ঐতিহ্যের নিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ঐতিহ্যের নিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জ

আব্দুর রব নাহিদ ৩:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

print
ঐতিহ্যের নিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জ

মহানন্দা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য আর ফলের রাজা আমের শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদে সমৃদ্ধ একটি জেলা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- বাবু ডাইং, মহানন্দা নদী, ঐতিহাসিক আলী শাহপুর মসজিদ, ষাঁড় বুরুজ, ছোট সোনা মসজিদ, দারাসবাড়ি মসজিদ, দারাস বাড়ি মাদ্রাসা ও চল্লিশঘর, খঞ্জনদীঘির মসজিদ, চামচিকা মসজিদ, তাহখানা কমপ্লেক্স, তিন গম্বুজ মসজিদ, শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ (রহ.) মাজার, ধনাইচকের মসজিদ পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জেলা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আব্দুর রব নাহিদ।

শাহ নিয়ামত উল্লাহর মাজার
বার আউলিয়ার দেশ বাংলাদেশ। এই দেশে ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছে অনেক সুফী সাধক। তার মধ্যে অন্যতম পীর শাহ নিয়ামত উল্লাহ ওয়ালী (Shah Niamat Ullahr Mazar)। দিল্লির করনৌল প্রদেশের অধিবাসী শাহ নিয়ামত উল্লাহ ছিলেন একজন সাধক পুরুষ। কথিত আছে তিনি ছিলেন প্রচণ্ড ভ্রমণপাগল মানুষ। ভ্রমণ করতে করতে একসময় তিনি এসে উপস্থিত হন গৌড় এলাকায়। শাহ সুজা তার গুণে মুগ্ধ হয়ে তার স্থায়ী বসবাসের জন্য গড়ে দেন তাহাখানা।

তাহাখানার উত্তর পাশেই আছে একটি তিন গম্বুজ মসজিদ। আর মসজিদের উত্তর দিকে রয়েছে এই সাধক পুরুষের সমাধি। সাধক পুরুষ হলেও উনি একাধারে একজন কবিও ছিলেন। কাব্যের ছলে রেখে গেছেন অনেক ভবিষ্যদ্বাণী। সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন এই সাধক পুরুষের সমাধিস্থল আর আশপাশের স্থাপনা। ছোট সোনা মসজিদ, দারস বাড়ি মাদ্রাসা ছাড়াও আছে বেশ কয়েকটা প্রাচীন মসজিদ।

ছোট সোনা মসজিদ
ছোট সোনা মসজিদটিকে (Choto Sona Mosque/Mosjid) বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’। এই মসজিদটির বাইরের দিকে সোনালি রঙের আস্তরণ ছিল, সূর্যের আলো পড়লে নাকি এ রঙ সোনার মতো ঝলমল করত। অন্যদিকে প্রাচীন গৌড়ে আরেকটি মসজিদ ছিল, যা সোনা মসজিদ নামে পরিচিত। এটি তৈরি করেছিলেন সুলতান নুসরত শাহ। সেটি ছিল আরও বড়। তাই স্থানীয় লোকজন এটিকে ছোট সোনা মসজিদ এবং গৌড় নগরীর মসজিদটিকে বড় সোনা মসজিদ বলে অবহিত করত। ছোট সোনা মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। এ মসজিদটিকে বলা হয় সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন।

সুলতান আলাউদ্দিন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ) মনসুর ওয়ালি মোহাম্মদ বিন আলি নামে এক ব্যক্তি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসেবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৫০০ বছরের বেশি। প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে পিরোজপুর গ্রামে সুলতানি আমলের রত্ন সাদৃশ্য এ স্থাপনাটি নির্মিত হয়, যা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে সংরক্ষিত।

মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৮২ ফুট লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে ৫২.৫ ফুট চওড়া। উচ্চতা ২০ ফুট। এর দেয়ালগুলো প্রায় ৬ ফুট পুরু। দেয়ালগুলো ইটের কিন্তু মসজিদের ভেতরে ও বাইরে এগুলো পাথর দিয়ে ঢাকা। ভেতরের দেয়ালে পাথরের কাজ শেষ হওয়ার পর খিলানের কাজ শুরু হয়েছে। মসজিদের খিলান ও গম্বুজগুলো ইটের তৈরি।

মসজিদের চারকোণে চারটি বুরুজ আছে। এগুলোর ভূমি নকশা অষ্টকোনাকার। বুরুজগুলোতে ধাপে ধাপে বলয়ের কাজ আছে। বুরুজগুলোর উচ্চতা ছাদের কার্নিশ পর্যন্ত। মসজিদের গঠন অনুসারে এটিকে জেনানা-মহল বলেই ধারণা করা হয়। তবে অনেকের মতে এটি জেনানা-মহল ছিল না, এটি ছিল সুলতান বা শাসনকর্তার নিরাপদে নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা একটি কক্ষ। মসজিদের অভ্যন্তরের ৮টি স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের ওপর তৈরি হয়েছে মসজিদের ১৫টি গম্বুজ। মাঝের মেহরাব ও পূর্ব দেয়ালের মাঝের দরজার মধ্যবর্তী অংশে ছাদের ওপর যে গম্বুজগুলো রয়েছে সেগুলো চৌচালা গম্বুজ।

মসজিদের প্রধান প্রবেশদ্বার বরাবর পূর্বদিকের বাহিরের দেয়ালে স্থাপিত এবং বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে পুনর্নির্মিত ফটকের দৈর্ঘ্য ৭.৬ মিটার ও প্রস্থ ২.৪ মিটার। এদের দু’পাশে দু-সারিতে তিনটি করে মোট ১২টি গম্বুজ রয়েছে। এরা অর্ধ-বৃত্তাকার গম্বুজ। মসজিদের সম্মুখভাগ, বুরুজ, দরজা প্রভৃতি অংশে পাথরের ওপর অত্যন্ত মিহি কাজ রয়েছে, যেখানে লতাপাতা, গোলাপ ফুল, ঝুলন্ত শিকল, ঘণ্টা ইত্যাদি খোদাই করা আছে। দরজাগুলো অলংকরণযুক্ত চতুষ্কোণ ফ্রেমে আবদ্ধ। খিলানগুলো পাথর খোদাইয়ের অলঙ্করণযুক্ত। দুটি খিলানের মধ্যভাগেও পাথরের অলঙ্করণ রয়েছে।

বাবু ডাইং বনভূমি
শহরের কালো ধোঁয়া থেকে মুক্ত হয়ে সবুজ বনানীর স্নিগ্ধতায় প্রাণ ভরে নির্মল আলো-বাতাস নিতে কার না মন চায়। নাগরিক যান্ত্রিকতা থেকে দূরে পালিয়ে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে মনোরম কোনো জায়গায় আনন্দে মেতে উঠলে মন্দ হয় না। পাখ-পাখালির কলতান আর সবুজের সমাহারে নতুন প্রাণ স্পন্দন পেতে তাই প্রকৃতির সান্নিধ্যই সেরা।

আর তাই সব ব্যস্ততা, কোলাহল ছেড়ে অবসরে ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির নৈসর্গিক লীলাভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবু ডাইং থেকে। জেলা শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের বাবু ডাইংয়ে ২০০ একর খাস জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অপূর্ব বনভূমি। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে বাবু ডাইং অবস্থিত। এর মোট আয়তন ৩২২ দশমিক ১৫ একর।

প্রকৃতির নৈসর্গিক এক মনোরম পরিবেশ এই পুরো বনভূমিজুড়ে। বরেন্দ্র্র অঞ্চলের রুক্ষ লালমাটি, উঁচু-নিচু টিলা আর সারি সারি সবুজ অরণ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বাবু ডাইং দারুণ এক মনোরম জায়গা। উঁচু কয়েকটি টিলার জন্যই এক সময়ের বাবুডাঙ্গা আঞ্চলিকভাবে এখন বাবু ডাইং নামে পরিচিত। ছোট বড় ২৬টি টিলার সমন্বয়ে গঠিত বাবু ডাইংয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এলাকাটির সৌন্দর্যকে আরও বর্ধন করেছে।

২৫ বছর আগে এ এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় লাখ গাছ রোপণ করে বিএমডিএ। গাছ লাগানোর পাশাপাশি এখানে ৫টি পুকুরও খনন করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ লেকে একটি ক্রসড্যাম নির্মাণ করে লেকের পানিকে জমিতে সেচ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ক্রস ড্যামের পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় তা দেখতে অনেকটা কৃত্রিম ঝর্ণার মতো। বরেন্দ্র অঞ্চল মানেই উঁচু-নিচু ভূমির সমাহার। দূর থেকে তাকালে মনে হবে ঢেউ খেলানো মাটি। বাবু ডাইংয়ে এমন ফাঁকা মাঠে যেন সবুজের মেলা বসেছে। ফাঁকা মাঠের মধ্যে এমন বনভূমি দেখে আপনার প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

কানসাটের জমিদার বাড়ি
কানসাটের জমিদার বাড়ি রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। কানসাটের জমিদার বাড়ির বংশের আদি পুরুষরা পূর্বে বগুড়ার কড়ইঝাকইর গ্রামে বসবাস করতেন। তখন সেখানে তাদের ওপর দস্যু সর্দার পণ্ডিত অত্যাচার শুরু করে দেয়। তার কারণে তারা সেখান থেকে বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এসে বসতি স্থাপন করেন।

পরে আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট নামক গ্রামে এসে বসতি গড়ে তোলেন। তারপর এখানে তারা জমিদারি প্রথা চালু করেন। তবে কবে তারা জমিদারি চালু করেন তা জানা যায়নি। এই জমিদার বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন সূর্যকান্ত, শশীকান্ত ও শীতাংশুকান্ত। এই জমিদাররা ছিলেন মুসলিমবিদ্বেষী। জমিদারদের মধ্যে মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে তাদের পরিচিতিটা বেশি ছিল। তারা ১৯৪০ সালে মুসলিমদের উচ্ছেদ করার কাজে লিপ্ত হয়।

যার পরিপ্রেক্ষিতে পরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়। পরে শ্যামপুর চৌধুরী বাড়ির নেতৃত্বে বাজিতপুর গ্রামের ১২টি ইউনিয়নের মুসলমানরা একসঙ্গে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং জমিদার বাড়ির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তার ফলে কানসাটের জমিদার শিতাংশু বাবু মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চান। এভাবে এই জমিদারদের ইতিহাস মানুষের মনে গেঁথে আছে।

পরে দেশ ভাগের পর জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হলে এই জমিদার বাড়ির জমিদারিরও পতন হয়। বর্তমান সময়ে জমিদার বাড়িটি অযত্ন ও অবহেলার কারণে ধ্বংসের মুখে রয়েছে। আর জমিদার বাড়িটি গাছপালা ও লতাপাতায় জড়িয়ে রয়েছে।

তিন গম্বুজ মসজিদ
শিবগঞ্জ উপজেলা ফিরোজপুরস্থিত শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ (রহঃ) প্রতিষ্ঠিত তদীয় সমাধি সংশ্লিষ্ট তিন গম্বুজ মসজিদটি (Tin Gumbug Mosjid) মোঘল যুগের একটি বিশিষ্ট কীর্তি। এ মসজিটি শাহ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালী মসজিদ (Shah Niamatullah Wali Mosque) নামেও বেশ প্রসিদ্ধ। কথিত আছে বঙ্গ সুলতান শাহ সুজা তার মোরশেদ হজরত শাহ নেয়ামত উল্লাহর উদ্দেশ্যে (রাজত্বকাল ১৬৩৯-৫৮ খ্রি.) শীতকালীন বাসের জন্য ফিরোজপুর তাপ নিয়ন্ত্রিত ইমারত হিসেবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন।

