ঢাকার নদী বাঁচানো বন্ধু

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাকার নদী বাঁচানো বন্ধু

আবু বকর সিদ্দীক ১২:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

print
ঢাকার নদী বাঁচানো বন্ধু

মোহাম্মদ এজাজ একজন স্বাধীন গবেষক, যিনি ঢাকা বিভাগের নদী নিয়ে বেসলাইন (ভূমিরেখা) সার্ভে চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তি উদ্যোগে নদী বাঁচাতে এ আয়োজন বিরল, তিনি হারিয়ে যাওয়া, দখল হয়ে যাওয়া এবং প্রবাহ বন্ধ হয়ে মরে যাওয়া নদীগুলোর অস্তিত্বও তুলে ধরেছেন। ঢাকার নদীগুলো বাঁচলে অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে, রাজধানীর চারপাশে গড়ে উঠবে নদীপথের নতুন যোগাযোগ। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আবু বকর সিদ্দীক

দখল-দূষণে বিলীনের পথে

হুমকি অনেক রয়েছে। কিছু নদীকে আমরা নদীর নদী হিসেবে ডাকতে পারি। আমরা দেখেছি, কিছু শহর নগরকে গড়ে তোলার জন্য ঢাকা বিভাগের আধা নগর ও গ্রামীণ নদী রয়েছে। নদীগুলোর বৈশিষ্ট্য একটি থেকে অন্যটি ভিন্ন। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দখলদারিত্ব। আর একটি বড় সমস্যা উঠেছে নদীগুলোর ব্যবহার। শিল্প দূষণ ব্যাপক। বাকি নদীগুলোতে স্বাস্থ্যকর বাস্তুতন্ত্রের অভাব পরিলক্ষিত। ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। আমাদের যদি বহুসংখ্যক শহরের মানুষের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি জোগানের জন্য কোনো টেকসই পরিকল্পনা না থাকে, তা হয়ে উঠবে বড় সমস্যা।

ঢাকার সঙ্গে গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের মতো অন্য জেলাগুলোর শহরগুলো এ সমস্যার মুখোমুখি হবে। বর্তমানে আমাদের চাহিদার ৮০ শতাংশের চেয়ে বেশি পূরণ করছে ভূগর্ভস্থ পানি। ক্রমেই কমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। সে হিসেবে এই ব্যবহার কোনো টেকসই পথ নয়।

জিওবি মেঘনা নদী থেকে পানি আনার পরিকল্পনা করছে, তবে এডিবি বলছে, পানির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশাল নগরায়ণ ও চাদিহার জন্য আমাদের অন্যত্র সম্ভাব্য চাহিদার জন্য হলে পানি খোঁজা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। কিন্তু শিল্প দূষণের কারণে আমরা তা পাচ্ছি না।

পানি আছে, কিন্তু এটি আমরা শুদ্ধ করে ব্যবহার উপযোগী করতে পারছি না। কিছু বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ঢাকা শহরে পানি আনার। যদিও এটি একটি বিকল্প পছন্দ হতে পারে। কিন্তু খুব ব্যয় সাপেক্ষ এবং ভর্তুকি দিয়ে এটা লম্বা সময় চালু রাখা সম্ভবপর নয়।

এটা সম্ভবপরও না। যদি সত্যি আমরা ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে চাই, শিল্প ও পৌরসভায় সুয়ারেজ লাইনের দূষণ বন্ধ করা প্রয়োজন যথাযথ নীতি প্রয়োগ করে।