শোকর ও সবরের ফজিলত কী?

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

শোকর ও সবরের ফজিলত কী?

খোলা কাগজ ডেস্ক ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০২১

print
শোকর ও সবরের ফজিলত কী?

আল্লাহবিশ্বাসী প্রতিটি ইমানদার ব্যক্তিই মনে করে, ভালো-মন্দ আনন্দ-বেদনা, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা সবকিছুর তিনিই মালিক। তার ইচ্ছাতেই হতদরিদ্র ব্যক্তি কখনো সুরম্য অট্টালিকার মালিক হয়ে যায়, আর কাঁড়ি কাঁড়ি সম্পদের মালিকও সবকিছু হারিয়ে পথে নেমে আসে। মুমিনমাত্রই এ বিশ্বাস দৃঢ়তা ও আস্থার সঙ্গে হৃদয়ে লালন করে। এ বিশ্বাসে ভর করেই বিপদাক্রান্ত মুমিন ‘আল্লাহর ইচ্ছা’ বলে সান্ত¡না পায়। আবার কোনো নিয়ামত পেলে এ বিশ্বাসেই সে উচ্চারণ করে- শোকর আলহামদুলিল্লাহ কিংবা এসবই আল্লাহর দান।

হজরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহতায়ালা বলেছিলেন, তোমার পরবর্তীতে আমি এক উম্মত পাঠাব, কাক্সিক্ষত কোনো বিষয় যদি তাদের হাসিল হয় তাহলে তারা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং শুকরিয়া আদায় করবে, আর যদি অনাকাক্সিক্ষত কোনো কিছু তাদের পেয়ে বসে তাহলে তারা সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করবে (মুসনাদে আহমাদ-২৭৫৪৫)।

উম্মতে মুহাম্মদির এ চরিত্র এভাবেই আল্লাহতায়ালা প্রকাশ করেছেন হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে। আরেক হাদিসে বিষয়টি আরও পরিষ্কার প্রতিভাত হয়েছে। হজরত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিনের বিষয়াদি কত আশ্চর্যের! তার সবকিছুই কল্যাণকর। আর এটা তো কেবল মুমিনের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সচ্ছলতায় সে শুকরিয়া আদায় করে, তখন তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে তাহলে সে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম-২৯৯৯)।

কৃতজ্ঞতা আদায় যে কেবলই এক কাক্সিক্ষত বিষয় এমন নয়, বরং এর ব্যতিক্রমে কৃতঘ্ন হলেও পবিত্র কোরআনে উচ্চারিত হয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি। ইরশাদ হচ্ছে- তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় করো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তাহলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন (সূরা ইব্রাহিম-৭)।

আমরা যেন হই সুদিনে কৃতজ্ঞ ও দুর্দিনে ধৈর্যশীল বান্দা, আল্লাহ তৌফিক দান করুন।