এবার রাজনীতির মঞ্চে

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

এবার রাজনীতির মঞ্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

print
এবার রাজনীতির মঞ্চে

বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত এবং বহুল জনপ্রিয় নায়িকা শাবানা। মাত্র ৯ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি। দাপটের সঙ্গে প্রাণবন্ত অভিনয় চালিয়ে গেছেন দীর্ঘ সময়। অভিনয় ছেড়েছেন ১৯৯৭ সালে। এরপর থেকে তাকে আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি। শুধু চলচ্চিত্র ছাড়েননি। দেশও ছেড়েছিলেন এ অভিনেত্রী। ২০০০ সালে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি।

চলচ্চিত্রের মাঠে না থাকলেও নন্দিত এ অভিনেত্রী নেমেছেন রাজনীতির মাঠে। ২০১৭-এর জুন মাসে তিনি স্বামীসহ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

এরপর থেকেই তার রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন প্রকাশ পায়। শাবানা রাজনীতিতে আসছেন এমনটা জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরাও। প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে তিনি তার স্বামী ওয়াহিদ সাদেককে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামে সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

বড়েঙ্গায় নিকটজনের কাছে ‘শাবানা’ পরিচয়ের বাইরে তিনি রত্না নামে পরিচিত। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে তার নির্বাচন করার কথা। এলাকার মানুষের মুখে মুখেও তা ফিরছে। মঙ্গলকোট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সম্পর্কে শাবানার দেবর আবদুল্লাহ আল আহসান বাচ্চু জানান, গত দুই বছরে শাবানা তিনবার বড়েঙ্গা গ্রামে এসেছেন।

সব সময়ই তার সঙ্গে স্বামী ওয়াহিদ সাদেক ছিলেন। গত দুই বছরে শাবানা গ্রামের মসজিদ নতুন পুনর্নির্মাণ করেছেন। ওই গ্রামেই শাবানা মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই মধ্যে ওয়াহিদ সাদেকের ভাতিজা আরিফ সাদেকের জন্য শাবানা একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য শাবানা এ বাড়িতেই থাকবেন বলে এলাকায় মানুষ মনে করে। বড়েঙ্গা গ্রামে অবস্থানকালে শাবানা চাচা শ্বশুর কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুল হালিমের বাড়িতে থাকেন।

আবার আরেকটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে শাবানার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদেক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওয়াহিদ সাদেকের বড় ভাই এ এইচ এস কে সাদেক এক সময় এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালের শেখ হাসিনার সরকারে শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

এদিকে অনেকে বলছেন, শাবানা নয় প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে রাজনীতিতে আসলেন তার স্বামী। যদিও নানা সময় শাবানার বক্তব্য ও অনেক কার্যক্রমে তিনি রাজনীতিতে আসছেন এমন আভাস মিলেছে।

শাবানা বলেন, ‘চলচ্চিত্র ও দেশের সেবা করাই একমাত্র আমার লক্ষ্য।’ এ থেকেই আভাস মিলে চলচ্চিত্র ও দেশের সেবা করতে এখন রাজনীতির দ্বারস্ত হবেন তিনি। শাবানা ও তার স্বামী জানান, রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করবেন তারা। এখন দেখার বিষয় কে নেন যশোর-৬ টিকিট। যদি ‘জনগণের রত্না’ কিংবা ‘নায়িকা শাবানা’ নেন তবে ‘রাজনীতির নায়িকা’ হবেন তিনি।

রুপালি পর্দার চিরায়ত হাসিমুখ শাবানার জন্য তা দুরূহ নয়। রাজনীতির মাঠে তাকে সুস্বাগতম।