জয় ও মুক্তির দ্বৈরথ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬

জয় ও মুক্তির দ্বৈরথ

নরসিংদী- ১

খন্দকার শাহিন, মাধবদী (নরসিংদী) ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

print
জয় ও মুক্তির দ্বৈরথ

নরসিংদী-১ (সদর) আসনে নিরুত্তাপ নির্বাচনী হাওয়া। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মহাজোট প্রার্থী লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু (বীরপ্রতীক)। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন জেলে থাকায় তার মুক্তি কামনা করছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করলেও শহরেই কোনো পোস্টার বা প্রচারণা চোখে পড়েনি। মাধবদীতে তার সমর্থকরা নৌকা মার্কার প্রচারণায় ব্যস্ত।

এ ছাড়া জাকের পার্টি থেকে গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে আরিফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আশরাফ হোসেন ভূঁইয়া, গণফ্রন্ট থেকে জাকির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মোবারক হোসেন আকন্দ, ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মোহাম্মদ ইসহাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় চোখে পড়ছে না এসব প্রার্থীদের প্রচারণা।

শিল্পাঞ্চলখ্যাত নরসিংদী-১ আসনটি শিক্ষানগরী আর বস্ত্র শিল্পের নগরী হওয়ায় সারা দেশে ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। তাই এ আসনটির গুরুত্ব অনেকাংশে বেশি। এ আসনটি মরহুম সামসুদ্দীন আহমেদের হাত ধরে দীর্ঘদিন বিএনপির দখলে ছিল। তার মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে খায়রুল কবীর খোকন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসেন সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (বীরপ্রতীক)। তিনি প্রথম বছরেই বিএনপির খায়রুল কবীর খোকনকে পরাজিত করেন।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সহজেই জয়ের পথ উন্মুক্ত হয় নৌকা মার্কার। এই সুবাদে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। আর এ সুযোগে তিনি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচিত হয়ে যান। এই থেকে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক পেয়ে যান নজরুল ইসলাম হিরু। ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির হয়ে খায়রুল কবীর খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন শুরু করেন। খায়রুল কবীর খোকন মনোনয়ন জমাদানের পরপরই তাকে নাশকতার মামলায় আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করায় জেলে থাকতে হচ্ছে তাকে। শুধু তাই নয়, খায়রুল কবীর খোকনের ধানের শীষ প্রতীকে যাতে কেউ ভোট চাইতে না পারে সেই জন্য তার নেতাকর্মী আর কর্মী-সমর্থকদেরও বিভিন্ন মামলায় পুলিশ আটক করে জেলে আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

এখন নির্বাচনী মাঠে মহাজোট প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরাই দিনরাত সমানতালে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং করে যাচ্ছেন। অপরদিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী খায়রুল কবীর খোকনের স্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা কিছুসংখ্যক মহিলা কর্মীকে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারও অভিযোগ পুলিশি বাধা ও নৌকার সমর্থকদের বাধার কারণে মাঠে নামা যাচ্ছে না। তাই এখন জনগণের মুখে মুখে একটি কথাই-একজন চায় ভোট; অপরজন চায় মুক্তি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