাতীয় পর্যায়ে নিরাপদ সড়ক দিবস পালনেরও ঘোষণা দেয়। সে থেকে প্রতিবছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

নিসচা তার কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন পায়। জনকল্যাণমুখী সংগঠন হিসাবে ব্যাপক কর্মতৎপরতায় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পেয়েছে পরিচিতি। নিরাপদ সড়ক চাই এখন একটি সফল সামাজিক আন্দোলনের নাম।

নিসচা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠনের পাশাপাশি সারা দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শাখা সংগঠন। বর্তমানে নিসচা-এর কার্যক্রম যেমন সাফল্যের মুখ দেখছে, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এর কার্যক্রম আরও প্রসারিত ও গতিশীল করেছে।

শৈশব ও শিক্ষা
ইলিয়াস কাঞ্চন ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম ইদ্রিস আলী। বাবা আবদুল আলী, মা সরুফা খাতুন। তিনি ১৯৭৫ সালে কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে এইস এস সি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শুরু করলেও শেষ করেননি।

চলচ্চিত্র জীবন
১৯৭৬ সালে পুরান ঢাকায় ওয়াপদা মিলনায়তনে একটি মঞ্চনাটকে কাজ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই মঞ্চনাটকের অতিথি ছিলেন সুভাষ দত্ত। নাটকটি দেখার পর দত্ত কাঞ্চনকে তার সাথে দেখা করতে বলেন এবং সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘বসুন্ধরা’ (১৯৭৭) চলচ্চিত্রের পা-ুলিপি দেন। এটি ছিল তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। এরপর তিনি ১৯৭৮ সালে ‘ডুমুরের ফুল, ১৯৭৯ সালে ‘সুন্দরী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৮৬-১৯৯৫ সাল ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনয় জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই দশ বছর তিনি জনপ্রিয়তা শীর্ষে আরোহণ করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে আলমগীর কবির পরিচালিত ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পায় কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ ১৯৮৯ সালে তার আরেক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোছনা’। এরপর তিনি ‘শঙ্খ মালা’, ‘অচেনা’, ‘রাধা কৃষ্ণ’, ‘ত্যাগ’সহ অসংখ্য দর্শক প্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন।

চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার কারণে ১৯৯৬-২০০৫ সময়ে তিনি অভিনয় থেকে সরে যেতে থাকেন। ২০০৫ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে ‘শাস্তি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

২০০৬ সালে আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ‘নিরন্তর’ ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবারের মত ‘বাবা আমার বাবা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালকের খাতায় নাম লেখান। ২০১০ সালে দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘মায়ের স্বপ্ন’ নির্মাণ করেন।

স্মৃতির অলিন্দে স্ত্রী জাহানারা
ইলিয়াস কাঞ্চন তারকা হয়ে ওঠার আগেই পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আবদুল হাফিজ ও গৃহিনী মা নুরবানুর মেয়ে জাহানারার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন ১৯৭৯ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জাহানারা-কাঞ্চনের। বিয়ের পর ১৯৮০ সালে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলেও সংসার-সন্তান সামলিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। সংসারের ১৪ বছরের মাথায় ২৯ বছর বয়সে এক মেয়ে ও এক ছেলেকে রেখে অকালে পরপারে পাড়ি জমান জাহানারা। এরপর ইলিয়াস কাঞ্চনের মনস্তত্বে বেশ পরিবর্তন আসে। জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে চেপে তারকা খ্যাতির মোহ ছেড়ে এফডিসির লাইট-ক্যামেরা আর অ্যাকশনের চিরচেনা রঙিন ভূবন ছেড়ে রাজপথে নেমে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেন। নিজের স্ত্রীকে বাঁচাতে না পারলেও দেশের হাজারো মানুষকে সচেতন করে তুলতে সংগঠনটির কাজ শুরু করেন।

