ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন

আলতাফ হোসেন ১:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক অ্যাডভাইজরি প্যানেলের বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের অটিজম-বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ও উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

‘প্রিন্সটন ক্লাব অব নিউইয়র্ক’ আয়োজিত ‘সিমা কলাইন’ নামে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল এবং এর আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আই কেয়ার ফর অটিজম’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের পক্ষে অ্যাওয়ার্ডটি গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

‘সিমা কলাইন’ নিউইয়র্কের প্রথম শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল, যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিউইয়র্কের ৫টি ব্যুরোর সব সম্প্রদায়ের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত সহস্রাধিক শিশুকে তাদের অটিজম সেন্টার, স্কুল ও হোম সার্ভিস দিয়ে আসছে।

অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের পক্ষে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

অ্যাওয়ার্ড গ্রহণকালে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অটিজম ও অন্যান্য নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার আক্রান্ত মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল রিনাউন্ড চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া গত মাসে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় এ অঞ্চলের ১১টি দেশের জন্য সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অটিজমবিষয়ক ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে নিয়োগ দেয়।’

২০১৭ সালের এপ্রিলে ভুটানে অনুষ্ঠিত অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারের জন্য ‘থিম্পু ডিক্লারেশন’ গ্রহণে পুতুলের অবদান অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে অটিজম বিষয়টি সামনের সারিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় ২০১৪ সালে পুতুলকে ‘এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ্ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে।

‘ঢাকা ঘোষণা’ এবং সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক (SAAN) প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টা অটিজমকে এ অঞ্চল এবং অঞ্চলের বাইরে সামনের সারিতে এনে দিয়েছে।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মোমেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠ করেন। এতে পুতুল বলেন, ‘অটিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিমা কলাইনুর এই স্বীকৃতির জন্য আমি সম্মানিত বোধ করছি। অটিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিমা কলাইনুর মতোই বাংলাদেশ ও এশিয়া অঞ্চলে এ-সংক্রান্ত পেশার মানুষের জন্য পরিকল্পিত এবং ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টিতে আমি কাজ করছি। অটিজম কোনো ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়, এ কারণেই এর জন্য বিশেষ ধরনের সেবা ও কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন শুভেচ্ছা দূত হিসেবে অটিজম নেটওয়ার্ক নিয়ে আমি সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

সমবেত সুধীম-লীর উদ্দেশে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর গৃহীত ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅ্যাবিলিটি’ নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তি তাদের পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক চাহিদা সংবলিত জাতিসংঘের রেজুলেশন ৬৭/৮২ গ্রহণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিল।

রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, ‘অটিজমবিষয়ক জাতীয় সচেতনতা সৃষ্টি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অটিজমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তার জন্য বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা যুক্ত হয়, তাহলে তা অটিজম এবং এ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে পারে।’