নীলসাগর

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ইতিহাস ঐতিহ্যের নীলফামারী

নীলসাগর

মোশাররফ হোসেন ৩:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

print
নীলসাগর

নীলও না, সাগর না, জানা-অজানা বাহারি গাছগাছালি ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত বিশাল এক দীঘির নাম ‘নীলসাগর’। দেশের সম্ভাব্য পর্যটন কেন্দ্রের তালিকায় ১৯ নম্বরে রয়েছে নীলসাগরের নাম। নীলফামারী জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা মৌজায় ৫৩.৯০ একর জমির ওপর নীলসাগরের অবস্থান। নীলসাগরে ৩২.৭০ একর পুকুর/পানির অংশ, রয়েছে ৮.৭০ উত্তর ও পূর্ব পাড়ে .৫৪ একর পশ্চিম পাড়ে এবং ১১.৯৬ একর দক্ষিণ পাড়ে। নীলফামারী জেলা শহর জিরো পয়েন্ট চৌরঙ্গী মোড় থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। সঠিক কোনো তথ্য না থাকলেও কথিত আছে, অষ্টাদশ শতাব্দীতে রাজার অগণিত গরু-মহিষের পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় ৫৪ একর জমিতে খনন করা হয় দীঘিটি। মেয়ে বিন্নাবতীর নামানুসারে নাম দেওয়া হয় বিন্নাদীঘি। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের উদ্যোগে এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিন্নাদীঘির নাম পরিবর্তন করে ‘নীলসাগর’ নামকরণ করা হয়।

নীলসাগরের বিশাল দীঘির চারদিকে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ-গাছালির সমাহার। পানি আর সবুজ মিলে সে এক অপরূপ দৃশ্য ছায়াঘেরা দীঘির চারপাশ বাঁধানো। শান বাঁধানো দীঘির চারপ্রান্তে রয়েছে সিঁড়ি। এসব সিঁড়ি গোসল করার ঘাট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দীঘির পাড়ে পাকা রাস্তার কিছুদূর পর পর দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে সুদৃশ্য বিশ্রামাগার, ছাতা প্রকৃতির বসার স্থান। এখানে শিশুদের জন্য সীমিত আকারে দোলনা, নাগরদোলার ব্যবস্থা রয়েছে। শীতকালে সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে আসা অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এটিই মূলত নীলসাগরের প্রধান আকর্ষণ। মাঝপুকুরে বসে ভিনদেশী হাজার পাখির মেলা। 

দীঘিতে ফোটে শাপলা। শাপলার পাতায় পাখির অস্তিত্ব অসাধারণ ও প্রাকৃতিক দৃশ্যে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য দেখতে শীতকালে এখানে ছুটে আসেন নানা বয়সের মানুষ। কল্পকাহিনী ঘেরা নীলসাগরে প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বসে ‘বারুনী স্নান’ মেলা। মেলায় থাকে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এখানে এসে পাওয়া যায় প্রকৃতির নিবিড় ছোঁয়া, শত ব্যস্ততার যান্ত্রিকতা এড়াতে ও কান্তি দূর করতে মানুষ ছুটে আসেন এখানে।