সালাতুল আওয়াবিনের ফজিলত (পর্ব-২)

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৩ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সালাতুল আওয়াবিনের ফজিলত (পর্ব-২)

মো. নাজমুচ্ছাকিব
🕐 ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

সালাতুল আওয়াবিনের ফজিলত (পর্ব-২)

কেউ আওয়াবিন পড়তে চায় তাহলে তাকে ছয় রাকাতই পড়তে হবে। অন্যথায় পড়বে না। এমন ধারণা অবশ্যই পরিহারযোগ্য। এখানে বরং বাদ মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নতের পর দুই রাকাত, চার রাকাত, ছয় রাকাত। যত রাকাত ইচ্ছা কেউ পড়তে পারে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো রাকাত সংখ্যা নেই যার খেলাফ করাটা গুনাহ বা মাকরূহ! এক হাদিসে তো এসেছে, একদিন রাসূলুল্লাহ [সা.] মাগরিবের পর থেকে ইশা পর্যন্ত নামাজ পড়েছেন। [সূত্র : সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস : ১১৯৪।]

দেখন, চাশতকে আওয়াবিনের নামাজ বললেই কি এ কথা জরুরি যে, মাগরিবের পরের নফল নামাজও আওয়াবিনের নামাজ হবে না? বা সেটাকে আওয়াবিনের নামাজ বলা ঠিক হবে না? এটা তো ফজর মাগরিবের মতো ওয়াক্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো নাম নয় যে, এক নাম দুই নামাজের জন্য হতে পারবে না। ‘সালাতুল আওয়াবিন’ অর্থ কী? এর অর্থ হলো, ‘আওয়াব’ বা যারা খুব বেশি আল্লাহমুখী হয় তাদের নামাজ এবং বাস্তবতা হলো, ভালো সনদের একটি মুরসাল-মারফূ হাদিসে এবং একাধিক ‘আছারে’ মাগরিবের পরের নফল নামাজকে আওয়াবিনের নামাজ বলা হয়েছে। তাছাড়া অনেক সাহাবি-তাবেয়ি থেকে সহিহ সনদে মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময় নফল পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত।

এ বিষয়ে দেখা যেতে পরে মুহাম্মাদ ইবনে নসর আল মারওয়াযী রাহ. কৃত ‘কিয়ামুল লাইল’। ইমাম ইবনুল মুবারক রাহ. কৃত ‘কিতাবুয যুহদ ওয়ার রাকাইক’ এবং মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও মাআরিফুস সুনান। এখন যদিও ‘মাগরিবের পরের ছয় রাকাত নামাজ বারো বছরের ইবাদত বরাবর, বিষয়ক হাদিসটি যয়ীফ বা মুনকার হয়ে থাকে [অথচ ইমাম ইবনে খুযাইমা রাহ. তার ‘কিতাবে রেওয়ায়েতটি এনেছেন। সহিহ ইবনে খুযাইমা (১১৯৫)] তাতেই কি একথা বলা যাবে যে, আওয়াবীন নামাজের কোনো ভিত্তি নেই? এজন্যই যে ব্যক্তি অসম্পূর্ণ তাহকীকের ভিত্তিতে বা তাহকীকের গলদ ব্যবহারের মাধ্যমে আকাবির মাশায়েখের বরকতপূর্ণ আমল থেকে সরে গিয়ে ওই সময়ের নফল থেকে নিজে বঞ্চিত হয় বা অন্যকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে তার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ভুল পদক্ষেপ যা থেকে ফিরে আসা অত্যন্ত জরুরি। দেখুন, যদি আওয়াবিনের নামাজ বিষয়ে কোন হাদিস আছার নাও থাকতো তবুও তো ওই সময়ে নফল নামাজ পড়া মুবাহ এবং সওয়াবের কাজ দুরস্ত আছে। কেননা মাকরূহ ওয়াক্ত ছাড়া বাকি যে কোনো সময় যে কেউ একাকী নফল নামাজ পড়তে পারে। হ্যাঁ, নির্দিষ্ট বা বিশেষ নফল বলতে হলে সে জন্য ভিন্ন দলিলের প্রয়োজন হবে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর আওয়াবিনের জন্য সে রকম দলিল আছে।

প্রসঙ্গত, এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়া জরুরি। তা হলো, কারো কারো ধারণা, আওয়াবিনের নামাজ নির্দিষ্টভাবে ছয় রাকাত। অতএব যদি কেউ আওয়াবিন পড়তে চায় তাহলে তাকে ছয় রাকাতই পড়তে হবে। অন্যথায় পড়বে না। এমন ধারণা অবশ্যই পরিহারযোগ্য। এখানে বরং বাদ মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নতের পর দুই রাকাত, চার রাকাত, ছয় রাকাত।

যত রাকাত ইচ্ছা কেউ পড়তে পারে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো রাকাত সংখ্যা নেই যার খেলাফ করাটা গুনাহ বা মাকরূহ! এক হাদিসে তো এসেছে, একদিন রাসুলুল্লাহ [সা.] মাগরিবের পর থেকে ইশা পর্যন্ত নামাজ পড়েছেন। [সূত্র : সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১১৯৪।]

তবে এ কথা স্বীকৃত যে, নফল নামাজ সর্বাবস্থায়ই নফল। শরিয়ত যাকে মানুষের এখতিয়ারাধীন করেছে। সেজন্য তাতে বাধ্যবাধকতা চলে না। তবে, যদি কোনো শায়খ, মুসলিহ মুরব্বি বা মুরব্বি উস্তাজ অথবা মুরব্বি অভিভাবক তাঁর অধীনস্তদের কোনো নফলে অভ্যস্ত করে তোলার জন্য কখনো কোনো কড়াকড়ি বা বাধ্যবাধকতা করেন তাহলে সেটা ইনতিযামী মাসআলা। তার হুকুম ভিন্ন। সে ইখতিয়ার তাঁর অধীনস্থদের প্রতি তাঁর রয়েছ। যা হোক, মাগরিবের নামাজের পর আওয়াবীন পড়বো। তা সালাফে সালেহীন তথা পূর্ববর্তী সাদিক্বীনরা পড়তেন।

আমরা জেনেছি, সালাতুল আওয়াবীন সম্পর্কে দুই রেওয়ায়েত আছে অর্থাৎ ছয় রাকাত ও বিশ রাকাত। আর বিশ রাকাতের রেওয়ায়েতের সনদে দুর্বলতা তুলনামূলক কম আছে, সে কারণে ছয় রাকাতের সনদ একটু অধিক দুর্বল হলেও একাধিক দুর্বল সনদের অস্তিত্ব উভয় সনদকে শক্তিশালী করেছে। তাছাড়া মাগরিব ও এশার মাঝে নফল নামাজ একাধিক সহিহ আছার দ্বারা প্রমাণিত। আর একটি হাসান পর্যায়ের হাদিসে এই নামাজকে সালাতুল আওয়াবীন বলা হয়েছে। কাজেই সাদিক্বীনদের আমলের পরম্পরায় এ নামাজ পড়ায় কোনো অসুবিধা থাকে না।

জামে তিরমীজিতে রেওয়ায়েত হয়েছে সালাতুল আওয়াবীনের ছয় রাকাত নামাজের বিনিময়ে আল্লাহ বার বছর নফল ইবাদত করার সাওয়াব দান করবেন। উপরের আলোচনা থেকে আমরা আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে আমল করার তাওফিক দিন। আমিন!

মো. নাজমুচ্ছাকিব, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

 
Electronic Paper