দুর্ঘটনার সময় মেয়ে ইসরাত জাহান ইমা ও ছেলে মিরাজুল মইন জয় মায়ের সঙ্গে থাকলেও ভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে যান। ইমা বিয়ে করে স্বামী-সন্তান নিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। পাঁচ বছরে মাকে হারানো জয় ২০১৪ সালের দিকে যুক্তরাজ্য থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে এখন বাবার ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছেন। বাবার সঙ্গে তিনি নিরাপদ সড়ক চাই-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন; তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

স্ত্রীকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও কুড়ে কুড়ে খায় ইলিয়াস কাঞ্চনকে। তিনি জানান, একবার ভয়ানক সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিলাম। হাত-পা পঙ্গু হওয়ার মতো দুর্ঘটনা। দেশের ডাক্তাররা বলেছিলেন, হাত-পা কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু আমার স্ত্রী বলেছিলেন, হাত-পা কাটা যাবে না। পঙ্গু হয়ে প্রতিদিন কষ্ট পাওয়ার চেয়ে আমার মৃত্যুই ভালো। স্ত্রীর বিচক্ষণতার কারণে সেদিন আমার হাত-পা কাটা থেকে রেহাই পেয়েছিলাম আমি। সিঙ্গাপুরে গিয়ে সেইবার সুস্থ হয়ে ফিলে এসেছিলাম। সেই মানুষটাই সড়ক দুর্ঘটনায় আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল।

কাঞ্চন বলেন, স্ত্রী আমাকে এতো ভালোবাসত। অনেক সময় আমি বলতাম, আমি যদি তাকে না ভালোবাসি তাহলে আমি মানুষ নামের যোগ্য হতে পারি না। সেই মানুষটা এতো অল্প সময়ে চলে গেলে। আমি এখনও স্মৃতি হাতড়ে তাকে খুঁজে বেড়াই। এতো অল্প বয়সে সে কোথায় হারিয়ে গেল।

দুর্ঘটনার চিত্র
নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের পরও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এ ঘটনায় নিরাপদ সড়ক ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।

নৌ, রেল ও সড়ক পরিবহন সেক্টরে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী- ২০১৮ সালে ৪৩১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৫৮০ জন নিহত এবং ১০৮২৮ জন আহত হন। অন্যদিকে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪২১৯টি দুর্ঘটনায় ৪৬২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৬২১ জন আহত হয়েছেন। মহাসড়ক, জাতীয় মহাসড়ক এবং জাতীয়, আন্তজেলা এবং আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

এসসিআরএফ এর পর্যবেক্ষণ আরো বলছে, আঞ্চলিক সড়ক ও আন্তঃজেলা সড়ক ও মহাসড়কে ছোট এবং স্থানীয় যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সমস্ত বাস ও ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, পরিবহন শ্রমিকদের অসন্তুষ্টি এবং সড়ক পরিবহন খাতে সামগ্রিক নৈরাজ্যও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

দুর্ঘটনার বেশিরভাগই হচ্ছে মহাসড়কে আর দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ কর্তৃপক্ষের যথাযথ জরদারির অভাব।

অর্জন
ইলিয়াস কাঞ্চন ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও তিনি বাচসাস পুরস্কার, শেরেবাংলা স্মৃতি পদক, চলচ্চিত্র দর্শক পুরস্কার, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার, ঢাকা সিটি করপোরেশন নগর পুরস্কার, ভয়েস অব আমেরিকা পুরস্কার, বাংলাদেশ কালচারাল মুভমেন্ট পুরস্কার, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।

জাতীয় সড়ক দিবস ঘোষণা
১৯৯৮ সাল থেকে নিসচা ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে।

২০১২ সালে ১ অক্টোবর ঢাকার সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান সংগঠনটি। ওই বছরের ২৬ আগস্ট থেকে তারা গণস্বাক্ষর নেওয়া শুরু করেন। ২০০২ সালে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তবে দিবসটি জাতীয়ভাবে ঘোষণার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করার জন্য গণস্বাক্ষর নেয় নিসচা। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা এক বৈঠকে এই দিনটিকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ ঘোষণা করেন।

২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ‘সাবধানে চালাবো গাড়ি, নিরাপদে ফিরবো বাড়ি’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়।