দশ বছরে সম্পদ বেড়েছে তাদের

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

দশ বছরে সম্পদ বেড়েছে তাদের

ডেস্ক রিপোর্ট ১২:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

print
দশ বছরে সম্পদ বেড়েছে তাদের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয় আসনে বিএনপির ১২ প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত ১০ বছরে অনেকেরই স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। অনেকেরই বেড়েছে বাৎসরিক আয়। তবে এর মধ্যে সৈয়দ শহিদুল হক জামাল, মেজবাউদ্দীন ফরহাদ ও আবুল হোসেন খানের আয় কমেছে। আর সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ায় তার কোনো আয় দেখানো হয়নি।

জহির উদ্দিন স্বপন
বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৭০ টাকা বাৎসরিক আয় দেখিয়েছিলেন। যা ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, বিগত সময়ে তার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ৪০ টাকার ও ১০ তোলা স্বর্ণ এবং তার স্ত্রীর নামে ছয় লাখ ৯১ হাজার ৮৫২ টাকার সম্পদ ও ৫০ ভরি স্বর্ণ। আর বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে দুই কোটি ৯৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪২ টাকার সম্পত্তি ও ১০ তোলা অলঙ্কার এবং তার স্ত্রীর নামে ৩৮ লাখ ২৪ হাজার ৮০৫ টাকার সম্পত্তি ও ৫০ ভরি অলঙ্কার রয়েছে। এ ছাড়া ছেলের রয়েছে শারমিন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের পাঁচ লাখ মূল্যের শেয়ার। যদিও তার স্থাবর সম্পত্তি নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামার সঙ্গে অনেকটাই স্থিতিশীল।

আবদুস সোবাহান
বরিশাল-১ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী আবদুস সোবাহানের বাৎসরিক আয় বর্তমানে প্রায় সাত লাখ টাকা ও তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় প্রায় আট লাখ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বাৎসরিক আয় ছিল প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা।

বিগত সময়ে অস্থাবরে ৩৮ লাখ টাকার সম্পদ ও বৈবাহিক উপহার ১০০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার এবং তার স্ত্রীর নামে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার সম্পদ ও বৈবাহিক উপহার ২৫ তোলা স্বর্ণালঙ্কার দেখানো হয়েছিল। আর বর্তমান হলফনামায় অস্থাবরের মধ্যে তার রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকার সম্পদ ও ৪৫ তোলা অলঙ্কার এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৯ টাকার সম্পদ রয়েছে। স্থাবরের মধ্যে বিগত নির্বাচনের হলফনামায় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ১০ একর কৃষি জমি ছাড়াও তার ৪৬ লাখ ৭৭ হাজার ৩৪৭ টাকার ও তার স্ত্রীর ৮১ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭ টাকার সম্পদ দেখিয়েছিলেন তিনি। আর বর্তমানে তার ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০ টাকা ও তার স্ত্রীর এক কোটি তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৭ টাকার সম্পত্তি রয়েছে।

সৈয়দ শহিদুল হক জামাল
বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ শহিদুল হক জামালের বর্তমান আয় ও তার ওপর নির্ভরশীলদের আয় আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। হলফনামা অনুযায়ী, জামালের বর্তমান আয় ছয় লাখ ৭৫ হাজার ২শ টাকা। যা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আর বর্তমানে তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় তিন লাখ ১৭ হাজার ৮৪৪ টাকা, যা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ২০ লাখ ৫০ হাজার ৩১৪ টাকা। নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ
বরিশাল-২ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ বর্তমানে কোনো টাকা আয় করেন না বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বাড়েনি তার সম্পদের পরিমাণ। তবে বেড়েছে তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় তিনি দুই স্ত্রীর ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং স্থাবরে এক কোটি ৬৫ লাখ ২ হাজার ৮০০ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে এবারের হলফনামায় তিনি স্ত্রীর নামে চার কোটি ৫৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় স্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

সেলিমা রহমান
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির সেলিমা রহমান পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, ১০ বছরে তার আয়-সম্পদ উভয়ই বেড়েছে। বর্তমানে তিনি বছরে আয় করেন ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা, যা নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ছিল ১২ হাজার ১৪ টাকা। যদিও সে সময় তার পেশা গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবরের মধ্যে তার ছিল এক কোটি ৫ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৯ টাকার সম্পদ ও তার স্বামীর ছিল ৭৪ লাখ ৬২ হাজার ৩২৩ টাকার সম্পদ। আর এবার শুধু তার অস্থাবরের মধ্যে রয়েছে দুই কোটি চার লাখ ৭৩ হাজার ৮৭২ টাকার সম্পদ।

অপরদিকে ২০০৮ সালে স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার ছিল ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৩ টাকার সম্পদ এবং তার স্বামীর ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদ। আর এবার শুধু তার একারই দুই কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টাকার স্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের আয়ও বিগত সময়ের থেকে বেড়েছে। ২০০৮ সালের হলফনামায় তার আয় দেখানো হয়েছিল ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ টাকা। এবার তার আয় দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৩ টাকা। আর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে।

মেজবাউদ্দীন ফরহাদ
বরিশাল-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যবসায়ী মেজবাউদ্দীন ফরহাদের বিগত সময়ের থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার বাৎসরিক আয় কমে গেলেও বেড়েছে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ।

মজিবর রহমান সরোয়ার
বরিশাল-৫ সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তার বাৎসরিক আয় ছিল চার লাখ ৯৮ হাজার টাকা বর্তমানে তার আয় ১০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮ টাকা। এ ছাড়া বর্তমানে তার ২ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ৫০ তোলা স্বর্ণ এবং তিন কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৪২৬ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। ২০০৮ সালে অস্থাবরে তার নিজের এক কোটি ৫৮ লাখ ৭৭৫ টাকার সম্পদ ও উপহার হিসেবে ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং স্থাবরে তার নামে তিন কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছিল।

আবুল হোসেন খান
বরিশাল-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যবসায়ী আবুল হোসেন খানের বিগত সময়ের চেয়ে বাৎসরিক আয় প্রায় চার লাখ টাকা কমলেও বেড়েছে তার ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ। বর্তমানে তার এক কোটি ৩৬ লাখ দুই হাজার ৮৭৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং তার স্ত্রীর নামে ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৮৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ১০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

২০০৮ সালে হলফনামা অনুযায়ী, আবুল হোসেনের ছিল ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭০০ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং তার স্ত্রীর নামে তিন লাখ ৯৪ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ ও ৩০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে তার নিজের নামে দুই শতক পৈতৃক সম্পত্তি ও এক কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ১২৯ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ১২ হাজার ৫শ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।

অন্যদিকে ২০০৮ সালে তার নামে এক কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯২০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ ছিল।

আব্দুর রশীদ খান
বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রশীদ খান পেশায় আইনজীবী। বর্তমানে তার বাৎসরিক আয় ১২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। যা ২০০৮ সালের হলফনামায় ছিল দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ১০ বছরের মাথায় তার আয় বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। পাশাপাশি বেড়েছে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও।

১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার নামে। তার স্ত্রীর ১৮ লাখ টাকার সম্পদ ও বিবাহকালে ১০ ভরি অলঙ্কার রয়েছে। পাশাপাশি স্থাবর সম্পদে চার লাখ টাকার একটি বাড়ি ও আড়াই লাখ টাকার জমি রয়েছে নিজের নামে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ৪৬ লাখ টাকার জমি ও দালান এবং নির্ভরশীলদের নামে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের জমি রয়েছে।