ঘুমের সহি পদ্ধতি কী?

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঘুমের সহি পদ্ধতি কী?

খোলা কাগজ ডেস্ক ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৯

print
ঘুমের সহি পদ্ধতি কী?

আকরাম হোসেন, ডিমলা, নীলফামারী
ঘুম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিশাল ইহসান। এর মাধ্যমে বান্দা আগের দিনের সমস্ত ক্লান্তি মুছে নতুন দিনের জন্য কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। আমাদের ঘুম হয়ে উঠবে ইবাদত, যদি তার আগে ও পরে থাকে কিছু নেক আমল। সাহাবি হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলতেন- আর আমি (রাতে) ঘুমাই এবং নামাজে দাঁড়াই, ঘুমকেও ইবাদত গণ্য করি, যেভাবে ইবাদত গণ্য করি জাগ্রত থেকে নামাজ আদায়কে। (বুখারী, হাদিস-৩৯৯৮)।

নিম্নে হাদিস থেকে সংগৃহীত ঘুমানোর আগে কিছু দোয়া পেশ করা হলো, যেগুলো পাঠে তা হবে আমাদের জন্য রাতের নিরাপত্তা এবং সেইসঙ্গে ঘুমের অন্যান্য আদব ও সুন্নতগুলো পালনে ঘুম হয়ে উঠবে ইবাদত।

এক. আয়াতুল কুরসি পড়া।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে রমজানের ফিতরা সংরক্ষণের দায়িত্ব দিলেন। কোনো এক আগন্তুক আমার কাছে এলো এবং অঞ্জলি ভরে খাবার (চুরি) সংগ্রহ করতে লাগল।... এরপর পূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে আছে- আগন্তুক তাকে বলল, তুমি যখন তোমার বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে, কেননা এর মাধ্যমে সর্বক্ষণ তোমার সঙ্গে আল্লাহতালার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকরী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমাকে সত্য বলেছে যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী। সে হচ্ছে শয়তান।’ (বুখারী, হাদিস-৩০৩৩)।

দুই. সুরা এখলাস, সুরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়া।
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন- ‘মহানবী (সা.) যখন প্রতি রাতে নিজ বিছানায় যেতেন দুই হাতের কবজি পর্যন্ত একত্রিত করতেন অতঃপর তাতে ফুঁ দিতেন এবং সুরা এখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়তেন। অতঃপর দুই হাত যথাসম্ভব সমস্ত শরীরে মলে দিতেন। মাথা, চেহারা এবং শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ পরপর তিনবার করতেন।’ (তিরমিজি, হাদিস-৩৩২৪)।

তিন. ঘুমের দোয়াটি পড়া- হে আল্লাহ আপনার নামে মৃত্যুবরণ করলাম এবং আপনার নামেই জীবিত হব।

চার. দোয়াটি পড়া- হে আল্লাহ! নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিয়েছি। আমার বিষয় আপনার কাছে সোপর্দ করেছি। আমার পিঠ আপনার সাহায্যে দিয়েছি আপনার প্রতি আশা এবং ভয় নিয়ে, আশ্রয় নেওয়ার ও আপনার শাস্তি থেকে বাঁচার মতো জায়গা আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি এবং আপনার প্রেরিত নবীর (সা.) প্রতি। (বুখারী, হাদিস-৫৮৩৬)।