সেলাই দিদিমনি

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

সেলাই দিদিমনি

নাজমুল হোসাইন ১:০৮ অপরাহ্ণ, মে ০২, ২০১৯

print
সেলাই দিদিমনি

বাংলাদেশে নারীর অংশগ্রহণের একটি বিরাট ক্ষেত্র হলো পোশাকশিল্প কারখানা। বলা যায়, পোশাকশিল্পের প্রায় পুরোটাই নারী শ্রমিকের হাতে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা এখন আর অস্বীকার করার কোনো জো নেই। আজকে দেশি ও বৈদেশিক মুদ্রা অজর্নের সবচেয়ে বড় খুঁটি হলো এই পোশাক শিল্প। এ দেশের কর্মসংস্থানের প্রায় ৬৫ শতাংশ ও বৈদেশিক আয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্জিত হয় এ শিল্পের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ বিদেশে পোশাক রপ্তানি শুরু করে ১৯৭৮। পরবর্তী প্রায় দুই দশকে দেশের এ শিল্প খাত বিস্ময়করভাবে উন্নতি লাভ করে। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির একটা বিরাট অংশজুড়ে আছে পোশাকশিল্প কারখানা। রপ্তানি আয়ের বড় অংশও এ শিল্প খাত। আর এই পোশাকশিল্প কারখানার সিংহভাগ শ্রমিকই হলেন নারী। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও উন্নয়নের সব সূচকে নারীর অংশগ্রহণ সমান নয়। কিন্তু পোশাকশিল্প কারখানায় নারীর সক্রিয় ভূমিকা, পোশাকশিল্প খাতকে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে তা একই সঙ্গে বিস্ময়ের এবং গর্বের বিষয়। এ অবদানের আশি ভাগ নারী শ্রমিকের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে। কারণ দেখা গেছে, পোশাকশিল্প-শ্রমিকের আশি ভাগই নারী শ্রমিক। পোশাকশিল্পকে চাঙ্গা রাখার প্রাণশক্তি এ বিরাটসংখ্যক নারী শ্রমিকরা ভালো থাকলে ভালো থাকবে পোশাকশিল্প, ভালো থাকবে দেশ। কিন্তু তারা কি আসলে ভালো আছে?

যেটা খুব জরুরি, নারী গার্মেন্ট শ্রমিকদের বাচ্চাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ডে কেয়ার সেন্টার। শ্রম আইনে এ বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হলেও দেশের নব্বই শতাংশ গার্মেন্টেই এটির দেখা মেলে না। শ্রম আইনানুসারে, যে প্রতিষ্ঠানে ২০ জন নারী শ্রমিক আছেন, সেখানে ডে কেয়ার সেন্টার না থাকা দ-নীয় অপরাধ। অথচ পোশাক শিল্পে ৭০ শতাংশের বেশি নারী শ্রমিক হওয়ার পরও ডে কেয়ার সেন্টার না থাকার ফলে বাচ্চাদের বাসায় একা রেখে কাজ করতে এসে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। অনেক নারী শ্রমিকই বাড়িতে বাচ্চা রেখে এসে চিন্তায় ঠিকমতো কাজে মন দিতে পারেন না।

অনেক কর্মঠ নারী শ্রমিক নিরুপায় হয়ে আর্থিক অনটনের অসুবিধাকে উপেক্ষা করে শেষমেশ কাজ ছেড়েও দেন নিজ সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে। ১ হাজার ২০০ নারী শ্রমিকের বিপরীতে যেসব কারখানায় কিছু ডে কেয়ার সেন্টার আছে সেখানে বাচ্চা লালন-পালন ক্ষমতা আছে মাত্র ৮ জন। ডে কেয়ার সেন্টার নিয়ে মালিক পক্ষের থাকে নানা টালবাহানা। তাই নামকাওয়াস্তে অনেকে স্থাপন করেন ডে কেয়ার সেন্টার, বাস্তবে যার তেমন কোনো কার্যক্রমই পরিলক্ষিত হয় না। যদিও দেশের ৯০ শতাংশ গার্মেন্টে কোনো ডে কেয়ার সেন্টারই নেই। ৮ শতাংশ যা আছে তা কেবলই সাইনবোর্ড সর্বস্ব। তবে এর বাইরে ২ শতাংশ গার্মেন্টে যেসব ডে কেয়ার সেন্টার আছে সেগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক। এছাড়া নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে ধূমপান জোন আছে অথচ প্রয়োজনের তুলনায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার নেই বললেই চলে। এতে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের গার্মেন্ট খাতে কাজ করে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। কিন্তু কারখানাগুলোতে নেই পর্যাপ্ত ব্রেস্ট ফিডিং জোন বা কর্নার। তৈরি পোশাক কারখানায় অনেক দক্ষ নারী শ্রমিক গর্ভবতী থাকেন।

তাদের অনেকেই সন্তান জন্মদানের পর সন্তানের যত্ন, নিরাপত্তার কথা ভেবে কাজে ফিরে আসেন না। যারা সন্তানকে বাড়িতে রেখে কাজে যোগ দেন, তাদের শিশুটি মায়ের বুকের দুধ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে ওই শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।