রাজশাহী সিল্ক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৭ কার্তিক ১৪২৬

রাজশাহী সিল্ক

রোকেয়া ডেস্ক ১২:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

print
রাজশাহী সিল্ক

অনিন্দ্য সুন্দর এক শাড়ির নাম রাজশাহীর সিল্ক। তুঁত গাছ থেকে পাওয়া সূক্ষ্ম রেশম সুতো দিয়ে তৈরি রাজশাহীর সিল্কের শাড়ির জনপ্রিয়তা ছিল বিদেশেও। সিল্ক কাপড়ের প্রধান উপাদান রেশমকে ঘিরে এ অঞ্চলের রয়েছে সুদীর্ঘ আর উজ্জ্বল অতীত। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই বাংলায় শুরু হয় রেশম চাষ। ১৯০৫ সালে রেশম শিল্পের বিকাশের প্রতিষ্ঠা করা হয় দুটি বীজভাণ্ডার।

১৯১৪ সালে ব্রিটিশ সরকার রেশম শিল্পকে তদারক করার জন্য আলাদা একটি বিভাগ চালু করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় বাংলার রেশমপ্রধান অঞ্চল ভারতের অংশে চলে যায়। অল্প কিছু অঞ্চল পড়ে এপার বাংলায়। এর মধ্যে পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের রেশমশিল্প প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় ব্যক্তিমালিকানায় কিছু উদ্যোক্তা রেশম শিল্পের হাল ধরতে এগিয়ে এলে লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাদের। পরে অবশ্য পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থার অধীন রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি রেশম বীজভাণ্ডার স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম রাজশাহী সিল্ক ফ্যাক্টরি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নতুন করে আলোর মুখ দেখতে শুরু করে রেশম শিল্প। রেশম শিল্পকে সমৃদ্ধ করার জন্য ১৯৭৪ সালে রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠা করা হয় রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সেরিকালচার বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর রাজশাহী সিল্ক ফ্যাক্টরি এ বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কারখানাটিতে ১০০টি রিলিং মেশিন, ২৩টি শক্তিচালিত ও ১০টি হস্তচালিত তাঁত স্থাপন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ সাল নাগাদ ১০০টি রিলিং মেশিনকে ২০০টিতে ও ২৩টি শক্তিচালিত তাঁতকে ৪৩টিতে উন্নীত করা হয়।

৮০’র দশকের শেষ দিকে দেশে তিন হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে তুঁত চাষ হতো। সে সময় রেশম খাতের মাধ্যমে দেশের ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড গঠন, রাজশাহীতে প্রধান কার্যালয় স্থাপন, রেশম বোর্ডের সঙ্গে রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট যুক্তকরণ এবং রেশম শিল্পের অবকাঠামো ও নির্মিত কারখানাসহ সব স্থাপনা রেশম বোর্ডের অধীন চলে আসাতে গতি পায় শিল্পটি। শুরুতে আটটি জেলার মধ্যে রেশম শিল্পের কার্যক্রম সীমিত থাকলেও পরে নব্বইয়ের দশকে ৪০ জেলায় রেশম বোর্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

মূলত এ সময়টিই এ অঞ্চলে রেশম উৎপাদনের স্বর্ণযুগ হিসেবে বলা হয়। বাংলাদেশের রেশমরাজ্য হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ সদর আল-এর হাত ধরে নতুন করে যাত্রা শুরু হয় রেশম শিল্পের।

২০১৩ সালের বাংলাদেশ রেশম বোর্ড, রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং সিল্ক ফাউন্ডেশন এই ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একীভূতকরণের মাধ্যমে পুনর্গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড’। এই শিল্পকে ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। তবে রেশম চাষের উপযোগী আবহাওয়া ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক।