তারাও পিছিয়ে নেই ঘরে-বাইরে

ঢাকা, বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

তারাও পিছিয়ে নেই ঘরে-বাইরে

রূপগঞ্জের উন্নয়নে নারী

সাইফ-উদ-দৌলা রুমী
🕐 ১:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৩, ২০২১

তারাও পিছিয়ে নেই ঘরে-বাইরে

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ৩৭টি সরকারি বিভাগীয় কর্মকর্তার মাঝে প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক নারী যোগদান করেছেন এখানে। সরকারি এমন কর্মকর্তার তালিকায় তাদের সংখ্যা ১১ জন। এর মাঝে রয়েছেন উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ পদধারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফা খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নূর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাক্তার নূর জাহান আরা খাতুন, পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার বেগম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদা আখতার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাফিজা বেগম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহীন সুলতানা, উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল আয়েশা খাতুন, ইউআরসি ইন্সস্ট্রাক্টর ফারজানা তারান্নুম নিগার, উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা ফারজানা সুলতানা। আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে একাধিক নারী। তাদের মাঝে উপজেলার তারাবো পৌরসভার মেয়র মিসেস হাসিনা, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসি আলম নীলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য শীলা রানী পাল। 

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই যোগদান করেছেন করোনা মহামারীকালীন। কঠিন এক সময়ে তাদের রূপগঞ্জে আগমন। সময়টাতে করোনা আতঙ্কে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে লকডাউন পালন আর ত্রাণ তৎপরতায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। সে সময়ে যোগদান করাদের মাঝে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীর আসন নিশ্চিত হয়। তাই আলোচনায় আসে রূপগঞ্জে নারী ক্ষমতায়নের। ২০২০ সালের ২০ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের যোগদানের মধ্য দিয়ে প্রায় পুরোপুরি নারী জাগরণের যাত্রা শুরু হয় রূপগঞ্জে।

এর আগে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মাঝে প্রথমবারের মতো কোনো নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন মিসেস হাসিনা গাজী। তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপির সহধর্মিণী। বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক গোলাম মোর্তজা পাপ্পা তার বড় ছেলে। তাছাড়াও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগ সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

নারী হয়েও কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই তিনি। নিজ সংসার গুছিয়ে, কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন করে দাপুটে নেত্রী হিসেবে রয়েছে তার সুনাম। জনপ্রতিনিধি হয়ে শিল্পাঞ্চল খ্যাত তারাবো পৌর এলাকার নাগরিক সুবিধা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এমন স্থানীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং দলকে শক্তিশালী করতেই তার প্রচেষ্টা।

এ বিষয়ে মিসেস হাসিনা গাজী বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। আমাদের গড়া গাজী গ্রুপ শুরু থেকেই বেকারত্ব দূরীকরণ ও দেশের বাণিজ্যিক যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল। এখন আমরা পরিবারের সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। আমরণ তাই করবো।’ এ সময় রূপগঞ্জে নারী জাগরণ বিষয়ে বলেন, ‘রূপগঞ্জের নারী কর্মকর্তারা দক্ষ, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল। আমরা তাদের প্রতি আস্থা রাখি। তাদের আন্তরিক সেবায় সাধারণ জনগণও সন্তুষ্ট।’

এসিল্যান্ড আফিফা খান
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পর গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এ পদেও রয়েছেন নারী কর্মকর্তা আফিফা খান। করোনকালীন যোগদান করেছেন তিনি। শুরুতে লকডাউন বাস্তবায়ন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা প্রধান কাজ হলেও এখন তার ব্যস্ততা রূপগঞ্জের জমিজমা নিয়ে। তবে উপজেলা প্রশাসনের কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে আলোচিত কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি। তবে সরকারি খাস খতিয়ান রক্ষা আর জমি মালিকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় তার কাজের অন্যতম। বাস্তবে রূপগঞ্জে আবাসন ও শিল্পায়নের ব্যপক প্রভাব থাকায় এখানে এমন কার্যালয়ের উপরও প্রভাব খাটানো হয়। এতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিষয় সামনে এলেও আফিফা খান তার দায়িত্ব পালন করছেন নিরলসভাবে। বিপুল সংখ্যক জমি সংক্রান্ত মোকদ্দামারও সুরাহা দিতে হয় তাকে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নারী কর্মকর্তা হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে কাজ করছি। নিজের দায়িত্ববোধ, অর্পিত দায়িত্ব পালন করে সর্বোচ্চ সেবাদানে প্রস্তুত রয়েছি। রূপগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী কর্মকর্তাদের পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি। রূপগঞ্জ নারী কর্মকর্তার সংখ্যা যেমনই থাকুক সবাই একে অপরকে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করে থাকেন। ফলে সফলভাবে নিজ নিজ দফতর পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নূর
শিল্পায়নের প্রভাবে ব্যাপক হারে কৃষিজমি কমে আসায় কৃষক সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে কমতে শুরু করেছে। একদিকে জমি আবাসনের বালির তলায় থাকায় অন্যদিকে বাজার মূল্য না পেয়ে নানাভাবে এখানকার কৃষকরা চাষাবাদে অনুসাৎসাহিত হচ্ছে। এ উপজেলার ১১ হাজার আবাদি জমি ও ২২ হাজারের অধিক কৃষকের দেখভালের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তী দ্বিতীয়বারের মতো কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কোনো নারী যোগদান করেছেন। তিনি ফাতেহা নূর। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নারীরা স্বভাবতই মমতাবোধ নিয়ে কাজ করে। আমিও যে কাজ করি নিজের মনে করে, দায়িত্বশীলতা দিয়ে। রূপগঞ্জের কৃষকদের চাষাবাদে যুক্ত রাখতে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, পুনর্বাসন, সার-বীজ কীটনাশক প্রদান করে উৎসাহিত করে আসছি। মূলত কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকরা যাতে ভালো উৎপাদন করতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

