কিংবদন্তির অচীন গাছ

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গাড়িয়াল ভাইয়ের বন্দরে...

কিংবদন্তির অচীন গাছ

জাহিদুল ইসলাম ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

print
কিংবদন্তির অচীন গাছ

যুগযুগ ধরে রাজারহাটে কিংবদন্তির অচীন গাছ ইতিহাস বহন করে আসছে। এখনো গাছটি দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এই গাছটির অবস্থানকে কেন্দ্র করে গ্রামের নামকরণ হয়েছে অচীন গাছ। গাছের গোড়ায় হিন্দু ধর্মাবম্বলীরা বিশেষ দিনে পূজা অর্চনা করেন। ২০০ বছর পূর্বে কোনো এক রাতে আকস্মিক এই গাছটির আবির্ভাব ঘটেছে বলে গ্রামের লোকদের বিশ্বাস।

কথিত আছে, ওই গ্রামে মংলু রাম নামের এক যুবক কলতাপাড়া নামক স্থানে এক বৃদ্ধা মহিলার বাড়িতে কাজ করতেন। সেখানে বৃদ্ধার নাতনির সঙ্গে মংলু রামের বিয়ে হয়। অনেকদিন সেখানে থাকার পর ওই বৃদ্ধা মংলুরামকে সস্ত্রীক বাড়িতে আসতে দিতে রাজি হন। এর প্রেক্ষিতে ওই মহিলা তার নাতনি ও মংলু রামকে যোগাযোগের বাহন হিসেবে একটি গাছ উপহার দেন।

ওই গাছের ডালে তাদের বেঁধে দিলে গাছটি রাতের আঁধারে তাদের দু’জনকে মংলুরামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরের দিন সকালে গ্রামে মংলু রামের উপস্থিতি ও হঠাৎ এই বিশাল আকৃতির গাছ দেখে হতবাক হয়ে যান এলাকাবাসী।


কিংবদন্তির অচীন গাছ
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা শহরের বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত ২৭০ বছরের অধিক পুরাতন স্থাপত্য মুন্সিবাড়ী। নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাসনামলে বনওয়ারী মুন্সি খসড়া প্রণয়ন বিভাগে একজন কর্মচারী ছিলেন। এ কারণেই মুন্সি শিরোনাম তার নামে যোগ হয়ে যায়। নবাবের রাজত্বকালে, বনওয়ারী মুন্সি ধরনীবাড়ী অঞ্চলে বামনী নদী পথে (যা বর্তমানে শুকিয়ে গিয়েছে) শিকারের জন্য এসেছিলেনে। শিকারের সময় তিনি একটি সাপকে ব্যাঙ গিলে ফেলার দৃশ্য দেখেন। পরে অতি উৎসাহিত হয়ে নবাবকে এ অঞ্চলের কিছু জমি তার নামে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। নবাব তাকে ২১.২০ একর জমি এবং লক্ষ্মী নারায়ণের জন্য ১১.২০ একর জমি বরাদ্দ করেন।

বনওয়ারী মুন্সিরে কোনো সন্তান ছিল না। তার স্ত্রী কাদিঙ্গিনী মুন্সী, লক্ষ্মী নারায়ণকে সেবা করার জন্য বিনোদ নামে একজন দত্তক পুত্র নিয়েছিলেন। কিন্তু বিনোদও ছিলেন সন্তানহীন। পরবর্তীতে তাই একই উদ্দেশ্যে বিনোদের স্ত্রী কৃষ্ণ কামিনী আরেক ছেলে, ব্রজেন্দ্র লালকে গ্রহণ করেছিলেন। পরে ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সির স্ত্রী আশরাথ মুন্সি দুই মেয়ের জন্ম দেন। বড় মেয়ে শুচি রানী ও ছোট মেয়ে শুশমান কান্তি। শুশমান কান্তি খুব অল্প বয়সে মারা যায়। কুষ্টিয়াতে শুচি রানীর বিয়ে হয়। পরে তার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। শুচী লক্ষ্মী নারায়ণকে সেবা করার জন্য বিহারীলাল নামে একজন পুত্রসন্তান দত্তক গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে কলকাতায় চলে যান। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে ভবনটির নাট মন্দির, দুর্গা মন্দির, বিষ্ণু মন্দির, ডাইনিং ঘর, রান্নাঘর, গোবিন্দ মন্দির, অঙ্কন ঘর, বিছানা ঘর, উপরের তলায় বিশ্রামের ঘর, বাথরুম এবং শিব মন্দির নষ্ট হয়ে যায়।

মুন্সিবাড়ী ও তার সম্পত্তি দখলের জন্য কয়েক বছর পূর্বে স্থানীয় কিছু লোকের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অনেকেই আহত ও একজন নিহত হয়।