নদী রক্ষার যোদ্ধা

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাকার নদী বাঁচানো বন্ধু

নদী রক্ষার যোদ্ধা

মোহাম্মদ এজাজ

আবু বকর সিদ্দীক ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

print
নদী রক্ষার যোদ্ধা

গবেষক মোহাম্মদ এজাজ ১৯৮১ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র মেঘনা অববাহিকা অঞ্চলের পানি, নদী, পরিবেশগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি নৃতাত্ত্বিক ও জলবায়ুগত অবিচারের মুখোমুখি হওয়া মৎস্যজীবী, কৃষক, নারী ও নদী-তীরবর্তী সম্প্রদায়ের উত্থাপিত জলবায়ু ন্যায্যতার? সমস্যাবলী নিয়ে কাজ করছেন। তিনি সিভিল সোসাইটি সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক, যা এইচকেএইচ অঞ্চলে বিশেষত বেঙ্গল বদ্বীপে নদী, জল এবং জলাভূমির সমস্যার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি একটি গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যার নাম ঢাকা রিভার্স। এটি ঢাকা বিভাগের নদীগুলোর একটি বেসলাইন সমীক্ষা। প্রায় ১৫০টি নদীর বায়োফিজিক্যাল এবং সামাজিক উপাদান সম্পর্কে উপলব্ধি করানো এবং বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছেন।

রিভারাইন পিপলের পক্ষে তিনি সারা বছর এ কাজের নেতৃত্ব দেন। নদী এই বঙ্গীয় বদ্বীপের পাশাপাশি এইচকেএইচ অঞ্চলের সহায় হলেও উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কৌশলগত ক্ষেত্রে মূলধারায় নদী নেই। রিভারাইন পিপল বিশ^াস করে নদী, জল এবং জলাভূমি সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের একমাত্র বিকল্প হলো মূল প্রবাহী নদীগুলো। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, সক্রিয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং যুবকদের জড়িত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জাতীয় নদী সংরক্ষণ জোটের প্রধান উপদেষ্টা। এই ব্যানারে তিনি নদী দখল, দূষণ, অস্থিতিশীলতা, জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয় এবং উন্নয়নের নামে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন গণ কর্মকা-, বিক্ষোভ, সেমিনার এবং অবস্থানে অংশ নিয়েছেন এবং সমর্থন করেছেন।


নদী বাঁচলে বাঁচবে ঢাকা
পরিবেশের প্রতি আমাদের দায় কম। বিশ্বজুড়ে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন দীর্ঘদিনের, পরিবেশের অন্যতম অনুষঙ্গ নদী। বাংলাদেশে কোনো সরকারের সময়ে নদী রক্ষা ব্যাপারটি অগ্রাধিকারে ছিল না। ঢাকার নদীগুলোর জন্য নেই সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা। ঢাকা নদীগুলো বাঁচানোর জন্য এটি বড় অন্তরায়ও। যেহেতু নদী আমাদের সবকিছু দিচ্ছে, তারপরও নদীর জন্য সঠিক কোনো শাসন নীতি নেই।

তবে আশার কথা হলো, সম্প্রতি সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা জোরালো ভূমিকা রাখছে। দেশের আদালতও কার্যকরি ভূমিকা নিয়েছে। নদীর দখলমুক্ত করতে লাগাতার অভিযান চলছে, ভেঙে ফেলা হচ্ছে নানা স্থাপনা। বিভিন্নভাবে সচেতন ও আইনের মাধ্যমে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ রকম একটি সময়ে আমরা আশাবাদী হতে পারি, নদী বাঁচলে, বাঁচবে ঢাকাবাসী।