প্রিয়ভাষিণীর প্রিয় ভাষা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

সৃষ্টিতে উজ্জ্বল নারী ভাস্কর

প্রিয়ভাষিণীর প্রিয় ভাষা

ইউসুফ আলী ২:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৯

print
প্রিয়ভাষিণীর প্রিয় ভাষা

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রগতিশীল সাহসী নারী, প্রখ্যাত ভাস্কর এবং একজন প্রগতিশীল মানুষ। তিনি এ দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর যোদ্ধা। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় নানা বাড়িতে। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ বেলা পৌনে ১টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রিয়াভাষিণী। একাত্তরের বীরাঙ্গনা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী নীরবে নিভৃতে কাজের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে গেছেন।

শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ২০১০ সালে শিল্প ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সর্ব্বোচ বেসামরিক সম্মান ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার’ লাভ করেন। 

তাছাড়া, বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ এই মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্করকে সংবর্ধনাও প্রদান করে। ২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তার আত্মজীবনী ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়। আমাদের চিরচেনা প্রকৃতির নানা তুচ্ছ আর প্রচ্ছন্ন অবয়বকে তিনি বিন্যাসের গুণে করে তুলেন এক অনন্য শিল্পে। সেই অবয়বে নিজের বোধ আর শিল্পিত রূপকল্পের সম্মিলন ঘটিয়ে যে অমর্ত্য রূপ প্রদান করেন আর সেই রূপে যে বেগ থাকে, আবেগ থাকে, প্রণয় থাকে, মায়া থাকে, বেদনা থাকে, আলোর আলোড়ন থাকে সেটি তো তার অভ্রান্ত অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জীবনের একটি বড় অধ্যায়। শেষ বয়সে এসে নানা শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেন এবং তা অবিরামভাবে করে যান।

প্রিয়ভাষিণী যেভাবে ফেলে দেওয়া, প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া কাঠের টুকরা, শেকড়, গাছের গুড়িকে তুলে এনে নতুন জীবন দিতেন, তা এক কথায় অসাধারণ।

প্রিয়ভাষিণীর শিল্পকর্ম নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয় যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে। এস এম সুলতান সে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন। এরপর অনেকবার তার কাজের প্রদর্শনী হয়েছে। নাম না জানা ফুল, গাছের গুড়ি থেকে ১৯৯৪ সালে এ ফর্মটি তৈরি করেছেন তিনি।