জাহানারা পারভীনের ‘অমর একুশে’

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

সৃষ্টিতে উজ্জ্বল নারী ভাস্কর

জাহানারা পারভীনের ‘অমর একুশে’

শারমিন আক্তার ২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৯

print
জাহানারা পারভীনের ‘অমর একুশে’

অমর একুশ মনে করিয়ে দেয় ত্যাগ আর অগণিত প্রাণের বিনিময়ে বাঙালির প্রাপ্তির কথা। বিশ্বে বাঙালিরা একমাত্র জাতি যাদের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। ‘অমর একুশ’ নিয়ে যায় ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারিতে। যেদিন ভাষার জন্য ছাত্ররা মিছিল করেছিল। পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বার প্রমুখের বুকের তাজা রক্তে বাঙালিরা নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জন করে। সেই মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কংক্রিটের শরীরে জীবন্ত করেছেন শিল্পী জাহানারা পারভীন।

৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারির সেই ভাষা আন্দোলনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে চির অমলিন করে রাখার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় এই অমর একুশে ভাস্কর্য।

যা তিনটি স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। মুষ্টিবদ্ধ হাতে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, অনেকগুলো মৃত্যু আর সন্তান হারা মায়ের কাতর আকুলতা। ‘অমর একুশে’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাঙালি, আমরা বীরের জাতি এবং বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষা আমাদের প্রাপ্তি নয়, আমাদের অর্জন।

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতীকী এই মূর্তিটাকেই বেছে নেয় সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তাই মৌন মিছিল, প্রতিবাদ সভা, বিচারের দাবিসহ সব ধরনের চাওয়া-পাওয়ার পাদদেশ থেকেই শুরু হয়। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয় চুনাপাথর, সিমেন্ট, আইড, মডেলিং ক্লে আর বালি দিয়ে। নির্মাণ শিল্পী জাহানারা পারভীন তিল তিল পরিশ্রম আর বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরিয়ে গড়ে তোলেন ৩৪ ফুট উচ্চতার এই নান্দনিক গঠন। ১৯৯১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে স্বমহিমায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে অমর একুশে।

ভাস্কর্যটি দেখতে চাইলে যেতে হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট (ডেইরি গেট) থেকে একটু ভেতরে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার মাঝে। নান্দনিক স্থাপত্যের বেজমেন্টের ফুলের বাগান ভালোলাগা যেন আরও একটু বৃদ্ধি করে।