সময়ে সময়ে শাহ সুজাও এখানে এসে বাস করতেন। উঁচু ভিটের ওপর দণ্ডায়মান এ সমাধিটি বর্গাকৃতির এক গম্বুজ বিশিষ্ট ইমারত। এর প্রত্যেক দিকে ৪৯ ফুট দৈর্ঘ্য প্রস্থ। মধ্য প্রকোষ্ঠটি সাড়ে ২১ বর্গফুর্ট। মূল কক্ষের চারদিকে ঘিরে রয়েছে টানা ভর্টেড বারান্দা। মূল মাজার কক্ষের চর্তুদিকে একটি দরজা বিদ্যমান। বর্তমানে দক্ষিণের দরজা ছাড়া বাকি ৩টি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দরজাগুলো খিলানযুক্ত মূল কক্ষের ওয়াল ভোল্ট গম্বুজের ভার বহন করে। মূলত এটি এক গম্বুজবিশিষ্ট সমাধি ভবন। তাহাখানা থেকে ৩০-৩৫ মি. উত্তরে রয়েছে শাহ নিয়ামত উল্লাহ ওয়ালীর সমাধি। বর্গাকার নকশা পরিকল্পনায় নির্মিত এবং অভ্যন্তরীণ সমাধি কক্ষের চর্তুদিকে প্রশস্ত বারান্দা আছে। পূর্ব-পশ্চিম এবং দক্ষিণে ৩টি করে খিলানযুক্ত মোট ১২টি খিলানপথ রয়েছে।

ক্যানিংহামের নামকরণ করেছিলেন বারদুয়ারী। প্রত্যেক দেয়ালে তিনটি করে প্রবেশপথ সন্নিবেশিত হওয়াতে এ মাজার শরীফকে বারদুয়ারী বলা হয়। এতে ৩টি প্রবেশপথ এবং ভেতরে ৩টি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের ভেতর ও বাইরে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কারুকার্য নেই। দেয়ালে কয়েকটি তাক আছে। স্থানীয় জনসাধারণ এই মসজিদে নিয়মিতভাবে নামাজ আদায় করে থাকেন। এই মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে সুলতান শাহ সুজা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দ্বিতল ইমারত মোঘল যুগের আর একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য কীর্তি।

তোহাখানা কমপ্লেক্স
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী তোহাখানা কমপ্লেক্স বা তোহাখানা অবস্থিত। তোহাখানা (Tohakhana) একটি তিনতলা বিশিষ্ট রাজ প্রাসাদ। তোহাখানা ফার্সি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ ঠাণ্ডা ভবন বা প্রাসাদ। গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর এলাকায় একটি বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ভবন কাঠামোটি ঐতিহ্যগতভাবে তোহাখানা নামে পরিচিত।

সুলতান শাহ সুজা তার মুর্শিদ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহর উদ্দেশ্যে শীতকালীন বাসের জন্য ফিরোজপুরে তাপনিয়ন্ত্রণ ইমারত হিসেবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ্ সূজা বাংলার সুবাদার থাকাকালে ১৬৩৯-১৬৫৮ খ্রি. মতান্তে ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রি. তার মুরশিদ হজরত শাহ সৈয়দ নেয়ামত উল্লাহর প্রতি ভক্তি নিদর্শনের উদ্দেশ্যে তাপনিয়ন্ত্রিত ইমারত হিসেবে তোহাখানা নির্মাণ করেন।

জনশ্রুতি আছে যে, শাহ সুজা যখন ফিরোজপুরে মোরশেদ শাহ নেয়ামতউল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন তখন উক্ত ইমারতের মধ্যবর্তী সুপ্রশস্ত কামরাটিতে বাস করতেন। তোহাখানা কমপ্লেক্সের ভেতরে আরও নাম না জানা অনেক সমাধি দেখা যায়।