এক নজরে কুড়িগ্রাম

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গাড়িয়াল ভাইয়ের বন্দরে...

এক নজরে কুড়িগ্রাম

জাহিদুল ইসলাম ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

print
এক নজরে কুড়িগ্রাম

ইতিহাস-ঐতিহ্যের তীর্থভূমি কুড়িগ্রাম। বীরপ্রতীক তারামন বিবির সাহসের সঙ্গে লোকসম্রাট ‘হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’র সুরে এ জেলা মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি মেলেনি, নানা বৈষম্য কালো আঁধারে ঢেকে রেখেছে এ জেলার সম্ভাবনাকে। তবুও হাল না ছাড়া এখানকার মানুষ সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে। এখানকার সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয়গুলো আমাদের গৌরব এনে দেয়। ঘুরে দেখার বিশাল সম্ভাবনাময় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জেলা প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম

উত্তরাঞ্চলের ২৭৮.২৮ কিলোমিটার সীমান্তঘেঁষা ২২৫৫.২৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নদ-নদীময় জেলা কুড়িগ্রাম। ১৮৭৪ সালে এই জেলা রংপুর জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়। কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলা, পূর্বে আসাম রাজ্য।

৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমার, সংকোশ, গঙ্গাধর, সোনাভরি, হলহলিয়া, জিঞ্জিরামসহ ১৬টি নদ-নদী। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদ-নদীর অববাহিকায় রয়েছে ৪ শতাধিক চরাঞ্চল। এই জেলার নামকরণে মতবাদ আছে কুড়িদের মিষ্টি বিক্রির বাজার হিসেবে গড়ে ওঠে ‘কুড়িগঞ্জ’ পরবর্তীকালে কুড়িগ্রাম নাম ধারণ করে। এছাড়াও মতবাদ আছে এই জেলায় কুচবিহার থেকে আসা কুড়িটি পরিবার কুড়িটি পাড়ায় জনপদ গড়ে তোলে বলে এই এলাকার নামকরণ করা হয় কুড়িগ্রাঁও।

‘ওকি গাড়িয়াল ভাই হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’ কচিমুদ্দিনের সেই বিখ্যাত ভাওয়াইয়া-খ্যাত ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর জেলা শহরের ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। ৪২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বকোণে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সোনাহাট ব্রিজ ও সোনাহাট স্থলবন্দর। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে রয়েছে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা। স্বাধীনতা-যুদ্ধের সময় রৌমারী মুক্তাঞ্চল ছিল। দেশের দুইজন নারী বীর প্রতীকের মধ্যে প্রয়াত তারামন বিবি বীর প্রতীকের বাড়ি রৌমারীতে।

এই জেলায় উলিপুর মুন্সিবাড়ি, নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়ি, নাগেশ্বরীর কাচারীবাড়ি, রাজারহাটের চাঁন্দামারী মসজিদ অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করছে।  কুড়িগ্রাম জেলায় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় এখানকার মানুষ কৃষিনির্ভর।