ঐক্যফ্রন্টে অবিশ্বাস সুবিধায় নৌকা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

ঐক্যফ্রন্টে অবিশ্বাস সুবিধায় নৌকা

কক্সবাজার-২

কক্সবাজার প্রতিনিধি ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

print
ঐক্যফ্রন্টে অবিশ্বাস সুবিধায় নৌকা

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে সব নাটকীয়তার শেষ হয়েছে। মান-অভিমান ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নৌকায় ফিরেছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বলতে গেলে বর্তমানে এই আসনে আওয়ামী লীগ কিংবা নৌকার প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিকের সঙ্গে নেতাকর্মীদের চোখে পড়ার মতো আর কোনো বিরোধ নেই।

বৃহৎ স্বার্থে নৌকার জয় নিশ্চিত করতে দলীয়প্রধান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন মান-অভিমানকারী সব নেতাসহ বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

অপরদিকে টানাহেঁচড়ার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত। ২০ দলীয় জোটের পক্ষে কক্সবাজারের জেলার নেতারা জরুরি সভা ডেকে জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদকে আপেল মার্কায় ভোট দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর মাঝে ধানের শীষ নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। কিন্তু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের শুরু থেকেই চলছে লাগাতার যুদ্ধ।

সর্বশেষ গত ২২ ডিসেম্বর বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র ছাড়া আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদককে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় রিটার্নিং অফিসার ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তা দুদিনের মধ্যে জবাব দিতেও বলা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ মতেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ ফরিদকে প্রার্থিতা ফেরত ও ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে আইনি ত্রুটি-বিচ্যুতির কোনো অবকাশ নেই।

অনেকের মতে, কক্সবাজার-২ আসনে নৌকার প্রার্থী জয়ের দ্বারপ্রান্তে। মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের একাংশের নেতৃত্বদানকারী নেতা আনোয়ারুল মোস্তফা জানান, নৌকা কিংবা আশেক উল্লাহ রফিকের বিজয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

দলীয় নেতাকর্মীসহ দ্বীপ উপজেলার মানুষ যেভাবে সু-সংগঠিতভাবে মাঠে নৌকার জন্য কাজ করছে তাতেই বোঝা যায়, কক্সবাজার-২ আসনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। এই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মান-অভিমান থাকাটা স্বাভাবিক। এখন শতভাগ নৌকা বিজয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার দলীয় নেতাকর্মীসহ আমজনতা। তিনি বলেন, অভিমান করে যারা দূরে ছিল তারাই বর্তমানে জনসভা থেকে শুরু করে পথসভা ও মিছিল, মিটিংসহ ব্যাপক গণসংযোগ করছেন।

এদিকে বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিকের সঙ্গে নানা বিষয়ে মনোমালিন্যের কারণে মাছ মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন গণফ্রন্ট থেকে ড. আনসারুল করিম। তিনি নির্বাচনী মাঠেও শক্ত অবস্থান করে ছিলেন। কিন্তু ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। পরদিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

ড. আনসারুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেকেছিলেন। সাক্ষাৎ করেছি। সব সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দিয়েছেন বলেই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, আওয়ামী লীগের রক্ত কোনোদিন বেইমানি করে না। কালারমারছড়ার মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে বারবার তা প্রমাণ করেছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকাকে বিজয়ী করে আবারও প্রমাণ করব কালারমারছড়ার মাটি নৌকা মার্কার ঘাঁটি। এদিকে দলীয় কোন্দল ও দলীয় প্রতীক নিয়ে জামায়াত-বিএনপি ধাক্কাধাক্কির মধ্যে সময় পার করলেও সব মান-অভিমান ভুলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শক্ত অবস্থানে ফিরে আসায় এ আসন অনেক নৌকা বিজয়ের হাসি হাসছে বলে ধারণা করছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ভোটার এবং আমজনতাসহ সচেতন মহল।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