প্রচারে আ.লীগ, নিশ্চুপ বিএনপি

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

প্রচারে আ.লীগ, নিশ্চুপ বিএনপি

নূর মোহাম্মদ সরকার, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) ৩:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

print
প্রচারে আ.লীগ, নিশ্চুপ বিএনপি

উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ-৪ আসন। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো এমন কি সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আসন ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে অন্য সময় প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে এবার সেখানে ভাটা পড়েছে। হয়তো দলগুলোর পক্ষ থেকে মনোনয়ন সম্পন্ন হলে রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠবে, পোস্টারে ছেঁয়ে যাবে প্রতিটি ওলিগলি। সেইসঙ্গে সভা-সমাবেশ উঠান বৈঠক ও মিছিলের জোয়ার আসবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি নেতারা মাঠে না থাকলেও ১৪ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে একাধিক প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

উল্লাপাড়ায় একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের তিন লাখ ৮২ হাজার ৪৯ জন ভোটার রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চারবার, বিএনপি দুইবার, জাসদ দুইবার, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র থেকে একবার করে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির এম আকবর আলী, ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুল আলম। তিনি পর পর দুই বার বিএনপি প্রার্থী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সামান্য ভোটে হেরে যান। ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের আব্দুল লতিফ মির্জা। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও বিএনপির এম আকবর আলী নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের ভোটে আওয়ামী লীগের শফিকুল ইসলাম শফি, ২০১৪ সালে বিজয়ী হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম। উল্লাপাড়ায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের আলাদা আলাদা ভোটব্যাংক থাকলেও পরপর দুইবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় উল্লাপাড়ায় বিএনপি-জামায়াতের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে।

এমপি তানভীর ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অবস্থান বর্তমানে অনেক মজবুত। তার সময়ে উল্লাপাড়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা পরিষদ ও পৌর কাউন্সিলরসহ ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করায় বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফি ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হলেও ২০১৪ সালে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এবার দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় তার সমর্থকরা মাঠে নেমে পড়েছেন। তার সমর্থকরা বলেন, গতবার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও এবার মনোনয়নের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জার মেয়ে সেলিনা মির্জা মুক্তি বলেন, ‘তার প্রয়াত বাবার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে এ আসনে। তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী। মহিলা ভোটারদের মধ্যে তার পক্ষে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’

এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জাহেদুল হক। আওয়ামী লীগের এ নেতাও দলবল নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সকল প্রার্থীর একই উদ্দেশ্য নৌকার বিজয়।

এদিকে, বিগত দিনের সহিংস আন্দোলন ও নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী অনেকেই এলাকা ছাড়া। আবার অনেকে কারাগারে। তবে উল্লাপাড়া বিএনপির সভাপতি এম আকবর আলী দাবি করেন তিনি উল্লাপাড়ায় উন্নয়নসহ শিক্ষানগরী গড়ে তুলেছেন। তাই তিনি মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী কামাল বলেন, ‘তার পরিবারের জায়গায় গড়ে উঠেছে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়াও জনকল্যাণমূলক অবদান কাজী পরিবারের রয়েছে বলে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সামছুল আলম, সিমকী ইমাম খান, আব্দুল ওয়াহাব ও কে এম শরফুউদ্দিন মঞ্জু।'

কেন্দ্রীয় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি ২০০৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও রফিকুল ইসলাম খান প্রায় ৯৬ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। তবে রফিকুল ইসলাম খান আদালত অবমাননার মামলায় তিন মাসের কারাদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন।
এ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইতে পারেন হিলটন প্রামাণিক ও এম এ হাশেম রাজু।