‘উন্নয়নের প্রতীক নৌকাই বেছে নেবে মানুষ’

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ কার্তিক ১৪২৫

‘উন্নয়নের প্রতীক নৌকাই বেছে নেবে মানুষ’

শরিফ বিশ্বাস, কুষ্টিয়া ৪:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

print
‘উন্নয়নের প্রতীক নৌকাই বেছে নেবে মানুষ’

সুফি ফারুক পেশায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক এই তরুণ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শভিত্তিক তারকাদের সংগঠন ‘ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম’-এর কেন্দ্রের সভাপতি। এবার তিনি কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে প্রার্থী হতে চান। এ বিষয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রতিনিধি শরিফ বিশ্বাস

নির্বাচন কেন করবেন?
প্রথম কারণটি হলো আমি এখন মানুষের জন্য যে কাজগুলো করছি, সেগুলো যেন আরও বড় আকারে, সবার জন্য কারতে পারি। এ ছাড়া কুমারখালী-খোকসার মানুষ কে নিয়ে যে স্বপ্ন আছে সেটা বাস্তবায়নের জন্য। পাশাপাশি রাজনীতির গুনগণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম ও দলীয় আদর্শের উৎকর্ষে আমাদের দক্ষ, নির্লোভ নেতৃত্ব জরুরি। সুশাসন, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ আঞ্চলিক মানুষের জীবন-মানের পরিবর্তনে একজন সংসদ সদস্য রোল মডেল হয় থাকেন।

মনোনয়নের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
পারিবারিক পরিচয় ছাড়াও আমি সেলফমেড মানুষ। আমার ১২ বছরের সমাজকর্মের সুবিধাভোগী হিসেবে আমার আসনের প্রায় ১০% অরাজনৈতিক ভোটার আমার সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত। প্রযুক্তি নির্ভর যোগাযোগ ও বিশেষায়িত কর্মসূচির কারণে তরুণ ও মহিলাদের সঙ্গে সব প্রার্থীর চেয়ে আমি বেশি যুক্ত। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে আমার ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা আছে। বিগত বিএনপি-জামায়াতের সময় থেকে এ আসনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে আছি। কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে তাদের অনেকের নিরাপদ আবাসন, আইনি সহায়তা দিয়েছি। ২টি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়নের ৩১১টা গামের প্রতিটি মহল্লায় একজন করে হলেও নতুন কর্মী তৈরি করেছি, তাদের ডিজিটাল প্রচার প্রচারণায় প্রশিক্ষণ দিয়েছি। শিক্ষক, ইমাম-আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবীদের সঙ্গে আমি আলাদাভাবে যোগাযোগ রেখেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগগতি নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আমি দেশের আনাচে কানাচে ও বিদেশে কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, দলকে এগিয়ে নিতে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করা ও উন্নয়নের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

এলাকায় বিশেষ কী করছেন?
২০০৭ সাল থেকে আমি কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের মানুষের পাশে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ নিয়ে আছি। পেশা পরামর্শ সভা, মা-বোনদের বিশেষ পরামর্শ সভা, শেখ হাসিনা কমিউনিটি সেলাই কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, দর্জি প্রশিক্ষণ, বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণ, শেখ হাসিনা হেলথ ক্যাম্প, পড় মুজিব, হাট পরিক্রমাসহ ১৪টি নিয়মিত কর্মসূচি চলাচ্ছি। আমার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বহু তরুণের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি সামাজিক অবকাঠামো, মসজিদ, মন্দির নির্মাণে সহায়তা করেছি। প্রতিবছর নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তি দেই। তরুণদের খেলার সরঞ্জাম সরবরাহ করি। এভাবে প্রায় ৩৮ হাজার লোককে সুবিধাভোগী বানিয়েছি। এদের সবার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ ডেটাবেস তৈরি রেখেছি। তাদের সঙ্গে নিয়মিত কল সেন্টারের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখি। সফটওয়ারে সব কর্মকা-ের হিসাব রাখি। জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দুই উপজেলাতে অফিস রেখেছি।

দলের বাইরে সাধারণ ভোটারদের জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন?
আমার বেশিরভাগ উদ্যোগ নির্দলীয় ভোটারদের জন্য। তৃণমূলে এখনো সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্মান টিকে আছে। বর্ধিঞ্চু পরিবারের সদস্য হিসেবে এ সুযোগটি আমি পাব। একই সঙ্গে বাড়ি বাড়ি উঠান বৈঠক, বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে আমি এলাকার সব শ্রেণি-পেশা ও দল-মত মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করতে পেরেছি।

ভোটারদের উদ্দেশে কী বলবেন?
তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষে মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা ভালো-মন্দ বুঝতে শিখেছে। সহিংসতা পরিহার করে সবাই পরিবার নিয়ে পরিশ্রম করে শান্তিতে থাকতে চাই। উন্নয়ন ও শান্তির পরীক্ষিত আইকন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার অনুরোধ, বিশ্বের বুকে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এবং চলমান উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করতে দেশের শান্তি প্রিয় মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। আমার আসনের ভোটারদের বোঝাবুঝি পরিষ্কার। তারা কোনো মিথ্যাচার বা প্রলোভনে কান না দিয়ে সত্য ও সুন্দর নৌকাকেই বেছে নেবে।

খোলা কাগজের রোড টু ইলেকশন থেকে আপনাকে ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ। একই সঙ্গে আমি আপনাদের মাধ্যমে কুমারখালী-খোকসার মানুষদের সালাম ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, তাদের কাছে দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করছি।

 
.