শীত ইবাদতের বসন্তকাল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

শীত ইবাদতের বসন্তকাল

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

print
শীত ইবাদতের বসন্তকাল

ভোরে শিরশিরে বাতাসে দেহ-মন শিউরে উঠছে। খুব সকালে মৃদু কুয়াশার চাদরে ঢাকা সারা দেশ। সোনালি রোদে ঘাসের ডগায় শিশিরের ঝিকিমিকি। এই তো শীত, মুমিনের বসন্তকাল।

শীত অধিকাংশ মানুষেরই প্রিয় ঋতু। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাছে এ মৌসুম আরও প্রিয়। কেননা অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে এ মৌসুমে ইবাদত বেশি করা যায় এবং সহজভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল’ (মুসনাদে আহমাদ : ১১৬৫৬)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে’ (শুআবুল ঈমান লিল বায়হাকি : ৩৯৪০)।

হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘শীতকাল ইবাদতকারীদের জন্য চমৎকার মৌসুম’ (বিশুদ্ধ সনদে আবু নুআইম)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম। এ সময় (আল্লাহর পক্ষ থেকে) বরকত নাজিল হয়। রাত হয় লম্বা। তাই তাহাজ্জুদ পড়া সহজ। দিন হয় ছোট। তাই রোজা রাখা সহজ’ (লাতা-ইফুল মাআরিফ, আল্লামা ইবনে রজব)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) লোকদের বলতেন, ‘আমি কি তোমাদের শীতকালীন গনিমতের সন্ধান দেব না? তারা বল তো, অবশ্যই! অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন, শীতের মৌসুমে রোজা (সুনানে তিরমিজি, আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)।

তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘একজন মুমিনের জন্য শীতকাল ইবাদত করার চমৎকার মৌসুম। শীতকালে রাত লম্বা হয়। এতে সে (সহজেই) তাহাজ্জুদ পড়তে পারে। দিন ছোট হয়। ফলে (সহজেই) রোজা রাখতে পারে। এজন্যই (পূর্ববর্তীদের মধ্যে) যাঁরা ইবাদত-বন্দেগিতে কঠোর পরিশ্রম করতেন তাঁরা যদি (কোনো কারণে) এ সময়ের রাতগুলোতে তাহাজ্জুদ না পড়তে পারতেন এবং দিনের বেলা রোজা না রাখতে পারতেন তাহলে এর জন্য তাঁরা কাঁদতেন।’ রাব্বুল আলামিন এই ঋতুতে বেশি বেশি ইবাদত করে চিরস্থায়ী জীবনের জন্য সম্বল করে রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।