ডা. নূরজাহান আরা খাতুন
প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনায় রয়েছে একটি মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল। এ হাসপাতালেও প্রথমবারের মতো কোনো নারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং একজন গাইনি ছাড়া রয়েছে নয়টি বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট। সরকার বিগত দুই বছর ধরে এখানে ডাক্তার নিয়োগ না দেওয়ায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। আবার কোভিড টিকা প্রদান কাজে নতুন করে বেড়েছে ব্যস্ততা। তাছাড়া নানা পরীক্ষণ যন্ত্রাদির সংকট থাকায় যেকোনো কর্মকর্তাই হিমশিম খান এখানকার রোগী সামাল দিতে। তবু নারী কর্মকর্তা হিসেবে ডা. নূরজাহান আরা খাতুন তার বিচক্ষণতা দিয়ে সামাল দিয়ে যাচ্ছেন এ হাসপাতালে আসা রোগীদের। সেবা দিচ্ছেন আন্তরিকতা দিয়ে। নারী কর্মকর্তা হিসেবে তার প্রশংসায় ভাসের অন্য সহকর্মী এবং রোগীর স্বজনরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষ। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে জীবন স্বার্থক হবে। কোভিড সময়টায় এর কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ততা বেশি। তাছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সাধারণ মা ও শিশুদের টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হয়। হাসপাতালে নানা সংকট রয়েছে, সেসব প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নারী হিসেবে নিজেকে আলাদা করে ভাবছি না। কাজের বেলায় লিঙ্গ বৈষম্য বলে কিছু নেই। কাজকে কাজ দ্বারাই মূল্যায়ন করি।’

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন নারী কর্মকর্তা। তার নাম লুৎফুন্নাহার বেগম। তার অধীনে থাকা স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও ২৪ ঘন্টা প্রসূতি সেবা ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ব্যাপক সরকারি সেবামূলক কর্মযজ্ঞ। করোনাকালীন সব চেয়ে বিপদের সম্মুখীন ছিলেন প্রসূতি মায়েরা। আর তাদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে আলোচিত হন এই কর্মকর্তা। তার অধীনস্থ এসওসিএমও সাহনিন সুলতানা করোনাকালীন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় এমন প্রসূতি সেবা দিয়েছেন। এতে সরাসরি তত্ত্ববধানে ছিলেন লুৎফুন্নাহার বেগম।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নারীকে ভয় পেলে চলবে বা। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাকে প্রস্তুত থাকতে হয়। আমরাও থেকেছি। আল্লাহ সফল করেছেন। রূপগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী কর্মকর্তাদের অবস্থায় আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। নারীরা যে তাদের কর্মস্থলে সফল এ উপজেলাই তার প্রমাণ।

ইউএনও নুসরাত জাহান
করোনা মহামারীর সময় রূপগঞ্জে যোগদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান। শুরুতেই করোনা মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনার হিসেবে এ উপজেলার বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারি করেন। স্বল্প দিনে নিজ দায়িত্ব পালন ও জনসাধারণের কাছের মানুষ হিসেবে কুড়িয়ে নেন ভালোবাসা। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং ভেজালসহ মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যকলাপ সম্পন্ন, অনুষ্ঠানাদি বাস্তবায়নসহ নিজ দফতরে তৎপর তিনি। তবে নারী কর্মকর্তা হিসেবেই তিনিই প্রথম নন। এর আগেও একাধিক নারী কর্মকর্তা এখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তাদের মাঝে বর্তমান নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন অন্যতম। একইভাবে বিগত সময়ে নারী ইউএনও হিসেবে মমতাজ বেগম, ফারহানা ইসলামরাও সুনাম কুড়িয়ে গেছেন। এখনও তাদের মনে করে রূপগঞ্জবাসী। তাদের সূত্র ধরেই রূপগঞ্জের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে কাজ করতে চান বর্তমান ইউএনও শাহ নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘আমার কাজ আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আমি ভালো করলে প্রশংসিত হবো মন্দ করলে ঘৃণিত হবো।’

