শীত ইবাদতের বসন্তকাল

ঢাকা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

শীত ইবাদতের বসন্তকাল

খোলা কাগজ ডেস্ক
🕐 ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০২১

শীত ইবাদতের বসন্তকাল

মুমিন তার ইবাদত বন্দেগিতে শীতকালকে অত্যন্ত পছন্দ করে, যার ফলে সে রাত জেগে দীর্ঘ সময় আল্লাহর স্মরণে রত থাকে।

তাই তো মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল’ (মুসনাদ আহমাদ)। অপর এক বর্ণনায় মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে’ (শুয়াবুল ঈমান লিল বায়হাকি)।

আসলে মুমিন সব সময়ই এটা পছন্দ করে, কীভাবে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করব, তাই সে চায় কোনো ধরনের সুযোগই যেন হাতছাড়া না হয়। নামাজ যেহেতু মুমিনের মেরাজ, তাই নামাজের মাধ্যমেই একজন মুমিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করে।

আমরা যদি একটু ভেবে দেখি, তাহলে দেখতে পাই নামাজ এমন একটি ইবাদত যেখানে আল্লাহপাকের প্রশংসা করা হয়, তার পবিত্রতা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়, নিজের পাপ ও দুর্বলতা স্বীকার করে আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি আশিস কামনাও করা হয়। তাই বলা যায় পুরো নামাজই হচ্ছে দোয়া। যেখানে সবকিছুকে একত্রিত করেছে নামাজ, তাহলে কেন এ থেকে আমরা লাভবান হব না।

নামাজ কায়েমের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে আল্লাহপাক নির্দেশ দিয়েছেন আর বর্তমান আমরা যে মৌসুম অতিবাহিত করছি- এখন সবচেয়ে উত্তম সময় সুন্দরভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে তার ইবাদত করার।

রাত যেহেতু বড় তাই শেষ রাতে উঠে সহজেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা যায় আর এ রীতিকে যদি সারা জীবনের স্থায়ী রীতিতে পরিণত করে নিতে পারি তাহলেই হব ধন্য।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করেন এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন।

অতঃপর তিনি (তার স্ত্রী) তাহাজ্জুদ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেন’ (আবু দাউদ ও নাসাঈ)।

মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিনটি আমল পাপ মোচন করে, প্রথমত সংকটকালীন দান, দ্বিতীয়ত গ্রীষ্মের রোজা ও শীতের অজু’ (আদ দোয়া লিত তাবরানি)। মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের জানাব না, কিসে তোমাদের পাপ মোচন করবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে?

সাহাবায়ে কিরাম বললেন, অবশ্যই! হে আল্লাহর রাসূল (সা.)। তিনি বললেন, শীতের কষ্ট সত্ত্বেও ঠিকভাবে অজু করা’ (মুসলিম)। তাই আসুন, এ শীতকালে অধিক ইবাদত করে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করি।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

 
Electronic Paper