অন্যকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাসের শাস্তি কী?

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অন্যকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাসের শাস্তি কী?

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

print
অন্যকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাসের শাস্তি কী?

প্রশ্নটি করেছেন আফরোজা খাতুন, লালপুর, নাটোর থেকে

বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষকে আবুল, মফিজ, রোহিঙ্গা ইত্যাদি বলে ঘরে-বাইরে, বাসা-বাড়িতে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, ব্যঙ্গ, অশ্লীল রঙ্গ-তামাশা করার শেষ যেন নেই। এক মুসলমান অপর মুসলমানকে নিয়ে উপহাস করছে। অথচ এ ধরনের উপহাস, ঠাট্টা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নাজায়েজ।

কোরআনে বলা হয়েছে- মুমিনগণ কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। কোনো নারী অপর নারীকে যেন উপহাস না করে। কেননা সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এরূপ কাজ হতে তওবা না করে তারাই জালেম। (সুরা হুজরাত-১১)।

নাম বিকৃত করে বলা, আকার-আকৃতি নিয়ে ব্যঙ্গ করা সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করে। অনেক সময় এসব নিয়ে বড় ধরনের বিবাদ হয়। খুনোখুনিও হয়।

আকার-আকৃতিতে মানুষের কোনো হাত নেই। আল্লাহপাক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। যাকে যে আকৃতিতে তিনি ভালো মনে করেছেন, সেভাবেই তাকে সৃষ্টি করেছেন। আকৃতি নিয়ে ব্যঙ্গ মানে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা। করপোরেট অফিসগুলোতে আধুনিকতা ও রসিকতার নামে অসভ্য কালচার গড়ে উঠেছে। কে কাকে কীভাবে হাসির পাত্র বানাবেন অহরহ সে চেষ্টাই চলে।

রসিকতা অবশ্যই ইসলাম সমর্থন করে। মহানবী (সা.) রসিকতা করেছেন। হাদিস শরিফে আছে, ‘রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে এক বৃদ্ধা এসে বললেন, আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে জান্নাত দান করেন। তখন রাসুল (সা.) রসিকতা করে বললেন, জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না। পরে বৃদ্ধাটি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যাচ্ছিল। তখন রাসুল (সা.) সাহাবাদের বললেন, তাকে গিয়ে বল, সে বৃদ্ধা হয়ে যাবে না; বরং তরুণী ও চিরকুমারী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (শামায়েলে তিরমিজি-২৪১)।