নারী হিসেবে কাজ করে রূপগঞ্জে সবার সহযোগিতা পাচ্ছেন দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ আলাদা করে দেখা হয় না। তবে নিরাপত্তার প্রশ্ন থেকে যায়।’

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আয়েশা খাতুন
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ পানি সরবরাহে টিওবয়েল, সাব-মারসিবল স্থাপন, স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন মানুষের দাবি দাওয়া পূরণের কাজ যথারীতি একটু কঠিন। এখানে বিভিন্ন পক্ষের চাপ প্রয়োগ। প্রভাব খাটিয়ে দরিদ্রের জন্য বরাদ্দ মালামাল ধনীর বাড়িতেও চলে যায়। এসব নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এ দফতরেও নারী কর্মকর্তা সাফ্যল্যের চিহ্ন এঁকেছেন। ২০১৮ সালে তিনি যোগদান করেন রূপগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী হিসেবে আয়েশা খাতুন মুন্নি। শুরুতেই রূপগঞ্জেই প্রথম পোস্টিং পেয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কাজ পরিচালনা করে আসছেন।

তথ্য কর্মকর্তা ফারজানা সুলতানা
গণযোগাযোগ অধিদফতরের অধীনে তথ্য অফিসে কাজ করেন উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের গৃহীত নীতিমালা ও উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, আলোচনা সভা, সংগীতানুষ্ঠান ও সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, কর্মসূচি, এজেন্ডা প্রচারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচার, গুজব-ভুল-বিভ্রান্তি দূরীকরণে সঠিক তথ্য প্রচারের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট দফতরের গৃহীত সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম, নীতিমালা, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি তথ্য প্রচার করে থাকেন তথ্য কর্মকর্তা। রূপগঞ্জ উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা ফারজানা সুলতানাও বিভিন্নভাবে জনগণকে তথ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ফারজানা সুলতানা বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সরকারের নানা পদক্ষেপ এখন আলোচিত। এমন সেবা দিতে এখানে কাজ করছি স্বাধীন এবং নিরাপদভাবে। এখানে নারী বলে কারও কাছে হেয় হতে হচ্ছে না। বরং আলাদা সম্মান পাচ্ছি। এমন চিন্তাই করতেন মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া। তার স্বপ্ন ছিল, নারীরা ঘরে বসে থেকে, শিক্ষার আলো যেন বঞ্চিত না হয়। তারাও যেন কাজ করে। নারী-পুরুষ সবাই মিলে দেশ গড়বে, এটাই ছিল তার চাওয়া। আমরা তারই আন্দোলনের সুফল ভোগ করছি।’

সৈয়দা ফেরদৌসী
রাজনৈতিক অঙ্গণেও পিছিয়ে নেই নারীরা। আওয়ামী লীগ, ও বিএনপিতে সমানতালে তাদের অবস্থান। তাদের মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলের বাসিন্দা শীলা রানী পাল অন্যতম। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা দীর্ঘ বছর ধরে এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। শুরুতে একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে প্রথমবারই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পরপর দুইবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত দাপুটে নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় পূর্বাচল লেডিস ক্লাব গঠন করে নারীদের সংঘবদ্ধ করার কাজ করছেন।

স্বাস্থ্যসেবায় নাসরিন আলীম
শুধু যে উপজেলা প্রশাসন কিংবা রাজনীতিতে নারীরা এগিয়ে তা নয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনাও করছেন নারী। এমন এক নারী নাসরিন আলীম। তিনি উপজেলায় বরপায় লাইফ এইড নামে একটি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। রূপগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারিভাবে এমন প্রতিষ্ঠান চালানো নারী হিসেবে তিনিই প্রথম।

এসব বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সরকারি পদে, রাজনীতির মাঠে নারী ক্ষমতায়ন বাড়লেও বাড়েনি নারীদের নিরাপত্তা। এখনও নারীরা ঘর থেকে বেরুলে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, কখন কোন অঘটন ঘটে যায়। তাই নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নারীকেই ভূমিকা রাখতে হবে। তবে অবশ্যই পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। নারী-পুরুষ আলাদাভাবে নয়। দুই পক্ষের পরস্পর সমন্বয়ই হতে পারে সমাধান।’ অন্যান্য নারী কর্মকর্তারা জানান, রূপগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। আর রূপগঞ্জ অঞ্চলটি রাজধানী লগোয়া হওয়ায় এখানে পোস্টিং পেতে প্রায় সবারই আগ্রহ থাকে। তাই এখানে পোস্টিং পাওয়া যেমন ভাগ্যের বিষয় তেমনি এখানে সফল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করাও চ্যালেঞ্জিং।

তাদের দাবি, দেশের সমৃদ্ধ আনয়ন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্দেশনা বাস্তবানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 
Electronic Paper