জয়তু বঙ্গবন্ধু

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

জয়তু বঙ্গবন্ধু

আলী যাকের ৪:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

print
জয়তু বঙ্গবন্ধু

এই নিবন্ধটি লিখতে বসে নানারকম চিন্তা মাথায় খেলা করছিল। এই চিন্তার উদ্ভব পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অপরাধের জন্য জবাবদিহির অভাবসংক্রান্ত। আমি একজন যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করি যে, এই ধরনের নিয়মবহির্ভূত আচরণ যখন একাধিক্রমে ঘটতে থাকে তখন কেবল কোনো সমাজ, দেশ এবং জাতি নয়, সারা বিশ্বই একের পর এক অমানবিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। এই যে অপরাধ, এর নিকৃষ্টতম হলো হত্যা। সেটা আমরা কল্পনাও করিনি। অথচ সেই ঘটনাটিই ঘটেছিল।

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল পনেরো আগস্ট, ১৯৭৫। সেই সঙ্গে এ ঢাকা শহরেরই বিভিন্ন স্থানে তার পরিবারের এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আরও অনেক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড, আপাতদৃষ্টিতে কিছু উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তার দ্বারা সংঘটিত বলে মনে হলেও আসলে এটি ছিল সুচিন্তিত, সুদূরপ্রসারী এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি ষড়যন্ত্র।

আমরা জানি যে, ১৬ ডিসেম্বর থেকেই বাংলাদেশবিরোধী শক্তি আমাদের দেশের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করে পাকিস্তানি মূল্যবোধ সম্পৃক্ত একটি দেশের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশবিশেষ। ভাবতে অবাক লাগে যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত একের পর এক যেসব সরকার আমাদের দেশের ক্ষমতা দখল করেছে তারা কেউ এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিচার তো করেইনি বরং হয় এর প্রত্যক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এবং হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছে নতুবা পরোক্ষভাবে হত্যার পক্ষে যায় এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সেই ’৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন দিয়ে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর ৬-দফা আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ১১-দফা আন্দোলন এবং ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এই সবারই লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা। অতএব, ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর থেকেই আমরা আবহাওয়ায় স্বাধীনতার গন্ধ পাচ্ছিলাম। সেই কারণেই ’৭১-এর সাতই মার্চে রমনার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন মুক্তির কথা, স্বাধীনতার কথা। এই ইঙ্গিতই যথেষ্ট ছিল সব বাঙালির জন্য।

আমরা দেখতে পাই যে, পঁচিশ মার্চ কালরাত্রিতে ঢাকার নিরস্ত্র জনগণের ওপরে যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সব নৃশংসতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন একদিকে যেমন পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেছিল, আল্লাহ পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে, আরেকদিকে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় সব মানুষ বঙ্গবন্ধুর আহ্বান অনুযায়ী, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে সবচেয়ে খুশি হয়েছিল জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং তড়িঘড়ি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেটা কোন বাংলাদেশ ছিল?

সেই বাংলাদেশ, যা একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নয় বরং পাকিস্তানের আদলে সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী এক বাংলাদেশ। এই কারণে বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল তাদের পুরস্কৃত করেছিল নব্য বাংলাদেশের ধারক এবং বাহক এক সরকার। এরা সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের হৃদয় থেকে নির্বাসিত করতে। তার ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করতে। এককথায় বাংলাদেশের মুক্তিকে অস্বীকার করতে।

কিন্তু কথায় আছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। তাই অতিবিলম্বে হলেও শত চক্রান্তকে পরাজিত করে আজ সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যতদিন নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের কথা ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা হবে ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকবেন সব মুক্তিকামী মানুষের অন্তরে। (সংক্ষেপিত)