রিকশাচালক মা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

রিকশাচালক মা

রোকেয়া ডেস্ক ৩:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

print
রিকশাচালক মা

স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিন সন্তান নিয়ে জেসমিনের সংসার। স্বামী ভরণপোষণ দেবে তো দূরের কথা, খোঁজখবরও রাখেন না স্ত্রী-সন্তানদের। কিন্তু তাই বলে জেসমিন কী বসে থাকবেন? তিন তিনটি সন্তান তার! সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া আর উচ্চশিক্ষিত করার দৃঢ়প্রত্যয়ে শুরু করেন বাসাবাড়িতে কাজ। কিন্তু তাতে সন্তানের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে পারলেও পারেন না পড়ালেখার খরচ জোগাতে। তাই উপায় খুঁজলেন অন্য মাধ্যমে।

এবার সন্তানের উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে রিকশাচালকের আসনে বসেন জেসমিন। সেই শুরু, দীর্ঘ ১৫ বছর একটানা রিকশা চালিয়ে জীবন সংগ্রামের এক অগ্রসেনানী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জেসমিন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে একজন মহিলা রিকশাচালক দাপিয়ে বেড়ান প্রতিদিন। তিনি হচ্ছেন সেই জেসমিন বেগম। রিকশা চালানো শুরু করলে শুরুর দিকে অনেকেই নানান রকম কথা বললেও এখন অনেকেই এই জীবন সংগ্রামের জন্য তাকে বাহবা দেন। প্রথমে প্যাডেলে চালানো রিকশা, আর এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জেসমিন বলেন, একসময় অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আর কটূক্তি সহ্য করেছেন কিন্তু আজ সবাই তাকে সম্মান করে। স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছিলেন। সন্তানের মুখে দুবেলা ভাত তুলে দিতে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছেন। কিন্তু তাতে করে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার হয়তো চলত কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য লেখাপড়া করানোটা হতো না। তাই অনেক ভেবে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে।

শ্রমজীবী পুরুষ রিকশাচালকদের মাঝে একা নারী চালক জেসমিন। অদম্য প্রাণশক্তি আর এগিয়ে চলার ইচ্ছা তাকে চালাচ্ছে। আর তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন চার সদস্যের সংসার। জেসমিন সংগ্রামী, সংগ্রাম করছেন-তবে চাওয়া খুবই কম। বিলাসী জীবন নয়, নিজের যানে নিজে আয়ের কথা বলতে বলতে চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি পড়ে। দ্রুতই তা মুছে ফেলেন।

হাসির চেষ্টা করে বলেন, শরীরটা আর পারে না। রাতে কাঁধ আর কোমর ব্যথায় ঘুমাতে পারি না। তারপরও সন্তানের মুখ চেয়ে সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়ে যাই।