কোণঠাসা এমপি বাতেন দুর্গ ফেরত চায় বিএনপি

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

কোণঠাসা এমপি বাতেন দুর্গ ফেরত চায় বিএনপি

রামকৃষ্ণ সাহা রামা, নাগরপুর ১:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

print
কোণঠাসা এমপি বাতেন দুর্গ ফেরত চায় বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশের মতো টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে ময়দানে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনটি  বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে মাঠ দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ।

তবে বর্তমান এমপি খন্দকার আবদুল বাতেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করেননি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে চাকরি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এমপি আবদুল বাতেন। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাতে চান দলটির নতুন প্রর্থীরা। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এ কোন্দলকে পুঁজি করে হারানো দুর্গে ফিরতে চায় বিএনপি।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ ও ২০১৪ সাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এ আসন থেকে জয়ী হতে পারেনি। এর বাইরে বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার ও একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য হন আবদুল বাতেন। সমালোচনা থাকলেও আবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটুও এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকদের নিয়ে মা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমার লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করা। আর এ জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটকেন্দ্র সুরক্ষা কমিটি গঠন করেছি। তাদের নেতৃত্বেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা মার্কার বিজয় রচিত হবে। নাগরপুর-দেলদুয়ারের দুর্দিনে আমি দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি।
অন্যদিকে, এ আসন থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনিও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। প্রতিনিয়ত করছেন সভা-সমাবেশ। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইনসাফ আলী ওসমানীও মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জনগণের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা- সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম এ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সভা-সমাবেশ করছেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ-সভাপতি কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার সারা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু আমাদের সংসদ সদস্য সে উন্নয়নের মহাসড়কে নাগরপুর-দেলদুয়ারকে সংযুক্ত করতে পারেননি। তাই আগামী নির্বাচনে আমরা এমন একজন প্রার্থী চাই যিনি নাগরপুর-দেলদুয়ারকে মডেল হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরবেন।’
অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপির রয়েছে বিশাল ভোটব্যাংক। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী এ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল আওয়াল লাভলু, কেন্দ্রীয় জাসাসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম স্বপন, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ খান এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন খান এ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।