চন্দ্র জয়ের অর্ধশতক

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চন্দ্র জয়ের অর্ধশতক

ডেস্ক রিপোর্ট ৮:১১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

print
চন্দ্র জয়ের অর্ধশতক

আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখেছিল নাসার অ্যাপোলো-১১ নভোযানে যাওয়া মহাকাশচারীরা। এর আগ পর্যন্ত চাঁদ ছিল মানুষের কল্পনা জগতের অংশ। ধারণা করা হয়, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রায় চার লাখ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের অক্লান্ত পরিশ্রমে ওই বছরের ২০ জুলাই অ্যাপোলো-১১ চাঁদে সফল অভিযান পরিচালনা করে। আর এতেই কল্পনার চাঁদ বাস্তব হয়ে ধরা দেয় মানুষের পদতলে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার থেকে কাউন্টডাউন শুরু করে সুবর্ণজয়ন্তী পালন শুরু করে নাসা। নাসার ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, তারা অপেক্ষা করছে কাক্সিক্ষত সময়ের, ঠিক ৫০ বছর আগে যখন নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে পা দিয়েছিল। সে সময় মহাকাশ পাড়ি দিতে নাসা বেছে নিয়েছিল তিনজনকে। তারা হলেন- নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন আর 

মাইকেল কলিন্সকে। চাঁদের বুকে প্রথম পা রাখতেই পৃথিবী ছেড়ে অ্যাপোলো-১১ নিয়ে যাত্রা করেন এই তিন মহাকাশচারী।

ওই মিশনে মাইকেল কলিন্স ছিলেন কমান্ড মডিউল পাইলট। নীল আর্মস্ট্রং এবং এডউইন অলড্রিনের চাঁদের বুকে পা রাখার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সমস্ত অভিযান তিনিই পরিচালনা করেন। মহাকাশচারীরা প্রথমে চাঁদের চারপাশে একটি কক্ষপথ ধরে প্রদক্ষিণ করার পর ‘ঈগল’ নামক চন্দ্র মডিউলে করে ১৩ মিনিটের একটি সফরের পর চাঁদের বুকে পা রাখেন।
সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই সফলভাবে চাঁদে পা রাখেন আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন। তবে দুজনের মধ্যে প্রথম পা রেখে ইতিহাস গড়েন নীল আর্মস্ট্রং। সফল অভিযান শেষে ২৫ জুলাই তিন মহাকাশচারী ফিরে আসেন নিজেদের চেনা পৃথিবীতে।

আজ এই দিনে তাই পৃথিবীবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে তিন মহাকাশচারী, নাসা, অ্যাপোলো-১১ আর সেই চার লাখ প্রযুক্তিবিদ আর জোতির্বিজ্ঞানীদের- যারা ৫০ বছর আগে অক্লান্ত পরিশ্রম, সমস্ত অবসর, নিশ্চিন্ত জীবনযাপনের বিনিময়ে সফল করেছিলেন চাঁদকে জয় করার স্বপ্ন।

এদিকে, মানুষের চাঁদে অবতরণের ৫০ বছরপূর্তিতে ‘অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড’ আয়োজন করেছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মানুষের চাঁদে অবতরণের ৫০ বছরপূর্তিতে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় আজ বিজ্ঞান জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অলিম্পিয়াড। সারা দেশ থেকে প্রায় ৩০০ প্রতিযোগী এতে অংশ নেবেন। এ ছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার। এগুলো শেষে শুরু হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও ব্যাপক জাঁকজমকভাবে উদযাপন করছে চন্দ্র অভিযানের সুবর্ণজয়ন্তী। এ উপলক্ষে নাসার কেন্দ্রীয় অফিসসহ সারা পৃথিবীর শাখা অফিসগুলো সাজানো হয়েছে। নাসার ওয়েব সাইটেও খোলা হয়েছে আলাদা বিশেষ আয়োজন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাইয়ের আগে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন চাঁদের অভিযান পরিচালনা করলেও তাতে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল না। যে কারণে, যুগে যুগে মার্কিনিদের অ্যাপোলো-১১ নভোযানে পরিচালিত চন্দ্রাভিযান পৃথিবীর বাইরে প্রথম মানুষের পদচারণার সাক্ষী বহন করবে।