প্রযুক্তি হুমকিতে ফেলতে যাচ্ছে যে সাতটি পেশা

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

প্রযুক্তি হুমকিতে ফেলতে যাচ্ছে যে সাতটি পেশা

ডেস্ক রিপোর্ট ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

print
প্রযুক্তি হুমকিতে ফেলতে যাচ্ছে যে সাতটি পেশা

আপনার কাজ কি কিছুটা একঘেয়ে ও নিরস ধরনের? হলেও এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ বেছে নেয় নানা ধরনের পেশা এবং কাজ করতে করতে কোনোটি হয়ে যায় রুটিন বা একঘেয়ে। আর এ ধরনের রুটিন বা সহজে অনুধাবন যোগ্য কাজগুলো আগামী পাঁচ বা ১০ বছরের মধ্যে হয়ে যাবে অনেকটা অঙ্কের নিয়মে।

 

লেখক জন পুগলিয়ানো বলছেন এটি আর কোথাও না হলেও উন্নত দেশগুলোতে হবে। অর্থাত্ মানুষকে আর হাতে কলমে এ ধরনের কাজগুলো করতে হবে না। গবেষণা করে তিনি চিহ্নিত করেছেন এমন কয়েকটি পেশা যেগুলো তার মতে রীতিমতো হুমকির মুখে আছে। যদিও এ মুহূর্তে এসব পেশাকে নিরাপদই মনে করা হচ্ছে।

বিবিসি মুণ্ডু ও বিবিসি স্প্যানিশ সার্ভিসকে তিনি বলেন, ‘চিকিত্সক ও আইনজীবীরা কখনোই হারিয়ে যাবেন না। কিন্তু শ্রম খাতের একটি বড়ো অংশই আর থাকবে না।’ মিস্টার পুগলিয়ানোর মতে প্রযুক্তির কারণে ক্ষতির মুখে পড়বে এমন সাতটি পেশা হলো—

চিকিৎসক
এটা ঠিক যে চিকিত্সকদের চাহিদা সবসময় থাকবে। এমনকি বিশ্বে বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতার মধ্যেও। কিন্তু পুগলিয়ানো বিশ্বাস করেন এ খাতে কিছু জায়গায় লোকবল হুমকির মুখে পড়বে প্রযুক্তির কারণে। কারণ রোগ চিহ্নিত করণে প্রযুক্তির দাপট বাড়বে সামনের দিনগুলোতে।

আইনজীবী
পুগলিয়ানোর মতে ডকুমেন্ট প্রসেসিং কিংবা নিয়মিত কাজের জন্য ভবিষ্যতে দরকার হবে অল্প আইনজীবী বা সলিসিটরের। বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের খুব বেশি দরকার হবে না কম্পিউটার সফটওয়্যারের কারণে।

স্থপতি
ভবনের নকশা তৈরির কাজে এখনি সফটওয়্যার নিজেই সক্ষম হয়ে উঠেছে। আর ভবিষ্যতে এটি আর জোরদার হবে। একমাত্র সৃষ্টিশীল স্থপতিরা হয়তো তখন কিছু করে খেতে পারবেন।

হিসাবরক্ষক
ট্যাক্সের জটিল সব হিসাব নিকাশের জন্য আর হিসাবরক্ষকের দরকার হবে না। কেনই বা দরকার হবে? চাহিদাই তো কমে যাবে। কারণ কাজগুলো তো করবে কম্পিউটার আর সফটওয়্যার।

যুদ্ধবিমানের পাইলট
এখনি বড়ো যুদ্ধগুলোর খবরে প্রতিদিনই শোনা যায় পাইলটবিহীন যুদ্ধবিমানের নানা তত্পরতার খবর। ড্রোন এখন সবার কাছেই সুপরিচিত। ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক লড়াইয়ে পাইলটবিহীন বিমান হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে। যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে সামনের দিনগুলোতে এটি আরো বিস্তৃত হবে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা
নিয়মিত নজরদারি বা তদন্তের জন্য এখনি পুলিশ সদস্যের বদলে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে আধুনিক প্রযুক্তিগত পদ্ধতি। যদিও পুলিশ বা গোয়েন্দা একেবারেই বিলুপ্ত হবে না, তবে তাদের চাহিদা দিন দিন কমতেই থাকে। কারণ তাদের কাজ করে দিবে যন্ত্র।

রিয়েল এস্টেট এজেন্ট
খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে এখনি বড়ো ভূমিকা পালন করছে ওয়েবসাইট। এর মাধ্যমেই এখন সংযুক্ত হচ্ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। তাহলে এজেন্ট বা প্রতিনিধি লাগবে কেন। ভবন বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে এজেন্ট এখন আর খুব কার্যকর কিছু নয়। সামনে এটি হারিয়েই যাবে বলে মনে করছেন পুগলিয়ানো।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আমাদের ধ্বংস করতে পারে

স্টিফেন হকিং থেকে শুরু করে ইলন মাস্ক—বিশ্বের শীর্ষ কয়েক জন বিজ্ঞানী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এটি একসময় হয়তো মানব প্রজাতির জন্য একটি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু নতুন একটি বইতে বলা হচ্ছে, রোবট আসলে নিজে থেকে সচেতন হয়ে উঠছে না বা তাদের মানুষ প্রভুর বিরুদ্ধে কোনো মনোভাব তৈরি করছে না, যেটি মানুষের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। কিন্তু আসলে এসব যন্ত্রের জন্য নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এগুলো এতটাই দক্ষ হয়ে উঠছে যে, হয়তো দুর্ঘটনাবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের ভুল কোনো কাজে লাগানোর মাধ্যমেই আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।

‘হিউম্যান কম্প্যাটিবল
এআই অ্যান্ড দ্য প্রবলেম অব কন্ট্রোল’ নামের বইটি লিখেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টুর্ট রাসেল, যিনি আধুনিক যন্ত্র সক্ষমতা প্রযুক্তির ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি বিবিসিকে বলেছেন,‘হলিউডের সিনেমায় দেখানো হয় যে, যন্ত্রগুলো নিজে থেকেই সচেতন হয়ে উঠছে এবং তারপরে তারা মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করে আর সবাইকে মেরে ফেলতে চায়।’

কিন্তু রোবটের কোনো মানবিক অনুভূতি থাকে না। সুতরাং সেটা একেবারেই অহেতুক একটা বিষয়, যা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ‘এখানে আসলে খারাপ মনোভাবের কোনো ব্যাপার নেই। আমাদের আসলে তাদের দক্ষতার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’

অত্যন্ত দক্ষ
বিবিসি টুডে অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে তিনি হুমকির একটি কল্পিত উদাহরণ তুলে ধরেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন। কল্পনা করুন যে, আমাদের একটি শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা আছে, যেটি বিশ্বের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং সেটি ব্যবহার করে আমার প্রাক-শিল্প পর্যায়ের কার্বন ডাইঅক্সাইড মাত্রার আবহাওয়ায় ফিরে যেতে চাই।

‘তখন সেটি ঠিক করলো যে, এটা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে পৃথিবী থেকে সব মানুষকে সরিয়ে ফেলা, কারণ পৃথিবীতে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণের দিক থেকে মানুষই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, বলছেন অধ্যাপক রাসেল। ‘আপনি হয়তো বলতে চাইবেন, তুমি যা চাও সব কিছুই করতে পারবে, শুধু মানুষের ক্ষতি করতে পারবে না। তখন ঐ সিস্টেম কী করবে? এটি তখন আমাদের সন্তান কম নেওয়ার ব্যাপারে প্রভাবিত করবে, যতক্ষণ না পৃথিবী থেকে মানুষ শেষ হয়ে যায়।’

এই উদাহরণের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিপদের সেইসব দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা মানুষ খুব চিন্তাভাবনা করে নির্দেশ না দিলে বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

অতি বুদ্ধি
যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব এক্সিসটেনশিয়াল রিস্কের তথ্য অনুসারে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদ্ধতিগুলো অ্যাপ্লিকেশন সীমাবদ্ধ, যেগুলোর নকশা করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট কোনো সমস্যার সমাধান করার জন্য। এই খাতের একটি মাইলফলক মুহূর্ত আসে ১৯৯৭ সালে, যখন কম্পিউটার ডিপ ব্লু দাবায় তত্কালীন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে ছয়টি খেলার একটি ম্যাচে হারিয়ে দেয়। তা সত্ত্বেও ডিপ ব্লুকে মানুষ বিশেষভাবে নকশা করেছিল দাবা খেলার জন্য। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবিষ্কৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আর সে কথা বলা যাবে না। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আলফাগো জিরো সফটওয়্যার তিন দিন ধরে নিজের বিরুদ্ধেই ‘গো’ (একটি বোর্ড গেম) খেলার পরে দক্ষতার দিক থেকে সুপার-হিউম্যান পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই পদ্ধতি যতই শক্তিশালী হয়ে উঠবে, ততই এটি অতি বুদ্ধির অধিকারী হয়ে উঠবে। এটি হয়তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাবে, বলছে এক্সিসটেনশিয়াল রিস্ক সেন্টার। আর এ কারণেই অধ্যাপক রাসেল বলছেন, মানুষের উচিত রোবট বা যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা।