স্থাপত্যে মেরিনার জয়

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

সৃষ্টিতে উজ্জ্বল নারী ভাস্কর

স্থাপত্যে মেরিনার জয়

আফিফা ইশরাত ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৯

print
স্থাপত্যে মেরিনার জয়

স্থাপত্যশিল্পে আরেক বিজয়ীর নাম মেরিনা তাবাসসুম। ১৯৮৮ সাল। মেরিনারা তাবাসসুম আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হলেন। ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় তিন হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তিনি প্রথম হলেন। এর মধ্য দিয়ে মেরিনা তাবাসসুম সূচনাতেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। শুরু হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের অন্য এবং অনন্য একটি অধ্যায়। পড়াশোনায় ভালো, ডিজাইন করে সুন্দর; বন্ধু, পরিবার এবং শিক্ষক সবার কাছে তার কদর। ১৯৯৫ সালে বুয়েটের পাঠ চুকে গেল, তার সাফল্যের ঝুলিতে তখন সঞ্চিত হয়ে গেছে ডিজাইন ক্লাসে সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য ‘হাবিবুর রহমান স্বর্ণপদক’।

১৯৯৫ সালে মেরিনার গ্রাজুয়েশন শেষ। এরপরই তার সহপাঠী স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিণয়। তারা দুজনে মিলে ‘আরবানা’ নামে একটা স্থাপত্য উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেন। শুরু থেকেই তারা দাপটের সঙ্গে স্থাপত্য পেশা চর্চা শুরু করেন। শুরুর দুবছরের মাথায় জাতীয়ভিত্তিক স্থাপত্য প্রতিযোগিতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিতব্য স্বাধীনতা স্তম্ভ ডিজাইন করার জন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নজরে চলে আসে ‘আরবানা’। নজরে আসে মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব। ভিন্ন ধারার কাজ করে এর মধ্যেই মেরিনার অনেক নাম ডাক হয়ে গেছে। কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দরদ তাকে আরও সামনের দিকে নিয়ে যায়।

২০০১ সালে ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে জে কে সিমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান। প্রজেক্টের ডিজাইন স্থপতি হিসেবে পুরস্কারটি তিনিই গ্রহণ করে। তিনি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারকে ভূষিত হন। ঢাকার উত্তরে দক্ষিণ খান এলাকায় দাদির দেওয়া জমিতে স্থাপিত বায়তুর রউফ মসজিদের স্থাপত্যের জন্য মেরিনা তাবাসসুম এই পুরস্কার পান। ২০০৪ সালে প্রথমবার তিনি এ পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন লাভ করেছেন।

গত প্রায় ৩ বছর ধরে এই নামেই কাজ করছেন তিনি। বেশ কটি বড় শপিং মলের ইন্টেরিয়র, অ্যাপার্টমেন্ট, যশোরে একটি রিসোর্ট, গাজীপুরে ফ্যাক্টরি, মসজিদ এসবই মেরিনার নিজের ডিজাইন। ‘নিসর্গ’ আয়োজিত ডিজাইন প্রতিযোগিতায় তার প্রজেক্টটি তৃতীয় স্থান দখল করে। ধানমন্ডিতে একটা ছোট্ট পরিসরে তার ডিজাইন স্টুডিও। আরও তিনজন তরুণ স্থপতি তার সঙ্গে কাজ করেন। এই নিয়ে মেরিনার বর্তমান আয়োজন।

২০০৫ সাল থেকে মেরিনা তাবাসসুম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসাবে কাজ করছেন। ছাত্র পড়ানোতেও তার অনেক আনন্দ। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এসব নিয়েই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান মেরিনা।