প্রযুক্তির পেটে সাত পেশা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৫ মাঘ ১৪২৫

প্রযুক্তির পেটে সাত পেশা

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

print
প্রযুক্তির পেটে সাত পেশা

প্রযুক্তির প্রসারে আগামী দিনগুলোতে অন্তত সাতটি পেশা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। হুমকির মুখে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিকিৎসা, আইন, স্থাপত্যশিল্প, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, যুদ্ধবিমানের চালানো, পুলিশ ও গোয়েন্দা এবং রিয়েল স্টেট খাত। আগামী পাঁচ অথবা দশ বছরের মধ্যে এগুলো হয়ে যাবে অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। অর্থাৎ- বেশিরভাগ কাজই প্রযুক্তি সাহায্যনির্ভর হয়ে যাওয়ায় হাতে কাজ করার যে কর্মক্ষেত্র রয়েছে সেটি সংকুচিত হয়ে যাবে।

সম্প্রতি বিবিসিতে লেখা এক প্রতিবেদনে জন পুগলিয়ানো নামে এক গবেষক এমন তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এটি আর কোথাও না হলেও উন্নত দেশগুলোতে হবে। অর্থাৎ মানুষকে আর হাতেকলমে এ ধরনের কাজগুলো করতে হবে না। গবেষণা করে তিনি চিহ্নিত করেছেন এমন কয়েকটি পেশা যেগুলো তার মতে রীতিমতো হুমকির মুখে আছে। যদিও এ মুহূর্তে এসব পেশাকে নিরাপদই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে পেশাগুলো আর নিরাপদ থাকবে না।
বিবিসিকে তিনি বলেন, চিকিৎসক ও আইনজীবীরা কখনই হারিয়ে যাবেন না। কিন্তু শ্রম খাতের একটি বড় অংশই আর থাকবে না।
প্রতিবেদনে চিকিৎসা পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা ঠিক যে চিকিৎসকদের চাহিদা সবসময় থাকবে। এমনকি বিশ্বে বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতার মধ্যেও। কিন্তু এ খাতে কিছু জায়গায় লোকবল হুমকির মুখে পড়বে। কারণ, রোগ চিহ্নিতকরণে প্রযুক্তির দাপট বাড়বে সামনের দিনগুলোতে।
পুগলিয়ানোর মতে, ডকুমেন্ট প্রসেসিং কিংবা নিয়মিত কাজের জন্য ভবিষ্যতে দরকার হবে খুব অল্প কয়েকজন আইনজীবীর। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞেরও খুব বেশি দরকার হবে না কম্পিউটার সফটওয়্যারের কারণে। এ ছাড়া, ভবনের নকশা তৈরির কাজে এখনি সফটওয়্যার নিজেই সক্ষম হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এটি আরও জোরদার হবে। একমাত্র সৃষ্টিশীল ছাড়া সাধারণ স্থপতিও জীবনধারণ কষ্টসাধ্য হবে।
ভবিষ্যতে ট্যাক্সের জটিল সব হিসাবের জন্য আর হিসাবরক্ষকের দরকার হবে না। কারণ, কাজগুলো তো করবে কম্পিউটার আর সফটওয়্যার। যুদ্ধবিমানের পরিচালনায় এখনই ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রোন। তাই, পাইলটবিহীন যুদ্ধবিমানের নানা তৎপরতা পাইলটদের কাজ অস্বাভাবিক হারে কমবে। যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামনের দিনগুলোতে এটি আরও বিস্তৃত হবে।
এখনই নিয়মিত নজরদারি বা তদন্তের জন্য পুলিশ সদস্যের বদলে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে আধুনিক প্রযুক্তিগত পদ্ধতি। যদিও পুলিশ বা গোয়েন্দা একেবারেই বিলুপ্ত হবে না, তবে তাদের চাহিদা দিন দিন কমতেই থাকবে। কারণ তাদের কাজ করে দেবে অত্যাধুনিক যন্ত্র।
বর্তমানে খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে ওয়েবসাইট। এর মাধ্যমেই এখন সংযুক্ত হচ্ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। ফলে, ভবন বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে এজেন্ট এখন আর খুব কার্যকর কিছু নয়। সামনে রিয়েল এস্টেটে এজেন্টরাও কাজের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বেন। বলা যায়, এ কাজটি ভবিষ্যতে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যাবে।