পথিকৃৎ শিল্পোদ্যোক্তা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

পথিকৃৎ শিল্পোদ্যোক্তা

আলতাফ হোসেন ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

print
পথিকৃৎ শিল্পোদ্যোক্তা

শিল্প বিকাশে সফল উদ্যোক্ত, দেশপ্রেমিক, সৎ ও পরিশ্রমী একজন সফল মানুষ ছিলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে রেখেছেন অনবদ্য অবদান। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি কাজ করেছেন মানব কল্যাণে। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, সৎ, পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী একজন সফল উদ্যোক্তা। দেশের বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অনবদ্য অবদান রেখেছেন। সমাজসেবার ক্ষেত্রেও এক অনন্য মানুষ ছিলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। নীরবে-নিভৃতে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে অগণিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর সে কারণেই মৃত্যুর পরও তার আদর্শ, নীতিবোধ, ত্যাগ, মহানুভবতা এবং সেবামূলক নানামুখী কর্মকাণ্ড উত্তরসূরিরা ধরে রেখেছেন।

স্যামসন এইচ চৌধুরী ছিলেন স্বপ্নচারী মানুষ। ছোটবেলা থেকেই নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে বড় হয়েছেন। জ্ঞান-বুদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তার স্বপ্নের গণ্ডি। নিজের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানেননি কখনো। কৈশোরেই ভবিষ্যৎ গড়তে বাড়ি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন নেভিতে। ডাকবিভাগেও চাকরি করেছেন তিনি। ছোট একটি ফার্মেসি দিয়ে ব্যবসা শুরু করে স্কয়ার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছেন স্যামসন এইচ চৌধুরী।

শিল্প সৃষ্টির নেশা সামসন এইচ চৌধুরীকে দাঁড় করিয়েছে সফল শিল্পপতির কাতারে। নিরলস প্রচেষ্টায় একের পর এর গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। শুরুর দিকে শুধু ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করা হলেও পরে স্কয়ার গ্রুপে একে একে যুক্ত হয় প্রসাধনী, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ কনজুমার প্রডাক্টস কম্পোজিট টেক্সটাইল, আবাসন, প্রিন্টিং প্যাকেজিং, হাসপাতাল, তথ্যপ্রযুক্তিসহ আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। স্কয়ার প্রতিনিয়ত হচ্ছে প্রসারিত ও উন্নত। বিশ্বের প্রায় ১৩টি দেশে স্কয়ারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

ভোক্তার সুবিধা, কর্মচারী এবং সমাজ এই তিনটি মূল্যবোধ ও মূলনীতি তার প্রতিষ্ঠানের মূলভিত্তি। স্যামসন এইচ চৌধুরী মনে করতেন সমাজের সুবিধার্থে কাজ করায় প্রধান দায়িত্ব। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও স্কয়ার সব সময় লাভের দিকেই নজর দেয়নি, সমাজের প্রতি তার অঙ্গীকারগুলো পূরণের লক্ষ্যে আরও চেষ্টা করেছেন।

স্যামসন এইচ চৌধুরী তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে একজন পরামর্শদাতা ও বিস্ময়কর সততার প্রতীক। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সব সময় মানুষের কল্যাণের বিষয় মূল বিবেচ্য হিসেবে গণ্য করায় তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তার প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তুষ্টির ঘটনা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে কর প্রদানকারী ব্যক্তিও। কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য, স্বচ্ছতা এবং দূরদর্শী হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছেন।

ব্যবসার পাশাপাশি স্যামসন এইচ চৌধুরী সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন মানবপ্রেমী কার্যক্রম করেছেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, গরিব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহয়তা প্রদান, এসিড ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা, বৃক্ষরোপণ, সবার মাঝে স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি, লেখাপড়ায় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেছেন।

স্যামসন এইচ চৌধুরী অর্থনীতিতে অবদান রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। ব্যবসায়ীদের মাঝে এক অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থা ও সংগঠনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন দেশে ও বিদেশেও। শুধু স্কয়ারই না, তিনি ছিলেন আরও অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত। ব্যাপ্টিস্ট ওয়ার্ল্ড অ্যালাইয়েন্সের প্রেসিডেন্টের আসনে ছিলেন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এবং বিবিসিএফের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছিলেন একাধিকবার।

১৯৯৮ সালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ তাকে ‘বিজনেস এক্সিকিউটিভ অব দি ইয়ার’ ঘোষণা করে। ২০০৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক সেরা করদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পান। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পর পর দুই বছর দেশের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০০৯ ও ২০১০ সালে সিআইপি মনোনীত হন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন।


শৈশবে বেড়ে ওঠা
স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্ম ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের আরুয়াকান্দিতে। তার বাবা ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী ও মা লতিকা চৌধুরী। তার স্ত্রীর নাম অনিতা চৌধুরী। তাদের তিন ছেলে- অঞ্জন চৌধুরী, তপন চৌধুরী ও স্যামুয়েল চৌধুরী আর একমাত্র কন্যা রত্না পাত্র। স্যামসন এইচ চৌধুরীর বাবা ছিলেন একজন মেডিকেল অফিসার। বাবার চাকরির সুবাদে তার ছেলেবেলা কেটেছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে।

আবার কখনো বা উন্নত শিক্ষার জন্য পরিবারের ইচ্ছায় একের পর এক স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে। বাবার পোস্টিং চাঁদপুর মিশন হাসপাতালে হওয়ায় শিশু স্যামসনের স্কুলজীবন শুরু হয়েছিল চাঁদপুর মিশন স্কুলে। কিন্তু কয়েক বছর পরেই ইয়াকুব চৌধুরী ফের চাঁদপুর থেকে পাবনায় বদলি হয়ে যান। স্যামসন চৌধুরীকে এবার পাবনার আতাইকুলায় এক গ্রাম্য স্কুলে ভর্তি হতে হলো। ঠিক পরের বছরই সুশিক্ষার জন্য বাবা-মা তাকে পাঠালেন ময়মনসিংহে। সেখানে ভিক্টোরিয়া মিশন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হলেন তিনি। ময়মনসিংহে দুই বছর পড়াশোনা করেছেন। এরপরই ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে চলে যায় তার পরিবার।

কলকাতা থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরত্বে বিষ্ণুপুরে শিক্ষাসংঘ হাইস্কুলে ভর্তি হন স্যামসন। কিন্তু সেখানেও বেশি দিন থাকতে পারেননি। ১৯৪২ সালে নিজ গ্রামে ফিরে আসে স্যামসনের পরিবার। আতাইকুলা হাইস্কুলে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করলেন স্যামসন। এই স্কুল থেকেই তিনি ১৯৪৩ সালে ম্যাট্টিকুলেশন পাস করেন।


কর্মজীবন ও ব্যবসায় হাতেখড়ি
স্যামসন এইচ চৌধুরী মাত্র ১৭ বছর বয়সে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে কলকাতায় এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন, পরে নিজের ভবিষ্যৎ খুঁজতে যান মুম্বাই। এরপর নৌবাহিনীতে পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণও হন। নেভিতে তাকে সিগন্যাল বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে কোনোভাবেই সাড়া না দিয়ে তিনি ‘রাডার অপারেটর’ হওয়ার জন্য আবেদন করেন। এ বিভাগে কাজের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ছিল স্যামসন চৌধুরীর।

এ জন্য তিনি কোনোভাবেই রাডার বিভাগ ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলেন না। তার এই একরোখা জেদের কারণে জেলে ঢুকতে হলো। সেখানে প্রতিদিন সকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কিশোর স্যামসনকে জিজ্ঞাসা করতেন তার মন ঘুরেছে কিনা। কিন্তু কোনোভাবেই তিনি তার সিদ্ধান্ত থেকে একটুও নড়লেন না। অবশেষে পঞ্চম দিনে কর্মকর্তারা তার অদম্য ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে তাকে রাডার বিভাগে নিয়োগ দিলেন। স্যামসন চৌধুরী তিন বছর রয়েল ইন্ডিয়ান নৌবাহিনীতে চাকরি করেছেন।

এরপর নৌ-বাহিনী ছেড়ে ১৯৪৭-এ বাড়ি ফিরে এলেন স্যামসন চৌধুরী। পাবনায় ফিরে নতুন করে ডাকবিভাগে যোগদান করলেন। ওই বছর ৬ আগস্ট ১৫ বছরের কিশোরী অনীতা চৌধুরীকে বিয়ে করেন স্যামসন। পোস্ট অফিসে চাকরির সময় ট্রেড ইউনিয়নে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একবার পুলিশ অফিসারের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডার জেরে শাস্তিস্বরূপ তাকে বদলি করা হয়। বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি স্যামসন। শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন।

চাকরি ছাড়ার পর বাবার ইচ্ছায় তার ডিসপেনসারিতেই বসতে শুরু করলেন স্যামসন চৌধুরী। বাবার এই ওষুধের দোকানেই স্যামসন চৌধুরীর ব্যবসার হাতেখড়ি। তার বাবা ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী ছিলেন ওই অঞ্চলের একজন খ্যাতনামা ডাক্তার। তার একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ছিল। ওই চিকিৎসালয়টি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা চিন্তা করেই এই চেম্বার ও ওষুধের দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইয়াকুব চৌধুরী। ইয়াকুব হোসেন বেশ ধন-সম্পত্তির মালিক ছিলেন। বিশেষ করে সেই সময়ে তার প্রচুর কৃষি জমি ও খামার ছিল। কিন্তু স্যামসন বাবার সম্পত্তিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি নিত্য-নতুন সমৃদ্ধির কথা ভাবতেন।

পথ বের করার চেষ্টা করতেন। অবশেষে তিনি একটি ওষুধ কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন। এ কাজে ১৯৫৬ সালে স্যামসন তার বাবার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিলেন। কোম্পানির নাম রাখলেন ই-সনস (ইয়াকুব হোসেন অ্যান্ড সনস্)। সিরাপ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে তিনি কোম্পানির যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে এই কোম্পানির মালিক, শ্রমিক, পরিবেশক এবং বাজারজাতকারক ছিলেন তিনি একাই। আর তার এই ফ্যাক্টরির একমাত্র সহযোগী ছিলেন তার স্ত্রী অনীতা।


অনুপ্রেরণার মূলে যে মহীয়সী নারী
যুবক স্যামসন চৌধুরীর বয়স তখন ২২। সবেমাত্র ডাক বিভাগে চাকরি শুরু করেছেন। এরই মধ্যে অনীতাকে জীবনসঙ্গী করেছেন স্যামসন চৌধুরী। কেবল জীবনসঙ্গী নন, অনীতা চৌধুরী ছিলেন তার ছায়াসঙ্গী। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে সারাক্ষণ স্যামসন চৌধুরীকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এই মহীয়সী নারী। ভালোবাসার আঁচলে আগলে রেখেছেন নিজের স্বামী-সন্তান ও পরিবারকে।

তার ভালোবাসার অনেক দৃষ্টান্তই মেলে স্যামসন চৌধুরীর পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে। আজও একান্নবর্তী পরিবারের জন্য মডেল হয়ে আছে এই চৌধুরী পরিবারটি। এখনো চৌধুরী পরিবারের অভিভাবক কিংবা মধ্যমণি অনীতা চৌধুরী। বার্ধক্যের কারণে কিছুটা শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও নাতি-নাতনি, ছেলেমেয়ে সবাইকে নিয়ে বেশ ভালোই আছেন তিনি।


কর্মসংস্থান সৃষ্টির জাদুকর
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে স্কয়ার গ্রুপ। সব বাধা মোকাবিলা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও বেকারদের কাছে হয়ে উঠেছে দারিদ্র্য বিমোচনের কাণ্ডারি। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের দ্বারা তৈরি করেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আর তা হচ্ছে জনগণ।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের উদ্যোক্তা হওয়ার গুণাবলিও তৈরি করে স্কয়ার। অনুসন্ধান, ব্যক্তিগত প্রতিভা এবং পেশাদার দক্ষতা প্রকাশের মাধ্যমে উৎসাহিত এবং প্ররোচিত করে থাকে। স্কয়ার তার কর্মচারীদের কর্মদক্ষতায় গর্বিত। ১৯৫৮ সালের ছোট প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।


যেভাবে ‘স্কয়ার’ গ্রুপ
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল্স দেশের একটি স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। মাত্র ১৭ হাজার টাকা নিয়ে ১৯৫৮ সালে স্যামসন এইচ চৌধুরী এবং তার তিন বন্ধু মিলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও যাত্রার শুরুতে প্রথম তিন বছর কোনো লাভের মুখ দেখেনি কোম্পানিটি। এরপর চতুর্থ বছরে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখলেন। ১৯৬২ সালে ঢাকায় কোম্পানির প্রথম শাখা অফিস হলো।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সাল ছিল স্কয়ারের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। ওই বছর কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে স্কয়ারের চুক্তি হয়। এই চুক্তির আওতায় স্কয়ারকে সম্পূর্ণ আধুনিক রূপ দেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধ তৈরি ও আশির দশকে নতুন ড্রাগ পলিসি স্কয়ারের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করে নেয় স্কয়ার। ১৯৮৭ সালে স্কয়ার তাদের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করে। বর্তমানে বিশ্বের ৪২ দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওষুধের পাশাপাশি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের একটি আলাদা ব্যবসা শাখা হিসেবে ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করে ‘স্কয়ার টয়লেট্রিস’। স্যামসন চৌধুরী তার দূরদর্শী চিন্তা এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা দিয়ে বাড়াতে থাকেন ব্যবসা। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্কয়ার টেক্সটাইল লিমিটেড। এর কয়েক বছর পর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ‘এগ্রো কেমিক্যালস ভ্যাটেরিনারি’ ইউনিট খোলা হয়। স্যামসন চৌধুরীর ব্যবসায়িক দক্ষতায় কয়েক বছরের মধ্যেই একে একে যাত্রা শুরু করে স্কয়ার স্পিনিং লিমিটেড, স্কয়ার নিট ফ্রেব্রিকস লিমিটেড, স্কয়ার ফ্যাশন লিমিটেড, স্কয়ার কনজুমার প্রডাক্ট লিমিটেড, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, স্কয়ার ইনফরমেটিক্স এবং স্কয়ার হসপিটালের মতো প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির আরও বেশি কিছু অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।


এক নজরে
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল্স লিমিটেড

স্কয়ার টেক্সটাইল্স লিমিটেড

স্কয়ার স্পিনিংস লিমিটেড

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড

স্কয়ার কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড

স্কয়ার ইনফরমেটিক্স লিমিটেড

স্কয়ার হেল্থ প্রোডাক্টস লিমিটেড

স্কয়ার অ্যাগ্রো লিমিটেড

শেলটেক

পায়োনিয়ার ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড

হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি.

মিডিয়াকম লিমিটেড

এজিস সার্ভিসেস লিমিটেড

মাছরাঙ্গা টিভি

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি