ইতিহাস ঐতিহ্যের নীলফামারী

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ইতিহাস ঐতিহ্যের নীলফামারী

মোশাররফ হোসেন ৪:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

print
ইতিহাস ঐতিহ্যের নীলফামারী

ইতিহাস-ঐতিহ্যের তীর্থভূমি নীলফামারী। নুরুলদিনের ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ বৃটিশ সৈন্য ও জমিদারদে ভীত কাঁপিয়ে দেয়। লাল মাটির মানুষগুলোর দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে মুক্তি মেলেনি, নানা বৈষম্যের কালো আঁধারে ঢেকে রেখেছে এ জেলার সম্ভাবনাকে। দিগন্ত বিস্তৃত সমতল ভূমিতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপন্ন হয়। তিস্তা সেচ প্রকল্প কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখছে। জেলাকে ঘিরে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মোশাররফ হোসেন

নীলফামারী জেলার আয়তন ১৮২১ বর্গ কিলোমিটার। যা কর্কট ক্রান্তি রেখার সামান্য উত্তরে অবস্থিত। এ জেলার পূর্বে রংপুর ও লালমনিরহাট, দক্ষিণে রংপুর ও দিনাজপুর, পশ্চিমে দিনাজপুর ও পঞ্চগড় এবং উত্তরে ভারতের শিলিগুড়ি জেলা। কৃষিনির্ভর এ জেলা ৬ উপজেলা ও ৪টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। কৃষিনির্ভর এ জেলার ৯০ শতাংশ সহজ-সরল মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। নীলফামারীর দিগন্ত বিস্তৃত সমতল ভূমিতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, আলু, তামাক এবং বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপন্ন হয়। দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্প কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখছে। বৃহত্তম রংপুর ও দিনাজপুরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র শিল্প গোটা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা এখানে অবস্থিত। বিমানবন্দরটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নে গড়ে ওঠা উত্তরা ইপিজেড এলাকার কর্মসংস্থানে ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নীলসাগর দীঘি এলাকার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। চিলাহাটি স্থলবন্দর আগামী বছর থেকে চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


রেলওয়ে কারখানা
দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে অবস্থিত। ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমির ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ কারখানার ২৪টি শপে শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন। নাট-বল্টু থেকে শুরু করে রেলওয়ের ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের বগি মেরামতসহ সব কাজ করা হয়। পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা সফর বা পরিদর্শন করে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন। বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক অফিসের সামনে সবুজ চত্বরে রাখা আছে ব্রিটিশ আমলের ন্যারোগেজ ইঞ্জিন। রেলগাড়ির ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম- ছড়ার এই ইঞ্জিন আজ অতীত। ৭২ সালে সর্বশেষ ইঞ্জিনটি চলত বাগেরহাট-রুপসা সেকশনে। ১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের ভলকান কোম্পানির তৈরি এই ইঞ্জিনটিসহ এ ধরনের ৩টি ইঞ্জিনের ঠাঁই হয়েছে এখন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার লোকো ট্রান্সপোর্ট মিউজিয়ামে। কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই ইঞ্জিনগুলো।