হ্যাসট্যাগ ঢাকা রিভার্স

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাকার নদী বাঁচানো বন্ধু

হ্যাসট্যাগ ঢাকা রিভার্স

আবু বকর সিদ্দীক ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

print
হ্যাসট্যাগ ঢাকা রিভার্স

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, আমি একজন সক্রিয় কর্মী। এখন রিভারাইন পিপল (একটি নদী সংরক্ষণ সংগঠন) নিয়ে কাজ করছি। আমরা নদীগুলোর জন্য বেশ কিছু কাজ করেছি। নদী রক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা বিভিন্ন স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় নদী-সংলগ্ন বসবাসকারী সমাজে গিয়েছি প্রচারণার কাজে। তখন আমরা বুঝতে পেরেছি, নদীগুলোর সম্পর্কে অনেক তথ্য উপাত্তের অভাব রয়েছে। অন্যথায় সরকার কিংবা জনগণের কাছে নদী সম্পর্কে সঠিক ও কার্যকর কোনো তথ্য নেই। আর তাই আমি চিন্তা করেছিলাম, নদীগুলোর ওপর নদীর বেসলাইন (ভূমিরেখা) সার্ভে (সমীক্ষা) খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সরকার ১০০ বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পরিকল্পনাটি সফল করতে দেশের প্রতিটি নদীর বিষয়ে বিশদ জানা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকার প্রাণ। যদি আমি কাউকে প্রশ্ন করি বুড়িগঙ্গার কতগুলো প্রবাহমান ধারা এবং বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদী কী পরিমাণ পানি ধরে রাখে সে সম্পর্কে কেউ কোনো উত্তর দিতে পারবে না। কেউই জানে না কতগুলো চ্যানেল সরাসরি নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং কতগুলো স্পট শুধু ময়লা ফেলার ডাম্পিং জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বুড়িগঙ্গার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কতটি শিল্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নদীর তীরে কতটি নৌকা স্টেশন রয়েছে? এগুলো নদীর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য খুব প্রয়োজনীয় তথ্য, তবে কেউই এসব সম্পর্কে কিছুই জানে না। যদি আমরা এই তথ্যটি না জানি তবে আমরা কোনো নদীর প্রকৃত পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করতে বা ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হব না। আমাদের অনেক নদী আছে, কোনো নদীর যথাযথ বেসলাইন সমীক্ষা নেই। আমরা ঘণ্টা জরিপের মাধ্যমে প্রাগুক্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো উত্তর করার চেষ্টা করেছি। আমার দল নিয়ে আমি স্বয়ং নিজে অন্তত দেড়শোর মতো নদীতে গিয়েছি। যেখানে নদীর উৎপত্তিস্থল সেখানে। আমরা সে জায়গাটা প্রযুক্তির মাধ্যম জিপিএস ট্রেকার দিয়ে যুক্ত করেছি। আমরা ভিডিও তৈরি করেছি। কিছু স্থিরচিত্র তুলেছি। স্যাটেলাইটে আমরা জরিপের সমস্ত তারিখ ও তথ্য যুক্ত করেছি। এই গবেষণা প্রকল্পের আওতায়, ব্রিটিশ জিওগ্রাফার জেমস রেনেলের ঢাকার নদী নিয়ে সার্ভে ম্যাপে ১৭৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত, ২৪৩ বছরে নদীর পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করতে পারব।

এছাড়াও এই সার্ভের মাধ্যমে আমরা সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় চ্যানেল ও দখল শিল্পায়ন, আবাসন, নদী তীরে বসতি স্থাপন, বালু উত্তোলন স্পট, আইডক্লিউটি, খেয়াঘাট, নদীকে ঘিরে বাণিজ্যিক হাটবাজার, ব্রিজ-স্লুইসগেট, বাঁধ, নদীর ভাঙন স্পট, খননকাজ, ডকইয়ার্ডস এবং পৌরসভার সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে দূষণের উৎস সংযোগ, বন্দর ও ল্যান্ডিং স্টেশন এবং আর্থ-সামাজিক কার্যক্রমের পার্শ্বচিত্র দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

এই সার্ভের পর প্রতিটি নদীর তথ্য ও পাবলিক ডকুমেন্ট ভবিষ্যৎ গবেষণা এবং নদীর জন্য নিয়ম-নীতি প্রণয়নের জন্য তৈরি থাকবে। যা অনলাইনে সহজলভ্য হবে। আমরা বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বই মুদ্রণ করব। এভাবেই আমরা ঢাকার নদীগুলোর ওপর বেসলাইন সার্ভে শেষ করব।