বিসর্জনের দিন আনন্দ হতো

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

অসুর দোলনী

বিসর্জনের দিন আনন্দ হতো

চঞ্চল চৌধুরী অভিনেতা

বিশেষ আয়োজন ডেস্ক ২:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

print
 বিসর্জনের দিন আনন্দ হতো

ছোটবেলায় পূজাকে কেন্দ্র করে সারা বছরের উন্মাদনা কাজ করত যে কখন দুর্গাপূজা আসবে। প্রতিমা বানানো থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রায় এক মাস সময় করে এ পূজা নিয়ে উত্তেজনা। আমাদের ছোট্ট একটা গ্রাম, এখানে পাঁচটি ব্যক্তি মালিকানায় পূজা হতো। সাধারণত দুর্গাপূজা সর্বজনীন হয় বেশি, কিন্তু আমাদের গ্রামে যে পাঁচটা পূজা হয়, সবগুলোই ব্যক্তি মালিকানায়।

আমার মামাবাড়ি, আমার বোনের বাড়ি এই রকম আর কি, মানে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে। এ কারণে মনে হতো যে পূজাটা আমাদের নিজস্ব পূজা। আমাদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ হতো বিসর্জনের দিন। বিসর্জনের দিন পদ্মা নদীর পাড়ে একটা মন্দির, সেখানে সব প্রতিমা একসঙ্গে করে বিসর্জন দেওয়া হতো।

দুই-তিন ঘণ্টা আরতি হতো, আর ছোটবেলার সে স্মৃতিতে পূজা মানেই তো নতুন পোশাকের সে গন্ধ, নতুন পোশাক পাব সে আনন্দ, এগুলো ছোটবেলাতে অনেক বেশি কাজ করত। তারপর আস্তে আস্তে বয়স হওয়া, বড় হওয়া, প্রফেশনের কারণে ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়া। এখন আনন্দ করে আমাদের পরবর্তী জেনারেশন যারা, আমাদের সন্তান যারা, আমার ভাগ্নে-ভাগ্নি, ভাতিজা-ভাতিজি, আমার সন্তান।

এদেরই আসলে এখন আনন্দ। ছোটবেলার সে আনন্দ তো সব সময় থাকে না, এখন হচ্ছে দায়িত্ব। পূজার সময় আত্মীয়-স্বজন আমাদের বাড়িতে আসবেন। ৫ বোন-তিন ভাই, তাদের হাজব্যান্ড ওয়াইফসহ বাচ্চা-কাচ্চাদের সঙ্গে গেট টুগেদার হয়। এটাই এখন আনন্দ।

পূজার চেয়ে সবচেয়ে বড় আনন্দ হচ্ছে, সারা বছর তো সবাই যার যার মতো ব্যস্ত থাকে এখন পূজাটাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে সবাই বাবা-মার সঙ্গে এক হয়, বাবা-মা বাড়িতেই থাকেন। বাবা-মাকে সবাই দেখতে যায়, বাবা-মার সঙ্গে সবার চার-পাঁচদিন সময় কাটে। এটাই এখন পূজার সবচেয়ে বড় আনন্দ, এখন পূজা বলতে গিয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে হতে পারবে এটাই। ছোটবেলার আনন্দ আর বড়বেলার আনন্দের মধ্যে এই পার্থক্য। এখন পূজার আনন্দ বলতে এটাই যে সবার সঙ্গে দেখা হবে।